চুল ঘন করার উপায়: পাতলা চুল ঘন করার ১০টি কার্যকর পদ্ধতি

ঘন, সুন্দর ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল কে না পছন্দ করে? কিন্তু নানা কারণে অনেকের চুল পাতলা হয়ে যায়, চুল পড়ে এবং আগের মতো ঘন দেখায় না। অনেকে চুল ঘন করার জন্য বিভিন্ন তেল, শ্যাম্পু ও ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করেন। তবে সব পদ্ধতি সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে কাজ করে না। তাই চুলের সঠিক যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি চুল পাতলা হওয়ার কারণ জানা জরুরি।

আপনি যদি চুল ঘন করার উপায় জানতে চান, তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য। এখানে প্রাকৃতিকভাবে চুলের যত্ন নেওয়া, চুল ঘন দেখানোর কৌশল, চুলের জন্য উপকারী খাবার, তেলের ব্যবহার এবং চুল পড়া কমানোর কার্যকর অভ্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

চুল পাতলা হওয়ার কারণ কী?

চুল ঘন করার উপায় জানার আগে চুল পাতলা হওয়ার কারণ বোঝা প্রয়োজন। কারণ অনুযায়ী যত্ন নিলে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। চুল পাতলা হওয়ার কয়েকটি সাধারণ কারণ নিচে দেওয়া হলো।

১. পুষ্টির অভাব

শরীরে পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি হলে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার সঙ্গে চুল পড়ার সম্পর্ক রয়েছে। তাই প্রতিদিনের খাবারে পুষ্টিকর উপাদান রাখা জরুরি।

২. বংশগত কারণ

পরিবারের অন্য সদস্যদের চুল পাতলা হওয়ার ইতিহাস থাকলে বংশগত কারণে চুলের ঘনত্ব কমতে পারে। এ ধরনের চুল পড়া নারী ও পুরুষ উভয়েরই হতে পারে। সাধারণত এটি ধীরে ধীরে বাড়ে এবং নির্দিষ্ট অংশের চুল পাতলা হয়ে যায়।

৩. মানসিক চাপ ও ঘুমের অনিয়ম

দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ বা কোনো বড় শারীরিক ধকলের পর সাময়িকভাবে বেশি চুল পড়তে পারে। অসুস্থতা, অস্ত্রোপচার বা দ্রুত ওজন কমানোর পরও এমন হতে পারে। তবে চুল পড়ার সব সমস্যার কারণ মানসিক চাপ নয়।

৪. হরমোনের পরিবর্তন

গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মদানের পর হরমোনের পরিবর্তনের কারণে চুল পড়তে পারে। এ ছাড়া থাইরয়েডের সমস্যা এবং কিছু হরমোনজনিত অবস্থার কারণেও চুল পাতলা হতে পারে।

৫. চুলের সঠিক যত্ন না নেওয়া

চুলে অতিরিক্ত তাপ প্রয়োগ, বারবার রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট, শক্ত করে চুল বাঁধা এবং ভেজা চুলে জোরে আঁচড়ানোর কারণে চুল ভেঙে যেতে পারে। দীর্ঘদিন চুলের গোড়ায় টান পড়লে কিছু ক্ষেত্রে স্থায়ী চুল পড়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

চুল ঘন করার উপায়: কার্যকর ১০টি পদ্ধতি

চুলের ঘনত্ব বাড়াতে শুধু তেল বা শ্যাম্পুর ওপর নির্ভর করলে চলবে না। চুলের গোড়া সুস্থ রাখা, পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা এবং চুলের ক্ষতি কমানো গুরুত্বপূর্ণ।

১. প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খান

চুলের প্রধান গঠনগত উপাদান হলো কেরাটিন, যা এক ধরনের প্রোটিন। তাই শরীরে পর্যাপ্ত প্রোটিনের সরবরাহ চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও গঠন বজায় রাখতে সাহায্য করে।

প্রতিদিনের খাবারে রাখতে পারেন:

  • ডিম
  • মাছ
  • মুরগির মাংস
  • দুধ ও দই
  • ডাল ও ছোলা
  • বাদাম ও বীজ

শরীরের চাহিদা অনুযায়ী সুষম খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। শুধু বেশি প্রোটিন খেলেই চুল দ্রুত ঘন হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে প্রোটিনের ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

২. আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খান

আয়রনের ঘাটতি চুল পড়ার একটি সম্ভাব্য কারণ। বিশেষ করে যাঁদের রক্তস্বল্পতা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ঘাটতি নির্ণয় করে চিকিৎসা নেওয়া উপকারী হতে পারে।

আয়রনের ভালো উৎসের মধ্যে রয়েছে মাংস, মাছ, ডাল, ছোলা এবং গাঢ় সবুজ শাকসবজি। উদ্ভিজ্জ উৎসের আয়রন শোষণে সহায়তার জন্য খাবারের সঙ্গে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল, যেমন পেয়ারা, কমলা বা লেবু খেতে পারেন।

নিজের সিদ্ধান্তে আয়রন ট্যাবলেট খাবেন না। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করিয়ে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করুন।

৩. চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু ব্যবহার করুন

চুল পরিষ্কার রাখলে মাথার ত্বকে জমে থাকা তেল, ঘাম ও ময়লা দূর হয়। আপনার মাথার ত্বক তৈলাক্ত হলে তুলনামূলক ঘন ঘন এবং শুষ্ক হলে প্রয়োজন অনুযায়ী শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন।

শ্যাম্পু করার সময় মাথার ত্বকে আলতোভাবে পরিষ্কার করুন। চুলের দৈর্ঘ্যে অতিরিক্ত ঘষাঘষি না করাই ভালো। চুল শুষ্ক বা জটপ্রবণ হলে কন্ডিশনার ব্যবহার করতে পারেন।

মনে রাখবেন, কোনো সাধারণ শ্যাম্পু একাই বংশগত কারণে কমে যাওয়া চুলের ঘনত্ব ফিরিয়ে দিতে পারে না।

৪. চুলে নারকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন

নারকেল তেল চুলের গঠন রক্ষা করতে এবং চুলের প্রোটিন ক্ষয় কমাতে সহায়তা করতে পারে। এতে চুল ভেঙে যাওয়া কমতে পারে, ফলে চুল তুলনামূলক ঘন দেখাতে পারে।

ব্যবহারের নিয়ম:

১. অল্প পরিমাণ নারকেল তেল হাতে নিন।

২. চুলের দৈর্ঘ্য ও আগায় আলতোভাবে লাগান।

৩. প্রয়োজন অনুযায়ী কিছুক্ষণ রেখে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

আরও পড়ুন  ছেলেদের সেরা বডি স্প্রে এর তালিকা দেখুন! 2026

৪. মাথার ত্বকে তেল দিলে চুলকানি, খুশকি বা ব্রণ বাড়ছে কি না খেয়াল করুন।

নারকেল তেল চুলের যত্নে সহায়ক হলেও এটি নতুন চুল গজানোর বা বংশগত চুল পড়া বন্ধ করার নিশ্চিত চিকিৎসা নয়।

৫. চুলে অতিরিক্ত তাপ প্রয়োগ কমান

হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেইটনার ও কার্লার অতিরিক্ত ব্যবহার করলে চুলের বাইরের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে চুল দুর্বল হয়ে ভেঙে যায় এবং চুলের ঘনত্ব কম মনে হয়।

চুল ভালো রাখতে:

  • হেয়ার স্ট্রেইটনার ও কার্লার কম ব্যবহার করুন।
  • প্রয়োজনে কম তাপমাত্রা ব্যবহার করুন।
  • ভেজা চুলে জোরে আঁচড়াবেন না।
  • চুল তোয়ালে দিয়ে ঘষে না মুছে আলতোভাবে পানি শুষে নিন।
  • বারবার ব্লিচিং বা রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট এড়িয়ে চলুন।

এসব অভ্যাস চুলের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে।

৬. নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুমান

ঘুম শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের ঘাটতি সরাসরি সবার চুল পাতলা করে, এমন প্রমাণ নেই। তবে দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের সমস্যা ও মানসিক চাপ সামগ্রিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করা উচিত। পাশাপাশি প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ওঠার অভ্যাস করুন।

৭. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন

তীব্র মানসিক চাপ, অসুস্থতা বা বড় শারীরিক পরিবর্তনের কয়েক মাস পর সাময়িকভাবে চুল বেশি পড়তে পারে। একে টেলোজেন এফ্লুভিয়াম (Telogen Effluvium) বলা হয়।

মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং পছন্দের কাজে সময় দিতে পারেন। তবে চুল পড়া দীর্ঘদিন চলতে থাকলে শুধু মানসিক চাপকে কারণ ধরে না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৮. চুল খুব শক্ত করে বাঁধবেন না

টাইট পনিটেল, শক্ত বেণি বা দীর্ঘ সময় চুলে টান পড়ে এমন স্টাইল ব্যবহার করলে চুলের গোড়ায় চাপ তৈরি হয়। এর ফলে ট্র্যাকশন অ্যালোপেশিয়া (Traction Alopecia) হতে পারে।

চুল আলতোভাবে বাঁধুন এবং প্রতিদিন একই জায়গায় শক্ত করে চুল বাঁধা এড়িয়ে চলুন। কপালের পাশ বা চুলের সামনের অংশ পাতলা হতে থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন।

৯. চুলের আগা নিয়মিত ছাঁটুন

চুলের আগা ফেটে গেলে চুল ভেঙে যেতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী আগা ছাঁটলে চুল দেখতে পরিপাটি হয় এবং ফাটা আগার সমস্যা কমানো যায়।

তবে চুল কাটলে চুলের গোড়া থেকে বৃদ্ধির গতি বেড়ে যায় না কিংবা চুলের প্রকৃত ঘনত্ব বাড়ে না। চুল ছাঁটার মূল উপকার হলো ক্ষতিগ্রস্ত আগা সরিয়ে চুলের চেহারা ভালো রাখা।

১০. চুল পড়ার কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা নিন

চুল পড়ার কারণ বংশগত, হরমোনজনিত, পুষ্টির ঘাটতি বা মাথার ত্বকের কোনো রোগ হতে পারে। তাই চুল পাতলা হতে থাকলে কারণ নির্ণয় করা গুরুত্বপূর্ণ।

কিছু ক্ষেত্রে মিনোক্সিডিল (Minoxidil) ব্যবহার উপকারী হতে পারে। তবে এটি সবার জন্য উপযুক্ত নয় এবং ফল পেতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের সঙ্গে কথা বলুন।

গর্ভাবস্থা, সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা বা স্তন্যদানকালে চুল পড়ার ওষুধ ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

চুল ঘন করার প্রাকৃতিক উপায়

অনেকে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে চুল ঘন করতে চান। কিছু উপাদান চুলের আর্দ্রতা বজায় রাখতে ও ভেঙে যাওয়া কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করলেই নতুন চুল গজাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

অ্যালোভেরা ব্যবহার

অ্যালোভেরা কিছু মানুষের মাথার ত্বকে শীতল অনুভূতি দিতে পারে। তবে চুল ঘন করার ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতার নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত।

ব্যবহার করতে চাইলে প্রথমে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করুন। চুলকানি, লালচে ভাব বা জ্বালাপোড়া হলে ব্যবহার বন্ধ করুন।

নারকেল তেল ব্যবহার

নারকেল তেল চুলের দৈর্ঘ্যে ব্যবহার করলে চুলের প্রোটিন ক্ষয় কমাতে সহায়তা করতে পারে। শুষ্ক ও ভঙ্গুর চুলের যত্নে এটি উপকারী হতে পারে।

পেঁয়াজের রস ব্যবহার করা কি ভালো?

পেঁয়াজের রস চুল গজানোর ঘরোয়া উপায় হিসেবে প্রচলিত। তবে চুল ঘন করার ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে প্রমাণ সীমিত এবং ছোট কিছু গবেষণার ফল সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এটি মাথার ত্বকে জ্বালাপোড়া বা অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে। তাই একে নিশ্চিত চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

রোজমেরি অয়েল ব্যবহার

রোজমেরি অয়েল চুলের বৃদ্ধির জন্য আলোচিত একটি উপাদান। কিন্তু এর কার্যকারিতা নিয়ে উচ্চমানের গবেষণা এখনও সীমিত। সরাসরি ঘন এসেনশিয়াল অয়েল মাথার ত্বকে লাগালে জ্বালাপোড়া হতে পারে। ব্যবহার করতে চাইলে উপযুক্তভাবে মিশিয়ে ব্যবহার এবং আগে ত্বকে পরীক্ষা করা জরুরি।

প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের পরও চুল পড়া বাড়লে ব্যবহার বন্ধ করুন। মাথার ত্বকে ক্ষত বা প্রদাহ থাকলে নিজে থেকে বিভিন্ন উপাদান লাগাবেন না।

আরও পড়ুন  মেয়েদের চোখের নিচে কালো দাগ দূর করার উপায় 2026

চুল ঘন করার জন্য কোন খাবার খাবেন?

চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখতে সুষম খাবার গুরুত্বপূর্ণ। কোনো একটি খাবার খেলেই চুল ঘন হয়ে যায় না। তবে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি পূরণে নিচের খাবারগুলো সহায়ক হতে পারে।

খাবার উপকারিতা
ডিম প্রোটিন ও ভিটামিন বি১২ সরবরাহ করে
মাছ প্রোটিন এবং কিছু মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে
ডাল ও ছোলা উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ও আয়রনের উৎস
শাকসবজি বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহ করে
পেয়ারা ও কমলা ভিটামিন সি সরবরাহ করে
বাদাম ও বীজ স্বাস্থ্যকর চর্বি ও বিভিন্ন খনিজ সরবরাহ করে
দুধ ও দই প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের উৎস
মাংস প্রোটিন, আয়রন ও ভিটামিন বি১২ সরবরাহ করতে পারে

খাবারে বৈচিত্র্য রাখুন এবং অতিরিক্ত কঠোর ডায়েট এড়িয়ে চলুন। চুল পড়ার সঙ্গে পুষ্টির ঘাটতির সম্পর্ক সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো যেতে পারে।

পাতলা চুল ঘন দেখানোর উপায়

চুলের প্রকৃত ঘনত্ব বাড়তে সময় লাগতে পারে। তবে কিছু অভ্যাসের মাধ্যমে পাতলা চুলকে তুলনামূলক ঘন ও পরিপাটি দেখানো সম্ভব।

১. চুলের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত হেয়ারকাট বেছে নিন।

২. অতিরিক্ত তেল বা ভারী স্টাইলিং পণ্য ব্যবহার এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো চুলকে চ্যাপ্টা দেখাতে পারে।

৩. চুলের গোড়ায় অতিরিক্ত টান পড়ে এমন স্টাইল এড়িয়ে চলুন।

৪. প্রয়োজনে হালকা ভলিউমাইজিং হেয়ার পণ্য ব্যবহার করতে পারেন।

৫. চুলের সিঁথি একই জায়গায় দীর্ঘদিন না রেখে মাঝে মাঝে পরিবর্তন করুন।

৬. চুল হঠাৎ পাতলা হয়ে গেলে শুধু সাজসজ্জার ওপর নির্ভর না করে কারণ নির্ণয় করুন।

এই কৌশলগুলো চুলকে ঘন দেখাতে পারে, কিন্তু চুলের ফলিকলের সংখ্যা বাড়ায় না।

চুল ঘন করার জন্য কোন ভিটামিন প্রয়োজন?

চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য বজায় রাখতে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন। এর মধ্যে প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক এবং কিছু ভিটামিন গুরুত্বপূর্ণ।

তবে শরীরে ঘাটতি না থাকলে অতিরিক্ত ভিটামিন গ্রহণ চুল ঘন করার কার্যকর উপায় নয়। কিছু সাপ্লিমেন্টের অতিরিক্ত মাত্রা, বিশেষ করে ভিটামিন এ ও সেলেনিয়াম, উল্টো চুল পড়ার কারণ হতে পারে।

তাই চুল পড়া কমানোর জন্য নিজে থেকে বায়োটিন, আয়রন বা অন্যান্য সাপ্লিমেন্ট শুরু না করে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

চুল ঘন করার উপায় নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

১. দ্রুত চুল ঘন করার উপায় কী?

দ্রুত চুল ঘন করার কোনো নিশ্চিত ঘরোয়া পদ্ধতি নেই। সুষম খাবার, চুলের সঠিক যত্ন এবং চুল পড়ার কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পাতলা চুলকে সাময়িকভাবে ঘন দেখানোর জন্য উপযুক্ত হেয়ারকাট ও ভলিউমাইজিং পণ্য ব্যবহার করা যায়।

২. নারকেল তেল দিলে কি চুল ঘন হয়?

নারকেল তেল চুলের প্রোটিন ক্ষয় কমাতে এবং ভেঙে যাওয়া কমাতে সাহায্য করতে পারে। এতে চুল তুলনামূলক ঘন দেখাতে পারে। তবে নারকেল তেল একা নতুন চুল গজানোর বা বংশগত চুল পড়া বন্ধ করার প্রমাণিত চিকিৎসা নয়।

৩. কোন শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুল ঘন হয়?

সাধারণ শ্যাম্পু মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। কিছু ভলিউমাইজিং শ্যাম্পু চুলকে সাময়িকভাবে ঘন দেখাতে পারে। তবে কোনো শ্যাম্পু সবার ক্ষেত্রে চুলের প্রকৃত ঘনত্ব বাড়ায় না। চুল পড়ার কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।

৪. প্রতিদিন চুলে তেল দেওয়া কি ভালো?

প্রতিদিন তেল দেওয়া সবার জন্য প্রয়োজনীয় নয়। চুলের ধরন অনুযায়ী তেল ব্যবহার করুন। মাথার ত্বকে তেল দিলে যদি চুলকানি, খুশকি বা ব্রণ বেড়ে যায়, তাহলে ব্যবহার কমান বা বন্ধ করুন।

৫. চুল ছোট করে কাটলে কি ঘন হয়?

না। চুল ছোট করে কাটলে চুলের গোড়ার সংখ্যা বা বৃদ্ধির গতি বাড়ে না। তবে উপযুক্তভাবে চুল কাটলে পাতলা চুলকে তুলনামূলক ঘন দেখাতে পারে এবং ফাটা আগা দূর করা যায়।

৬. চুল ঘন করার জন্য কি বায়োটিন খাওয়া উচিত?

বায়োটিনের ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ঘাটতি না থাকলে অতিরিক্ত বায়োটিন খেলে চুল ঘন হবে, এমন শক্ত প্রমাণ নেই। বায়োটিন কিছু রক্ত পরীক্ষার ফলেও হস্তক্ষেপ করতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চমাত্রার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করবেন না।

৭. চুল পড়া বন্ধ হলে কি আবার ঘন হবে?

চুল পড়ার কারণের ওপর এটি নির্ভর করে। সাময়িক চুল পড়ার ক্ষেত্রে কারণ দূর হলে চুল আবার বাড়তে পারে। তবে বংশগত চুল পড়া বা চুলের ফলিকল স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুনরায় চুল গজানো কঠিন হতে পারে। তাই দ্রুত কারণ নির্ণয় করা গুরুত্বপূর্ণ।

3 Comments
  1. Reply
    সহজে চুল পড়া বন্ধ করার উপায়  October 3, 2024 at 1:51 PM

    […] আপনি চাইলে আমাদের ওয়েবসাইট থেকে ্পাতলা চুল ঘন করার উপায় জানতে […]

  2. Reply
    চুল পড়া বন্ধ করার উপায় ও ঔষধ - Amar Sikkha October 3, 2024 at 1:52 PM

    […] […]

  3. Reply
    কুমড়া বীজের উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ 2026 July 21, 2026 at 12:26 AM

    […] সালফার, জিংক, ভিটামিন এ, বি আর কে, যা চুল উজ্জ্বল ও ঘন করে তুলতে সহায়তা করে। এ ছাড়া কুমড়ার […]

Leave a reply

Amar Sikkha
Logo