
আমরা কখনো না কখোন ইসবগুলের ভুসি নাম শুনেছি এবং খেয়েছি কিন্তু ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার নিয়ম বা এর উপকারিতা সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। রমজান মাসে বা বিভিন্ন সময়ে ফুটপাতগুলোতে বেশিরভাগ সময় ইসবগুলের ভুসি দিয়ে বানানো সরবততো আমরা খেয়েই থাকি। আপনি এর উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম জানলে আরও ভালো হবে। চলুন তাহলে জেনে নেই।
ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার নিয়ম
ইসবগুলের ভুসি একটি প্রাকৃতিক ওষুধি উপাদান, যা বহু বছর ধরেই ঘরোয়া চিকিৎসায় ব্যবহার হয়ে আসছে। মূলত হজমের সমস্যা, বিশেষ করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এটি বহুল ব্যবহৃত।
অনেকে মনে করেন, ইসবগুল খাওয়ার জন্য আগে থেকে পানি বা দইয়ে ভিজিয়ে রাখতে হয়। কিন্তু প্রকৃত নিয়ম হলো পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেয়ে ফেলা। কারণ শরীরের ভেতরে গিয়ে এটি ফুলে ওঠে এবং তার কার্যকারিতা শুরু করে। ১ থেকে ২ চা চামচ ইসবগুল ১ গ্লাস পানি বা কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। সাধারণত এতে চিনি মেশানো জরুরি নয়।
ইসবগুলের সবচেয়ে প্রচলিত ব্যবহার হলো কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা। এটি মলের মধ্যে পানি ধরে রাখে এবং মলকে নরম করে, ফলে মলত্যাগ সহজ হয়। তবে হালকা ধরনের কোষ্ঠকাঠিন্যে প্রথমেই পানি, ফল ও সবজি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ইসবগুল সেই ক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে কাজ করে।
ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার উপকারিতা
কোষ্ঠকাঠিন্য নয়, এটি ডায়রিয়া হলেও উপকারী হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি প্রোবায়োটিক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ২ চা চামচ ইসবগুল ১৫ মিলি টক দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেয়ে, পরে ১ গ্লাস পানি খেলে অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় হয় এবং হজমে সাহায্য করে।
রিফ্লাক্স, বুক জ্বালাপোড়া বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাতেও ইসবগুল ভালো কাজ করে। খাবারের পরে এটি পাকস্থলীর গায়ে একটি আবরণ তৈরি করে, যা এসিডের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে। ফলে বুক-পেট জ্বালাপোড়া, গ্যাস ইত্যাদির উপশম ঘটে।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও এটি উপকারী হতে পারে। কারণ এটি খাদ্য থেকে শর্করা শোষণের হার কিছুটা কমিয়ে দেয়। আবার ওজন নিয়ন্ত্রণেও ইসবগুল সহায়ক হতে পারে। সকালে নাস্তার পরে ২ চা চামচ ইসবগুল কুসুম গরম পানি ও লেবুর রসের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে তা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, ফলে খাওয়ার পরিমাণ কমে যায়।
তবে সব ভালো জিনিসের মতো, ইসবগুলও নিয়ম মেনে ও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া জরুরি। একটানা বেশি দিন খেলে পেট গড়গড় করা, ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এটি কিছু ওষুধের শোষণে বাধা দেয়, তাই ওষুধ খাওয়ার সময় বা চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইসবগুল খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
