পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর উপায় ও ঔষধ 2026

পিরিয়ড একটি প্রাকৃতিক ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এটি মাসিক চক্রের একটি স্বাভাবিক অংশ। বেশিরভাগ নারীই জীবনের কোনো এক সময়ে এই সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন। পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর উপায় জেনে ঘরোয়া কিছু উপকরনের সাহায্যে কিছুটা হলেও ব্যথা উপশম করতে পারবেন।

কখনো কখনো পেটের ব্যথাটি কিছুক্ষণ পরপর প্রচণ্ডভাবে কামড়ে ধরা বা খিঁচ ধরার মতো করে আসা-যাওয়া করে। অন্যান্য সময়ে একটানা ভোঁতা ধরনের ব্যথা হতে পারে। তবে যদি খুব বেশি ব্যথা করে তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ মত ঔষধ খেতে পারেন। সাধারণত ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা মধ্যেই এটি ভালো হয়ে যায়।

পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর উপায়

১. আদা সেবন করুন

আদা পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে পারে। যারা নিয়মিত পিরিয়ডের ব্যথায় ভুগেন, তারা পিরিয়ডের ব্যথা শুরু হওয়ার আগেই আদা খাওয়া শুরু করতে পারেন। আদা কুচি করে এমনি এমনি খেতে পারেন অথবা গরম পানি অথবা চায়ের সাথে মিশিয়ে পান করতে পারেন। মাসিকের প্রথম ৩–৪ দিন দৈনিক তিনবেলা করে এভাবে আদা কুচি খেতে পারেন।

২. সেঁক নিন

গরম সেঁক নিন। গবেষণায় দেখা গেছে যে, পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর প্রচলিত কিছু ঔষধের চেয়ে গরম সেঁক বেশি কিংবা সমানভাবে কার্যকর। গরম সেঁক প্যারাসিটামলের চেয়ে বেশি কার্যকর এবং আইবুপ্রোফেনের সমান কার্যকর। সেই সাথে গরম সেঁকের আরেকটা সুবিধা হলো এতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।

যেভাবে সেঁক দিবেন: একটি ‘হট ওয়াটার ব্যাগ’ তোয়ালে অথবা মোটা গামছা দিয়ে মুড়িয়ে পেটের ওপর রাখতে পারেন। হট ওয়াটার ব্যাগ ব্যবহারের সময় সাবধানতা অবলম্বন করুন। যেমন—

  • সহনীয় তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করতে হবে
  • মুখ ভালোভাবে আটকানো আছে কি না দেখে নিতে হবে
  • একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর ব্যাগ উল্টেপাল্টে দিতে হবে

‘হট ওয়াটার ব্যাগ’ এর পরিবর্তে ‘ইলেকট্রিক হিটিং প্যাড’ সহ অন্যান্য উপায়ে সেঁক নেওয়া যেতে পারে।

৩. ব্যায়াম করুন

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত ব্যায়াম কিংবা যেকোনো উপায়ে শরীর সচল রাখলে পিরিয়ডের ব্যথা অনেকখানি কমে আসতে পারে। এজন্য সপ্তাহে ৩ দিন বা তার বেশি ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা করে নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে। আপনি চাইলে ভারী ব্যায়াম ছাড়াও সাঁতার কাটা, হাঁটা, সাইকেল চালানো ও ইয়োগার মতো হালকা ব্যায়াম বেছে নিতে পারেন।

আরও পড়ুন  সহজে হরিণী নারী চেনার উপায় জেনে নিন এক নজরে 2026

পিরিয়ডের সময়ে ব্যথার কারণে ব্যায়াম করার ইচ্ছা না-ই থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে সম্ভব হলে হাঁটাচলার মতো হালকা ব্যায়াম করুন।

৪. শ্বাসের ব্যায়াম করুন

পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর একটি ভালো উপায় হলো শ্বাসের ব্যায়াম করা। যেভাবে শ্বাসের ব্যায়াম করতে হবে—

১। বুকের ওপরে এক হাত আর পেটের ওপরে আরেক হাত রাখুন

২। নাক দিয়ে বড় করে শ্বাস নিন। এমনভাবে শ্বাস নিতে হবে যেন বাতাস বুকের গভীরে ঢোকে এবং পেট ফুলে ওঠে। এভাবে শ্বাস নিলে পেটের ওপরের হাতটা ওপরে উঠে আসবে।

৩। তারপর মুখ দিয়ে এমনভাবে শ্বাস ছাড়ুন যেন মনে হয় একটি মোমবাতি নেভানো হচ্ছে।

শ্বাস ছাড়ার পর পেটে রাখা হাত আবার আগের জায়গায় ফেরত আসবে

৫. কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করুন

কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করার মাধ্যমে পিরিয়ডের ব্যথা কমানো যায়। এটি আপনাকে রিল্যাক্স করতেও সাহায্য করবে।

৬. পেট ম্যাসাজ করুন

তলপেট ও এর আশেপাশে আলতোভাবে ম্যাসাজ করলে সেটি ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর ঔষধ 

  1. আইবুপ্রোফেন ও অ্যাসপিরিন
  2. প্যারাসিটামল
  3. আলজিন

ঔষধ সেবনের পূর্বে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

এই ছিলো আমাদের আজকের পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর উপায়, আশা করছি আপনি এখান থেকে শিখে উপকৃত হয়েছেন তাই আপনাদের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।

We will be happy to hear your thoughts

Leave a reply

Amar Sikkha
Logo