
সিরাজউদ্দৌলা নাটকের চরিত্র বিশ্লেষণ পড়লে এবং এমসিকিউ প্রলেই সম্পূর্ণ নাটক আর পড়তে হবে না। তাই সুপ্রিয় শিক্ষার্থীরা তোমরা নিচে থেকে সিরাজউদ্দৌলা নাটকের চরিত্র গুলো ভালোভাবে পড়ে নিবে।
সিরাজউদ্দৌলা নাটকের চরিত্র বিশ্লেষণ
নবাবের পক্ষে ছিলেনঃ
লুতফা, আমিনা, মোহনলাল, মিরমরদান, সাফ্রে, রাইসুল জুহালা, বদ্রি আলী খাঁ, নৌবে সিং হাজারি।
নবাবের বিপক্ষে ছিলেনঃ
ঘসেটি বেগম, মীরজাফর, মিরন, রাজবল্লভ, রায়দুরলভ, উমিচাঁদ, মানিকচাঁদ, জগতশেঠ, মোহাম্মদি বেগ, ক্লাইভ, ক্লেটন, হলয়েল, ওয়াটস, ড্রেক, কিলপেট্রিক।
মীরজাফর আলী খাঁঃ পারস্য (ইরান) থেকে ভারতে আসেন। নবাব আলিবর্দি খানের বৈমাত্রেয় ভাগ্নির (শাহ খানম) জামাই। নবাবের সেনাপতি ও বকশির। বাংলার ইতিহাসে বিশ্বাসঘাতক ও নিকৃষ্টতম ব্যক্তি। ক্লাইভের গাধা বলে পরিচিত। ১৭৫৬ সালে ৫ই ফেব্রুয়ারি কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হয়ে মা’রা যায়।
রবার্ট ক্লাইভ: ইংল্যান্ড থেকে উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কারণে বিতারিত মাত্র সতেরো বছর বয়সে ভারতে আসেন, ইংরেজ কর্ণেল নবাবের বিরুদ্ধে ইংরেজদের যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে লজ্জায় অপমানে বিষণ্ণতা রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৭৭৪ সালে ২২ নভেম্বর আ’ত্ম হত্যা করে।
উমিচাঁদ: লাহোরের অধিবারেরশিব সাম্প্রদায়ের লোক ইংরেজদের কথা নবাবের কাছে এবং নবাবের কথা ইংরেজদের কাছে বলে দু’পক্ষের বঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতেন এবং শুণ্ডচরবৃত্তি করতেন। পদ্মাশিয়ে ইংরেজরা এটী হলে তাকে বুড়ি শখটারা দেয়া হবে মর্মে ক্লাইত তার সাথে কূটকৌশল। করে। যুদ্ধের পরে আওতা বুঝতে পেরে পাগল হয়ে অকালে মারা যায়।
সারা মানুসনুদুস মোটাসোনি এবং দেখতে সহজ-সরল কিন্তু আমন ও নীতিনৈতিকতা বিবর্জিত মানুষ। নারীর হপ্রবেশে ষড়লয়ের সভায় উপস্থিত হয়ে নিরজাফর, রাজবল্লকদের সঙ্গে পরামর্শ করতেন।
অ্যাডমিরাল চার্লস ওয়াটসন: ইংরেজ পক্ষের নৌবাহিনীর প্রধান তার নেতৃত্বে ইংরেজরা অতি সহজে চন্দননগরে ফরাসিদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করে। পলাশির যুদ্ধের দুমাস পরে কলকাতায় মাল যায়। সেন্ট জোগ গোরস্থানে তার কবর আছে।
হলওয়েল। সিভিল সার্জন। নবাবের শাসনামলকে বলছিত করার জন্য অন্ধকূপে (১৮ ফুট লম্বা, ১৫ ফুট চওড়া। ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দি ও তার মধ্যে ১২০ জনের হত্যাকাহিনি বা ‘Black Hole Tragedy বানিয়েছিলেন। মিয়াকে চিরস্থায়ী রূপ দিতে তিনি কলকাতায় ‘ব্লাক হোল মনুমেন্ট’ নির্মাণ করেন। পরে গভর্নয় ওয়ারেন হেস্টিংস এটি সরিয়ে দেন।
ঘসেটি বেগম (মেহেরুন্নেসা): নবার আলিবর্দি খাদের কোষ্ঠ কন্যা। নবাব সিরাজউদ্দৌলার খালা। আলিবর্দি খানের বড় ভাই হাজি আহমদের বড় ছেলে নওয়াজিস মোহাম্মদ শাহমৎ জঙ্গের সঙ্গে তার বিয়ে হয়, তবে কোনো সন্তান না হওয়ায় ছোট বোন আমিনা বেগমের ছেলে সিরাজউদ্দৌলার ভাই একরামউদ্দৌলাকে পোষাপুত্র গ্রহণ করেন। একরামউদ্দৌলা বসন্ত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে তার নবাব মাতা হবার স্বপ্ন ভেঙে যায়। হোসেন কুলি খাঁয়ের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক আছে এমন অনুমানে আলিবর্দি খানের নির্দেশে সিরাজ হোসেন কুলি খাঁকে হত্যা করলে ঘসেটি বেগম তা মেনে নিতে পারেননি বলে সিরাজের প্রতি প্রতিশোধ পরায়ণ ছিলেন। মিরনের চক্রান্তে বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষার সন্ধিস্থলে ফেলে দিয়ে তাকে হ’ত্যা করা হয়।
লুতফুন্নেসাঃ নবাবের স্ত্রী এবং মির্জা ইরিচ খাঁ এর কন্না।
রোজার ড্রেকঃ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কলকাতার গভর্নর।
আমিনা বেগমঃ নবাব আলিবর্দির কনিষ্ঠ কন্যা এবং সিরাজের মা।
মিরনঃ মীরজাফরের পুত্র।
মিরমরদান ও মহনলালঃ নবাব সিরাজের অত্যন্ত বিশ্বাসী সেনাপতি। অম্রিত্তু পলাশীতে যুদ্ধ করেছেন।
রায়দুর্লভ: বিহারের ডেপুটি গভর্নর জানকীরামের ছেলে রায়দুর্লভ। সে ছিল উড়িষ্যার পেশকার। পরে দেওয়ানিপ্রাপ্ত হয়। সিরাজের সাথে বিরোধ থাকায় তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয় নি। ষড়যন্ত্রের পূর্বে গোপন মন্ত্রণায় একরারনামায় সই চায়। ছদ্মবেশে মিরনের দরবারে প্রবেশ করে। মাসে মাসে জগৎশেঠের থেকে টাকা নিয়ে চলে। সিরাজের পতনের পর তাকে সেনাপতির পদ দেওয়া হবে এই লোভ দেখায় মিরন। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মিরন তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
নবাবের দরবারে অসহায় ব্যক্তিকে দেখে ‘তরবারি কোষবদ্ধ’ করেন।
রাজবল্লভ: বিক্রমপুরের বাঙালি বৈদ্য সম্প্রদায়ের লোক ছিল। ঢাকায় জাহাজি ফৌজ বিভাগের কেরানি ও পরে গভর্নরের পেশকার হয়। ঘসেটি বেগমের স্বামী নওয়াজিশ মোহাম্মদ গভর্নর থাকা অবস্থায় রাজবল্লভ ‘রাজা’ উপাধি পায়। হোসেন কুলি খাঁর পর সে ঢাকার দেওয়ান হয় এবং ঢাকার শাসনকার্য পরিচালনা করাবস্থায় নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে। সিরাজ তাকে সন্দেহ করলে তুলসী পাতা ছুঁয়ে দেশের পক্ষে থাকার শপথ করে।
মোহনলাল তলোয়ার খুলে সামনে দাঁড়ায় তার চোখে কেয়ামতের ছবি ভেসে উঠে। তার মতে নবাবের রাজভাণ্ডার লুট করলে ৩ কোটি টাকার বেশি পাওয়া যাবে না।
জগৎশেঠ: তার আসল নাম ‘ফতেহ চাঁদ’। সে ছিল মানিকচাঁদের ভ্রাতুষ্পুত্র। ‘জগৎশেঠ’ কোনো নাম নয় বরং উপাধি মাত্র যা ১৭৪৪ সালে তাকে দেয়া হয়। তৎকালীন বিখ্যাত ধনী ব্যক্তিত্ব। যুদ্ধের পুরো খরচ বহন করে। ষড়যন্ত্রের পূর্বে নিজের স্বার্থ সম্পর্কে নিশ্চয়তা চান। শওকতজঙ্গ সম্পর্কে তার উক্তি- “শওকতজঙ্গ নিতান্তই অকর্মণ্য। ভাঙের গেলাস ও নাচনেওয়ালি ছাড়া সে কিছুই জানে না। শওকতজঙ্গ নবাব হবেন নামমাত্র।
আসল কর্তৃত্ব থাকবে ঘসেটি বেগমের আর তার নামে দেশ শাসন করবে রাজবল্লভ।”
মানিকচাঁদ: ১৭৫৬ সালে কলকাতা দুর্গ দখলের পর সিরাজ তাকে আলিনগরের দেওয়ান নিযুক্ত করেন। ষড়যন্ত্রের কারণে সিরাজ তাকে কারাগারে পাঠান ও ১০ লাখ টাকা মুচলেকার মাধ্যমে মুক্তি দেন। রাজবল্লভের মতে তার মুক্তির মূল্য ৫০ কোটি টাকার কম না।
মোহাম্মদী বেগ: সিরাজের হত্যাকারী। ১০ হাজার টাকার লোভে মিরনের প্ররোচনায় সে নবাবকে খুন করে। নবাব তার কাছে দুই রাকাত নামায পড়ার সময় চাইলে সে লাঠি দিয়ে নবাবকে ফেলে দেয় ও ছুরির আঘাতে হত্যা করে। অথচ নবাবের পিতা তাকে আপন সন্তানের মত লালন করেন এবং নবাবের মাতা হৈ চৈ করে তার বিয়ে দেন। নাটকের সবচেয়ে জঘন্য চরিত্র।

যদি পরীক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে সব একসাথে পাওয়া যেত,ভালো হতো।
অবশ্যই দেওয়া হবে।
[…] সিরাজউদ্দৌলা নাটকের চরিত্র বিশ্লেষণ … […]