
সমরেশ মজুমদার এর সাতকাহন উপন্যাস ডাউনলোড করতে পারবেন সম্পূর্ণ ফ্রি। আজ সারাটা দিন সূর্যদেব উঠলেন না। কাঠ-কয়লার মত মেঘ ভুটান পাহাড় থেকে নেমে সারা আকাশ জুড়ে অনড় হয়ে রয়েছে সেই শেষরাত থেকে। সারাটা দিন কেটে গেল গভীর আলস্য নিয়ে।
শেষ বিকেলে বাতাস বইল; কাছাকাছি কোথাও বৃষ্টি হয়ে গেছে এমন আমেজ ছিল সেই বাতাসে। একটু শীতেল হয়ে উঠল চারপাশ। সম্পূর্ণ বই পড়তে চাইলে নিচে থেকে ডাউনলোড করুন। তার আগে কিছু অংশ পড়ুন নীচে দেওয়া হয়েছে।
সাতকাহন উপন্যাস ডাউনলোড
চকোলেট মিলিয়ে যাওয়ার পরও জিভে যেমন তুলতুলে অনুভূতি ছড়ানো থাকে তেমনি এক আলো এখন মাঠের ওপরে, দেওদার গাছের মাথায়, কোয়াটার্সগুলোর টিনের চালের চুড়োয় চুড়োয় নেতিয়ে রয়েছে। মুখ তুলে আকাশ দেখলে মনে হয় মেঘেরা বুঝি হাওয়ার ধকল সইতে না পেরে এক ছুটে নেমে এল; কিন্তু আজ বৃষ্টি হবে না।
মেঘগুলো এই হঠাৎ-নামা শীতের দাঁত সইতে না পেরে কুঁকড়ে যাবে। এইভাবেই দু-তিনদিন সইবার পর জল ঝরবে চা-বাগানের ওপর, কোয়াটার্স, মাঠ, আসাম রোড ভিজবে, তেমাথা বুড়ির মত অসাড়ে। এবং সেই পর্ব মেষ হলেই শীত নামবে জাঁকিয়ে।
আজকের মেঘ যেন বুধুয়ার তরকারি কোটা, রান্নাঘরে মায়ের উনুনে কড়াই চাপানোর অনেক দেরী। মাঠের মাঝখানে চাঁপা ফুলের গাছের নিচে দাঁড়িয়ে সিরসিরে হাওয়ায় একটু কেঁপে উঠে দীপা চিৎকার করল, ‘তাড়াতাড়ি কর, আমার শীত করছে। ’
ওপর থেকে কোন উত্তর এল না। যে উঠেছিল ডালে ডালে পা দিয়ে হাওয়া তার পাজরেও কাঁপন তুলেছিল। কিন্তু মরিয়া হয়ে সে হাত বাড়াচ্ছিল সদ্যফোটা সোনালী চাঁপার দিকে। এবছর ওই গাছে প্রথম কুঁড়ি ফুটেছে। লক্ষ্য করেছিল সে, আর তারপরই এই জেদ।
অথচ ফুলটা কেবলই নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। পায়ের চাপে ডালটা দুলছে আর সেই সঙ্গে ফুলটাও। দীপা যখন দ্বিতীয়বার চিৎকার করল তখন তার মনোযোগ নষ্ট হল। চোখ তুলে আকাশ দেখে ভয় ঢুকল মনে। শাঁখ বাজছে কোয়াটার্স এ কোয়াটার্সে। এবং এইবার পাতাশুদ্ধু ফুল চলে এল হাতে। তর তর করে দুটো ডাল নেমে এসে নিচে তাকিয়ে দেখল দীপা নেই।
মাঠটা একনিঃশ্বাসে দৌড়ে আসতেই শীত উধাও, ঘন ঘন নিঃশ্বাসে শরীর গরম। দীপা দাঁড়িয়ে গেল। এখন সামনের গেট দিয়ে ঢোকা মানে একশটা বকুনির সামনে দাঁড়ানো।

[…] See More: সাতকাহন উপন্যাস pdf […]