
প্রিয় শিক্ষার্থীরা তোমাদের জন্য আজকের আয়োজন মোবাইল আসক্তি অনুচ্ছেদ রচনা। তোমরা অনেকেই বিভিন্ন জায়গায় এই সম্পর্কে সার্চ করেছ কিন্তু খুঁজে পাওনি তাই আজকের এই পোস্ট থেকে তোমাদের কাঙ্ক্ষিত পড়া লিখে নাও।
মোবাইল আসক্তি অনুচ্ছেদ
মোবাইল আসক্তিকে কিছু গবেষক সেল ফোনের উপর মনস্তাত্ত্বিক বা আচরণগত নির্ভরতার একটি রূপ হিসেবে প্রস্তাব করেছেন। অন্যান্য গবেষকরা বলেছেন যে স্মার্টফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আচরণগত আসক্তি সম্পর্কিত। এই ধারণা থেকেই মূলত মোবাইল আসক্তি শব্দটির উদ্ভব হয়েছে । মোবাইল আসক্তির মধ্যে উল্লেখযোগ্য সমস্যাগুলো হলো: মোবাইল যোগাযোগে ব্যস্ততা, মোবাইল ফোনে অত্যধিক অর্থ বা সময় ব্যয় করা এবং অটোমোবাইল চালানোর মতো সামাজিক বা শারীরিকভাবে অনুপযুক্ত পরিস্থিতিতে মোবাইল ফোনের ব্যবহার। অত্যধিক মোবাইল ব্যবহার , মানসিক বা শারীরিক স্বাস্থ্যের উপরও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে এবং মোবাইল ফোন বা পর্যাপ্ত সংকেত থেকে আলাদা হলে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। নবাগত শিশু এবং অল্প বয়স্কদের মোবাইল আসক্তির জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি রয়েছে।
২০০০ এর দশকের শেষের দিক থেকে স্মার্টফোনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯ সালের পরিচালনায়, বিশ্বব্যাপী মোট জনসংখ্যার শতকরা ৪১.৫ ভাগ মোবাইল ব্যবহার করে । ব্যাপক প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কারণে, স্মার্টফোনের অত্যধিক ব্যবহার চীনের মতো এশিয়ান দেশগুলিতে একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিশ্বে মোট নিবন্ধিত মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭০০ লক্ষ। ডিজিটাল মিডিয়ার অত্যধিক ব্যবহার চোখের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।বিশেষ করে এই সমস্যা অল্প বয়স্কদের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এটি অনুমান করা হয়েছে যে ,ডিজিটাল মিডিয়ার অত্যধিক ব্যবহার করার ফলস্বরূপ ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্ব জনসংখ্যার শতকরা ৪৯.৮ ভাগ (৪.৮ বিলিয়ন) মায়োপিয়াতে আক্রান্ত হবে।
মোবাইল আশক্তির প্রভাব
একটি গবেষণায় দেখা গেছে, করোনার দমবন্ধ পরিবেশে গত দেড় বছরে দেশের স্কুলশিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি বেড়েছে ৬৭ শতাংশ। এ সময়ে ৭০ শতাংশ শিশুই শারীরিক কোনো কাজ বা খেলাধুলার সুযোগ পায়নি। এতে বেড়েছে মানসিক নানা রোগ। গবেষণায় উঠে এসেছে, ৬৮ শতাংশ শিক্ষার্থীই মোবাইলে আসক্ত। এছাড়া দিনের অধিকাংশ সময় নয় ভাগ শিক্ষার্থী কম্পিউটার স্ক্রিনে আর আট ভাগ শিক্ষার্থী ট্যাবে সময় ব্যয় করে। এই আসক্তির মধ্যে মাত্র ২৫ ভাগ শিক্ষার্থী তা ব্যবহার করেছে অনলাইন ক্লাসের জন্য। আর ৪০ ভাগ কার্টুন, নাটক ও চলচ্চিত্র দেখে, ২৭ ভাগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার এবং ১৭ ভাগ আসক্ত বিভিন্ন গেমসে। গেল বছর ৭০ ভাগ শিক্ষার্থীই খেলাধুলার অবকাশ পায়নি। এরমধ্যে ৫০ শতাংশই বের হতে পারেনি বাইরে।
স্বাস্থ্যগত ভয়াবহ ক্ষতির দিকটিও উঠে এসেছে এই গবেষণায়। তাতে, দেখা যায় আগে যেখানে জ্বর-সর্দি, ডায়রিয়ার মতো রোগব্যাধিতে বেশি আক্রান্ত হতো শিক্ষার্থীরা, গত দেড় বছরে মাথাব্যথা, দৃষ্টিশক্তি জটিলতা, ঘুমের সমস্যা, বিষণ্ণতা ও খিটখিটে মেজাজের মতো ব্যাধি দেখা যাচ্ছে বেশি।
দেশের প্রায় এক চতুর্থাংশ তরুণ তাদের স্মার্টফোনের উপর এতোটাই নির্ভরশীল যে এটি আসক্তির মতো হয়ে গেছে, মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের এক গবেষণায় সম্প্রতি এমন তথ্য পাওয়া গেছে। এ আসক্তিমূলক আচরণের অর্থ তারা যদি মোবাইল ফোন সবসময়ের জন্য হাতে না পায় তাহলে তারা ‘আতঙ্কিত’ বা ‘বিচলিত’ হয়ে পড়ে। এই তরুণরা মোবাইল ফোনের পেছনে যে পরিমাণ সময় ব্যয় করে তারা সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এ ধরনের আসক্তিমূলক আচরণ অন্যান্য শারীরিক ও মানিসক সমস্যার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে বলে গবেষণায় বলা হয়েছে, যেমন স্ট্রেস বা শারীরিক ও মানসিক চাপ, হতাশা, খিটখিটে মেজাজ, ঘুমের অভাব এবং স্কুলের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়া।

[…] […]