
বর্তমানে বাজেরে হরহামেশাই টুনা মাছ দেখা যায় কিন্তু আসলেই কি এগুলো টুনা মাছ। টুনা মাছ চেনার উপায় না জানলে আপনিও বোকা বনে যেতে পারেন। বাজারে থাকা বেশিরভাগ দাবি করা টুনা মাছ নকল।
আমরা অনেকেই বাজারে থাকা কম দামে টুনা মাছ পেয়ে সাথে সাথে কিনে নেই আসল নাকি নকল দেখার সময় নেই। এভাবেই আমরা টুনা মাছের বদলে অন্য জাতের মাছ কিনে নেই আর দোকান দার আমাদের ধোকা দিচ্ছে। চলুন তাহলে আসল টুনা চেনার উপায় জেনে নেই।
আসল টুনা মাছ চেনার উপায়
টুনা হচ্ছে বিখ্যাত সুস্বাদু সামুদ্রিক মাছ। বঙ্গোপসাগরে এই মাছ তেমন একটি পাওয়া যায় না। সাধারণত বঙ্গোপসাগরে যে সকল টুনা পাওয়া যায় তার ওজন ৪ থেকে ৫ কেজির বেশি হয় না। তবে মাঝে মাঝে অনেক বড় আকৃতির ৪০-৫০ কেজি ওজনের টুনা মাছ ধরা বঙ্গোপসাগরে পড়ে ।
বঙ্গোপসাগরে যে টুনা মাছটি পাওয়া যায় তা বিশ্ব বিখ্যাত ব্লু ফিন টুনা নয়। ব্লু ফিন টুনার দাম অবিশ্বাস্য, একেক টি টুনা মাছের দাম কয়েক লাখ টাকা থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। সামুদ্রিক এই মাছটি এমনিতেই অনেক সুস্বাদু। জাপানিরা সাধারণত এই মাছ কাঁচা খায় । এছাড়া এটা দিয়ে বিভিন্ন রকমের মজার মজার রেসিপি তৈরি করা যায়। বাংলাদেশের জেলেরা মাছটিকে ‘ বোম মাছ’ হিসেবে চেনেন ।
আরও পড়ুনঃ জেনে নিন সবুজ আঙ্গুর খাওয়ার উপকারিতা
হলুদ ফিন টুনা শনাক্ত করার সময় দেখার জন্য আরেকটি মূল বৈশিষ্ট্য হল এর শরীরের আকৃতি । ইয়েলোফিন টুনা একটি খুব দীর্ঘায়িত এবং সুবিন্যস্ত শরীরের আকৃতি আছে, একটি বিন্দুযুক্ত মাথা এবং একটি উচ্চারিত পৃষ্ঠীয় পাখনা। তাদের একটি খুব বড় লেজের পাখনাও রয়েছে, যা “কডাল পাখনা” নামে পরিচিত, যা দীর্ঘায়িত এবং নির্দেশিতও।
কোন ধরনের টুনা মাছ বেশি দেখা যায়
বাজারের সিংহভাগই চারটি প্রজাতির সমন্বয়ে গঠিত: বিশ্বব্যাপী টুনা ধরার অর্ধেকেরও বেশি একা স্কিপজ্যাক, তারপরে ইয়েলোফিন, বিগিয়ে এবং অ্যালবাকোর। সমালোচনামূলকভাবে বিপন্ন ব্লুফিন টুনা বিশ্বব্যাপী ক্যাচের মাত্র ১% তৈরি করে।
টুনা মাছ কি
টুনা মাছ বাংলাদেশের জনপ্রিয় সামুদ্রিক মাছের মধ্যে অন্যতম। এরা দেখতে অনেকটা টর্পেডো আকৃতির, চেহারাটা ধাতব বর্ণের হয়। বঙ্গোপসাগরে সাধারণত ৩-৫ কেজি ওজনের টুনা মাছ পাওয়া যায়, কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন সমুদ্রে এরা কয়েকশ কেজি ওজনের পর্যন্ত হতে পারে। টুনা মাছের গায়ের রং সাধারণত গাঢ় নীল থেকে ধূসর রঙের মধ্যে হয়, পেটের দিকটা একটু হালকা রঙের হয়ে থাকে।
পুষ্টি : টুনা ষ্টিগুণে ভরপুর একটা মাছ। এরা ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি এসিডের রাজা, যা আমাদের হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখে। এছাড়াও, টুনাতে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ। এই সবকিছু মিলে টুনা মাছ আমাদের শরীরকে সুস্থ ও সবল রাখতে দারুণভাবে সাহায্য করে।
বাঙালির টুনা রসনা: বাঙালি টুনাকে পছন্দ করে কেবল পুষ্টির জন্যই না, স্বাদের জন্যও। টুনা মাছের চপ, কষা মাংস, স্যান্ডউইচ, এমনকি টুনা ভর্তা পর্যন্ত – বাঙালি রেঁধেছে টুনার নানান রকমের স্বাদু খাবার।
শেষ কথা, আশা করছি আজকের টুনা মাছ চেনার উপায় এই পোস্ট আপনাদের কাছে পছন্দ হয়েছে। আপনাদের উপকার করতে পেরে আমরা খুশি, সবসময় আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।
