
বর্তমানে চলোমান পরিস্থিতিতে যখন তখন চোখে টিয়ার গ্যাস লাগতে পারে, টিয়ার গ্যাস থেকে বাঁচার উপায় জেনে সহজেই এই গ্যাস থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন। কোটা আন্দোলন বা যেকোনো আন্দোলন হলেই দেখা যায় পুলিশ আন্দোলন ভঙ্গ করার জন্য বিভিন্ন ভাবে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।
এই পোস্ট থেকে আজকে জানতে পারবেন কিভাবে টিয়ার গ্যাস থেকে নিজেকে সুরক্ষা রাখবেন। কাঁদুনে গ্যাস থেকে সুরক্ষার জন্য নীচের ধাপগুলো অনুসরন করুন।
টিয়ার গ্যাস থেকে বাঁচার উপায়
কাঁদানে গ্যাস বা টিয়ার গ্যাসের প্রভাবে চোখ ও ত্বকে জ্বালাপোড়া করে, শ্বাস-প্রশ্বাসেও সমস্যা হতে পারে। আবার টিয়ারগ্যাসের প্রভাবে চোখের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। তাই সহজে কাঁদনে গ্যাসের প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে আপনাকে সতর্কতার পাশাপাশি কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।
রাস্তাঘাটে বের হলে চোখে চশমা ও মাস্ক পরুন। চশমা ও মাস্কে টিয়ার গ্যাসের প্রভাব থেকে আপনাকে অনেকটাই সুরক্ষিত থাকবেন। আপনি টিয়ার গ্যাসে আক্রান্ত হলে প্রথমেই খেয়াল করুন বাতাস কোন দিকে প্রবাহিত হচ্ছে, যেদিকে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে আপনিও সেদিকে মুখ ঘুরিয়ে ফেলুন। তাতে আপনার চোখ বাতাসের পেছন দিকে চলে যাবে, এবং সরাসরি টিয়ার গ্যাস আপনার চোখে পড়বে না।
কাঁদানে গ্যাস যে জায়গাটুকু ঘিরে ধরেছে, আপনি সেখান থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসুন ও দ্রুত ঠাণ্ডা পানির খোঁজ করুন। চোখ-মুখ ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সেদিকেও লক্ষ রাখুন টিয়ারগ্যাস ধোয়া পানি আবার গড়িয়ে আপনার দেহে না পড়ে। তাই মাথা নিচু করে ঝুঁকে চোখ-মুখে পানি দিন। ভুল করেও গরম পানি ব্যবহার করবেন না, হীতে-বিপরীত হতে পারে। গরম পানির স্পর্শে ত্বকের লোমকূপ বড় হয়ে যেতে পারে। তাহলে আরো বেশি করে টিয়ার গ্যাসের উপাদান শরীরের ভেতরে ঢুকে যেতে পারে।
আক্রান্ত স্থান ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুলেও গোসল করবেন না এ সময়। কারণ টিয়ার গ্যাসের ক্ষতিকর রাসায়নিক সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বেশি সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।
সূত্র : পপুলার সায়েন্স
টিয়ার গ্যাস এর ব্যবহার কখন হয়?
১৯১৪ সালে জাইলিল ব্রোমাইড জনপ্রিয় টিয়ার গ্যাসের উপাদানরূপে ব্যবহৃত হতো। প্রথম বিশ্বযুদ্ধেও এর প্রয়োগ হয়েছে। অশ্রুনিঃসারক উপাদানই পুলিশ বাহিনীতে প্রায়শঃই দেখা যায়। এ গ্যাস সাধারণতঃ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ কর্তৃক দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ, বিক্ষুদ্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গের জন্যে ব্যবহার করে থাকে। ফিনাসিল ক্লোরাইড এবং সিএস গ্যাস দুটিকে প্রায়শঃই কাঁদানে গ্যাসে ব্যবহার করতে দেখা যায়। পিপার স্প্রে আরেক ধরনের রাসায়নিক উপাদান যা বর্তমানে টিয়ার গ্যাসের স্থান দখল করছে। ফিনল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায় কিছু কিছু দেশে মেস নামীয় উপাদান ব্যবহার করতে দেখা যায় যা সিএনের সমতুল্য এবং আত্মরক্ষামূলক অস্ত্র হিসেবে বিবেচ্য। জাইলিল ব্রোমাইড, সিএন এবং সিএস প্রাচীনতম উপাদান। কিন্তু সিএসের ব্যবহার বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বিস্তৃত।
বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রেক্ষাপটে অন্যান্য রাসায়নিক অস্ত্রের ন্যায় কাঁদানে গ্যাসের ব্যবহারও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এপ্রেক্ষিতে অধিকাংশ দেশ সাক্ষরও করেছে। কিন্তু পুলিশ বাহিনী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে আত্মরক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎযোগ্য নয়। সামরিক বাহিনীতে গ্যাসের মুখোশ পরিধান করে অনুশীলন কর্মকাণ্ডেসহ দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়।
