
জমজমের পানি খাওয়ার জন্য কিছু সুন্নাত নিয়ম রয়েছে। পৃথিবীতে যত রকমের পানি আছে তার সবগুলো বসে খাওয়া সুন্নাত হলেও জমজমের পানি দাঁড়িয়ে খাওয়া সুন্নত। আমরা জমজমের কুয়া সম্পর্কে কম বেশি সবাই জানি, জমজম শব্দের অর্থ থেমে যাওয়া। আল্লাহর নির্দেশে, হযরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর স্ত্রী হাজেরা ও শিশুপুত্র ইসমাইলকে মক্কার মরুভূমিতে রেখে যান।
পানি ফুরিয়ে গেলে, পিপাসার্ত ইসমাইলের কান্না দেখে হাজেরা সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাতবার পানির খোঁজে দৌড়ান। কিন্তু কোথাও পানি না পেয়ে হতাশ হন। এই চরম মুহূর্তে, ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) আল্লাহর নির্দেশে তাঁর পাখা বা পা দিয়ে মাটিতে আঘাত করলে অলৌকিকভাবে জমজম কূপের সৃষ্টি হয়। হাজেরা পানিকে থামানোর জন্য জমজম অর্থাৎ, থেমে যাও, থেমে যাও বলায় কূপটির নাম হয় জমজম।
জমজমের পানি খাওয়ার নিয়ম
জমজমের পানি পান করার সুন্নাত পদ্ধতি-
১. কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ানো: জমজমের পানি পান করার সময় কিবলার দিকে মুখ করে দাঁড়ানো মুস্তাহাব ।
২. বিসমিল্লাহ বলা: পানি পান করার আগে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলা।
২. তিন শ্বাসে পান করা: একবারে সবটুকু না পান করে, তিন শ্বাসে অর্থাৎ গ্লাস বা পাত্র মুখ থেকে সরিয়ে তিনবারে পান করা সুন্নাত। প্রতি শ্বাসের পর “আলহামদুলিল্লাহ” বলা।
৩. পর্যাপ্ত পরিমাণে পান করা: তৃষ্ণা নিবারণ হওয়ার পরও কিছুটা বেশি পরিমাণে পান করা মুস্তাহাব। হাদিসে এসেছে, জমজমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয়, আল্লাহ তা পূর্ণ করেন।
৪. দাঁড়িয়ে পান করা: যদিও দাঁড়িয়ে পানি পান করা মাকরুহ , তবে জমজমের পানি দাঁড়িয়ে পান করা জায়েজ এবং এটি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাত।
৫. পেট ভরে পান করা: জমজমের পানি পেট ভরে পান করা উচিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জমজমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয়, তা সে উদ্দেশ্য পূরণ করে। তিনি আরও বলেছেন, জমজমের পানি বরকতময় খাবার এবং রোগের প্রতিষেধক।
৬. দোয়া করা: পানি পান করার সময় নিজের প্রয়োজন এবং কল্যাণ চেয়ে দোয়া করা।
৭. চেহারা ও শরীরে মালিশ করা : অনেকে বরকতের জন্য জমজমের পানি দিয়ে চেহারা ও শরীরে মালিশ করেন। এটি বাধ্যতামূলক নয়, তবে এর মাধ্যমে বরকত লাভের আশা করা যায়।
জমজমের পানি খাওয়ার দোয়া
জমজমের পানি পান করার সময় নির্দিষ্ট একটি দোয়া পড়া মুস্তাহাব । যদিও যে কোনো ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে দোয়া করা যায়, তবে এই দোয়াটি বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ:
আরবি:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَرِزْقًا وَاسِعًا وَشِفَاءً مِنْ كُلِّ دَاءٍ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা ইলমান নাফি’আন, ওয়া রিযকান ওয়াসি’আন, ওয়া শিফায়ান মিন কুল্লি দা’ইন।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান, প্রশস্ত রিযিক এবং সকল রোগ থেকে আরোগ্য কামনা করছি।
এই দোয়াটি পান করার সময় পাঠ করলে বা পান করার আগে বা পরে পাঠ করলেও চলবে। এটি ছাড়াও আপনি আপনার ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও কল্যাণ চেয়ে যে কোনো দোয়া করতে পারেন, কারণ রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জমজমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয়, তা সে উদ্দেশ্য পূরণ করে।
আরও বিস্তারিত জানতে জমজম কূপ উইকিপিডিয়া দেখতে পারেন।
