
হাদিসে বর্ণিত কুরবানী সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানতে আজকের বিষয় কুরবানী সম্পর্কে হাদিস গুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। মহান আল্লাহ তায়ালা সকলের উপর কুরবানি ওয়াজিব করেননি বরং প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের উপর কুরবানি করা ওয়াজিব করেছেন। সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন- অতএব আপনার রবের উদ্দেশ্যেই নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি করুন।’ (সুরা কাউছার : আয়াত ২)
এই আয়াত থেকে আমরা এটি সহজেই বুঝতে পারি কুরবানি শুধু মহান আল্লাহর জন্য অর্থাৎ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কুরবানি একটি ইবাদত শুধু তাই নয় এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ তার বান্দাদের গুনাহ সমূহ মাফ করেন। কুরবানির কোনো কিছুই আল্লাহ নেন না বরং সেগুলোকে তিনভাগে ভাগ করে ভোগ করতে বলেন। আল্লাহ শুধু বান্দার তাকওয়া সমূহ গ্রহণ করেন।
কুরবানী সম্পর্কে হাদিস আরবি ও বাংলা
১. কুরবানীর ফজিলত
(ক)
আরবি:
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ: “مَا عَمِلَ آدَمِيٌّ مِنْ عَمَلٍ يَوْمَ النَّحْرِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ إِهْرَاقِ الدَّمِ، إِنَّهُ لَيَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِقُرُونِهَا وَأَشْعَارِهَا وَأَظْلَافِهَا، وَإِنَّ الدَّمَ لَيَقَعُ مِنَ اللَّهِ بِمَكَانٍ قَبْلَ أَنْ يَقَعَ عَلَى الْأَرْضِ، فَطِيبُوا بِهَا نَفْسًا”.
বাংলা অর্থ: হজরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “কুরবানীর দিনে আদম সন্তানের কোনো কাজ আল্লাহর কাছে রক্ত প্রবাহিত করার (কুরবানী) চেয়ে অধিক প্রিয় নয়। কিয়ামতের দিন তা তার শিং, পশম ও ক্ষুরসহ উপস্থিত হবে। রক্ত জমিনে পড়ার আগেই তা আল্লাহর কাছে পৌঁছে যায়। সুতরাং আনন্দিত মনে কুরবানী কর।”(সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস: ১৪৯৩)
(খ)
কুরবানীর প্রতিটি লোমের বিনিময়ে সওয়াব
আরবি:
عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ أَصْحَابُ النَّبِيِّ ﷺ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا هَذِهِ الْأَضَاحِيُّ؟ قَالَ: سُنَّةُ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ. قَالُوا: فَمَا لَنَا فِيهَا؟ قَالَ: بِكُلِّ شَعَرَةٍ حَسَنَةٌ. قَالُوا: فَالصُّوفُ؟ قَالَ: بِكُلِّ شَعَرَةٍ مِنَ الصُّوفِ حَسَنَةٌ.
বাংলা অর্থ:হজরত যাইদ ইবনু আরকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সাহাবায়ে কেরাম বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! এ কুরবানী কী?” তিনি বললেন, “এটি তোমাদের পিতা ইব্রাহিম (আঃ)-এর সুন্নাত।” তারা বললেন, “তাতে আমাদের কী লাভ আছে?” তিনি বললেন, “প্রতিটি লোমের বিনিময়ে একটি সওয়াব।” তারা বললেন, “আর পশম?” তিনি বললেন, “প্রতিটি পশমের বিনিময়েও একটি সওয়াব।”(সুনান ইবন মাজাহ, হাদিস: ৩১২৭)
২. কুরবানীর পশুর বৈশিষ্ট্য
আরবি:
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: “ضَحَّى النَّبِيُّ ﷺ بِكَبْشَيْنِ أَمْلَحَيْنِ أَقْرَنَيْنِ، ذَبَحَهُمَا بِيَدِهِ، وَسَمَّى وَكَبَّرَ، وَوَضَعَ رِجْلَهُ عَلَى صِفَاحِهِمَا”.
বাংলা অর্থ: হজরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “নবী ﷺ দুটি শিংবিশিষ্ট সাদা-কালো রঙের দুম্বা কুরবানী করেন। তিনি নিজ হাতে তাদের যবেহ করেন, বিসমিল্লাহ ও তাকবির বলেন এবং তাদের পাশের ওপর পা রাখেন।”(সহিহ বুখারী, হাদিস: ৫৫৫৮)
৩. কুরবানীর সময় নির্ধারণ
আরবি:
عَنْ جُنْدُبِ بْنِ سُفْيَانَ الْبَجَلِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: “شَهِدْتُ النَّبِيَّ ﷺ يَوْمَ النَّحْرِ، فَقَالَ: مَنْ ذَبَحَ قَبْلَ أَنْ يُصَلِّيَ فَلْيُعِدْ مَكَانَهَا أُخْرَى، وَمَنْ لَمْ يَذْبَحْ فَلْيَذْبَحْ بِاسْمِ اللَّهِ”.
বাংলা অর্থ:হজরত জুনদুব ইবন সুফইয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “আমি নবী ﷺ-কে কুরবানীর দিনে বলতে শুনেছি: ‘যে ব্যক্তি ঈদের নামাজের আগে কুরবানী করেছে, সে যেন তা পুনরায় করে। আর যে এখনও কুরবানী করেনি, সে যেন আল্লাহর নামে কুরবানী করে।’”(সহিহ বুখারী, হাদিস: ৫৫৬২)
৪. কুরবানীর পশুর রক্তের মর্যাদা
আরবি:
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: “مَا عَمِلَ آدَمِيٌّ مِنْ عَمَلٍ يَوْمَ النَّحْرِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ إِهْرَاقِ الدَّمِ، إِنَّهُ لَيَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِقُرُونِهَا وَأَشْعَارِهَا وَأَظْلَافِهَا، وَإِنَّ الدَّمَ لَيَقَعُ مِنَ اللَّهِ بِمَكَانٍ قَبْلَ أَنْ يَقَعَ عَلَى الْأَرْضِ، فَطِيبُوا بِهَا نَفْسًا”.
বাংলা অর্থ: হজরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “কুরবানীর দিনে আদম সন্তানের কোনো কাজ আল্লাহর কাছে রক্ত প্রবাহিত করার (কুরবানী) চেয়ে অধিক প্রিয় নয়। কিয়ামতের দিন তা তার শিং, পশম ও ক্ষুরসহ উপস্থিত হবে। রক্ত জমিনে পড়ার আগেই তা আল্লাহর কাছে পৌঁছে যায়। সুতরাং আনন্দিত মনে কুরবানী কর।”(সুনান ইবন মাজাহ, হাদিস: ৩১২৬)
৫. কুরবানীর পশু বণ্টনের নিয়ম
আরবি:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: “كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَقْسِمُ لَحْمَ الْأُضْحِيَةِ ثُلُثًا لِأَهْلِهِ، وَثُلُثًا لِجِيرَانِهِ، وَثُلُثًا لِلْمَسَاكِينِ”.
বাংলা অর্থ: হজরত আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ ﷺ কুরবানীর মাংস তিন ভাগে ভাগ করতেন—এক ভাগ নিজের পরিবারের জন্য, এক ভাগ প্রতিবেশীদের জন্য এবং এক ভাগ গরীব-মিসকিনদের জন্য।”(সুনান ইবন মাজাহ, হাদিস: ৩১২৭)
কুরবানী সম্পর্কে আরও কিছু হাদিস বাংলায়

১. আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
কুরবানী করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি কুরবানী করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে। -সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৩১২৩; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৮২৫৬
২. মিখনাফ ইবনে সুলাইম রা. বলেন-
আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আরাফায় অবস্থান করছিলাম। তখন তাঁকে বলতে শুনেছি, হে লোকসকল! প্রত্যেক ঘরওয়ালার উপর প্রতি বছর কুরবানী আবশ্যক। (জামে তিরমিযী, হাদীস ১৫১৮; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৭৮৮; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ২৪৭৮৬)
৩. উম্মুল মুমিনীন উম্মে সালামা রা. বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
যিলহজ্বের চাঁদ দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর তোমাদের মধ্যে যে কুরবানীর ইচ্ছা রাখে সে যেন কুরবানী করা পর্যন্ত তার নখ, চুল ইত্যাদি না কাটে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৭৭; জামে তিরমিযী, হাদীস ১৫২৩
৪. ওলীদ ইবনে মুসলিম বলেন, আমি মুহাম্মাদ বিন আজলানকে যিলহজ্বের দশকে চুল কাটা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, আমাকে নাফে রাহ. বলেছেন-
আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. এক নারীর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। যিনি যিলহজ্বের দশকের ভেতর তার সন্তানের চুল কেটে দিচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন, যদি ঈদের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে তবে বড় ভালো হত। -মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস ৭৫৯৫
