
নামাজের নিয়ত সঠিক না হলে নামাজ হয় না। আজকে তারাবি নামাজের নিয়ত সম্পর্কে আপনাদের সাথে কিছু তথ্য শেয়ার করব। তারাবীহ নামাজকে কিয়াম আল-লাইল মিন রামাদান এবং কিয়াম আল-রামাদান হিসাবে হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু সুন্নি মুসলিম তারাবীহ নামাজকে (সুন্নত আল-মু’আক্কাদাহ) বলে মনে করেন। অন্যান্য সুন্নি মুসলিমরা বিশ্বাস করে যে তারাবীহ হলো একটি ঐচ্ছিক (নফল) নামাজ যা বাড়িতে পড়া যেতে পারে।
এই হাদিস অনুসারে মুহাম্মাদ প্রাথমিকভাবে ও সংক্ষিপ্তভাবে রমজান মাসে জামাতে তারাবীহের নামাজ আদায় করতেন, কিন্তু বাধ্যতামূলক (ফরজ) হওয়ার উদ্বেগ থেকে এই নিয়মটি বন্ধ করে দেন, তবুও তিনি কখনোই জামাতে তারাবীহ পড়তে নিষেধ করেননি। এটি আদায় করা রমজান মাসে মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং ফজিলতপূর্ণ।
তারাবি নামাজের নিয়ত আরবি ও বাংলা উচ্চারণ
আরবিঃ “نويت أن أصلي سنة التراويح لله تعالى”
বাংলা উচ্চারণঃ “নাওয়াইতু আন আসলি সুননাতাত-তারাওইহি লিল্লাহি তাআলা”
অর্থঃ “আমি আল্লাহর জন্য তারাবি নামাজ আদায় করার নিয়ত করলাম।”
তারাবির নামাজ সম্পর্কে ২টি হাদিস
১. ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তোমাদের প্রতি রোজা ফরজ করেছেন, আর আমি তোমাদের জন্য তারাবিহ নামাজকে সুন্নাত করেছি। যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজানে দিনে রোজা পালন করবে ও রাতে তারাবিহ নামাজ আদায় করবে, সে গুনাহ থেকে এরূপ পবিত্র হবে, যেরূপ নবজাতক শিশু মাতৃগর্ভ থেকে নিষ্পাপ অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয় ।’ (মুহাম্মাদ (সা.), নাসায়ি, পৃষ্ঠা: ২৩৯)
২. ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের উদ্দেশ্যে রমজান মাসে তারাবিহ নামাজ পড়বে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে ।’(মুহাম্মাদ (সা.), বুখারি, হাদিস: ৩৬)
তারাবি নামাজের মোনাজাত আরবি ও বাংলা উচ্চারণ
তারাবির নামাজের একটি নির্দিষ্ট দোয়া সবসময় পড়া হয়, তবে এটি পড়তে হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। ইচ্ছা করলে এ দোয়াটি পড়া যায়। আর তাহলো-
اَللَهُمَّ اِنَّا نَسْئَالُكَ الْجَنَّةَ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنَ النَّارِ يَا خَالِقَ الْجَنَّةَ وَالنَّارِ- بِرَحْمَتِكَ يَاعَزِيْزُ يَا غَفَّارُ يَا كَرِيْمُ يَا سَتَّارُ يَا رَحِيْمُ يَاجَبَّارُ يَاخَالِقُ يَابَارُّ – اَللَّهُمَّ اَجِرْنَا مِنَ النَّارِ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ- بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّحِمِيْنَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনাননার। ইয়া খালিক্বাল জান্নাতি ওয়ান নার। বিরাহমাতিকা ইয়া আঝিঝু ইয়া গাফফার, ইয়া কারিমু ইয়া সাত্তার, ইয়া রাহিমু ইয়া ঝাব্বার, ইয়া খালিকু ইয়া বার্রু। আল্লাহুম্মা আঝিরনা মিনান নার। ইয়া মুঝিরু, ইয়া মুঝিরু, ইয়া মুঝির। বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।
তারাবির নামাজের দোয়া
তারাবিহ নামাজের পর মুনাজাতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দোয়া নেই। তবে গোনাহমুক্ত জীবন লাভে তাওবা-ইসতেগফারের বিকল্প নেই।
سُبْحانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ سُبْحانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظْمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوْتِ سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِيْ لَا يَنَامُ وَلَا يَمُوْتُ اَبَدًا اَبَدَ سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ رَبُّنا وَرَبُّ المْلائِكَةِ وَالرُّوْحِ
উচ্চারণ: ‘সুবহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহানা জিল ইয্যাতি ওয়াল আঝমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিব্রিয়ায়ি ওয়াল ঝাবারুতি। সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা ইয়ানামু ওয়া লা ইয়ামুত আবাদান আবাদ; সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালায়িকাতি ওয়ার রূহ।’
তারাবিহ নামাজের ৪ রাকাআত পর পর শুধু এ দোয়াটিই পড়তে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। যে কোনো দোয়া-ই পড়া যেতে পারে। এতে তারাবিহ নামাজেরও কোনো অসুবিধা হবে না।
তারাবির নামাজ কত রাকাত
তারাবিহর নামাজ জোড়ায় জোড়ায় আদায় করা হয়। সুন্নি ইসলামের হানাফি, মালিকি, শাফি’ এবং হাম্বলি মাযহাবের মতে, রাকাতের আদর্শ সংখ্যা ২০টি এবং মুওয়াত্তা’ ইমাম মালিকের বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, “উমরের যুগে লোকেরা ২০ রাকাত আদায় করতো”।
কিন্তু উক্ত বর্ণনার পূর্বে মুওয়াত্তা’তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উমর যখন উবাই ইবনে কাব এবং তামিম আল-দারীকে তারাবীহের ইমামতি করার দায়িত্ব অর্পণ করেন, তখন তিনি তাঁদেরকে ১১ রাকাত (তারাবীহের ৮টি এবং বিতরের ৩টি) পড়ার নির্দেশ দেন। সুন্নি মুসলমানরা বিশ্বাস করে যে তারাবীহতে প্রতি রাতে কমপক্ষে একটি পারা পাঠ করে রমজানের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে খতম (“কুরআনের সম্পূর্ণ তেলাওয়াত”) দেওয়া প্রথাগত।
অর্থাৎ কেউ ৮ রাকাত, কেউ ১২ রাকাত আবার কেউ ২০ রাকাত তারাবি পড়েন। তবে মনে রাখবেন রমজান মাসে যতো বেশি ইবাতত করা হবে ততো বেশি সওয়াব হবে।
তারাবির নামাজ পড়ার নিয়ম
দুই রাকাত নামাজ আদায় করে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করা। আবার দুই রাকাত নামাজ পড়া। এভাবে ৪ রাকাত আদায় করার পর একটু বিশ্রাম নেয়া। বিশ্রামের সময় তাসবিহ তাহলিল পড়া, দোয়া-দরূদ ও জিকির আজকার করা। তারপর আবার দুই দুই রাকাত করে আলাদা আলাদা নিয়তে তারাবি আদায় করা।

[…] আরও পড়ুনঃ তারাবি নামাজ কত রাকাত […]