চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায়, ঔষধের নাম 2026

বর্তমানে চুলকানি, এলারজি একটি সাধারণ বিষয়ে হয়ে উঠেছে। চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায় থেকে সহজেই চুলকানি থেকে মুক্তি পাবেন। চুলকানি সাধারণত শুষ্ক ত্বক, অ্যালার্জি, পোকামাকড়ের কামড়, বা ছত্রাক সংক্রমণের মতো বিভিন্ন কারণে হতে পারে। এর ফলে ত্বকে লালচে ভাব, ফুসকুড়ি বা ফোলা দেখা যায়।

চুলকানি কমাতে থান্ডা সেঁক, ময়েশ্চারাইজার এবং নির্দিষ্ট ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন। দীর্ঘস্থায়ী বা গুরুতর চুলকানি হলে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আজকে আমরা চুলকানি কমানোর জন্য কিছু ঔষধ আপনাদের সাথে শেয়ার করব।

চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায়

চুলকানি একটি বিরক্তিকর সমস্যা, যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে যেমন- শুষ্ক ত্বক, অ্যালার্জি, পোকামাকড়ের কামড়, ছত্রাক সংক্রমণ ইত্যাদি। এর থেকে মুক্তি পেতে কিছু ঘরোয়া উপায় খুবই কার্যকরী । নিচে বিস্তারিতসহ কিছু উপায় বর্ণনা করা হলো:

১. নারিকেল তেল

শুষ্ক ত্বকের কারণে চুলকানি হলে নারিকেল তেল খুবই উপকারী। এটি একটি চমৎকার প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার। এর মধ্যে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বককে আর্দ্র রাখে এবং শুষ্কতার কারণে হওয়া চুলকানি প্রতিরোধ করে।

ব্যবহার পদ্ধতি:

  • খাঁটি নারিকেল তেল সামান্য গরম করে চুলকানির স্থানে আলতোভাবে মালিশ করুন।
  • এটি দিনে কয়েকবার ব্যবহার করা যেতে পারে। নিয়মিত ব্যবহারে শুষ্ক ত্বক থেকে চুলকানি কমার পাশাপাশি ত্বক নরম থাকে।

২. অ্যালোভেরা জেল

অ্যালোভেরা জেলের শীতল ও প্রদাহরোধী গুণাবলী ত্বকের জ্বালাপোড়া ও চুলকানি কমাতে খুবই কার্যকরী। এটি পোকামাকড়ের কামড় বা রোদে পোড়া ত্বকের জন্যও ভালো কাজ করে।

ব্যবহার পদ্ধতি:

  • একটি তাজা অ্যালোভেরা পাতা থেকে জেল বের করে সরাসরি চুলকানির স্থানে লাগান।
  • বাজার থেকে কেনা অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করলে নিশ্চিত করুন যে তাতে কোনো অ্যালকোহল বা কৃত্রিম সুগন্ধি নেই, যা ত্বককে আরও শুষ্ক করতে পারে।

৩. ওটমিল বাথ

ওটমিলের প্রদাহরোধী এবং প্রশান্তিদায়ক গুণাবলী চুলকানি এবং ত্বকের অস্বস্তি দূর করতে সাহায্য করে। এটি একজিমা বা সোরিয়াসিসের মতো ত্বকের রোগের কারণে সৃষ্ট চুলকানি কমাতেও সাহায্য করতে পারে।

আরও পড়ুন  Veet Cream ব্যবহারের নিয়ম, সুবিধা ও অসুবিধা

ব্যবহার পদ্ধতি:

  • এক কাপ কোলোইডাল ওটমিল (সাধারণ ওটমিলকে মিহি গুঁড়ো করে) একটি হালকা গরম পানির বাথটাবে মিশিয়ে নিন।
  • এরপর ১৫-২০ মিনিট ওই পানিতে শরীর ডুবিয়ে রাখুন। গোসলের পর ত্বক নরম করে মুছে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।

৪. বেকিং সোডা

বেকিং সোডা একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক। এর ক্ষারীয় বৈশিষ্ট্য ত্বকের pH ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা চুলকানি কমাতে পারে। এটি পোকামাকড়ের কামড় বা হালকা র‍্যাশের জন্য ভালো কাজ করে।

ব্যবহার পদ্ধতি:

  • তিন ভাগ বেকিং সোডার সাথে এক ভাগ পানি মিশিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করুন।
  • এই পেস্টটি চুলকানির স্থানে ১৫-২০ মিনিটের জন্য লাগিয়ে রাখুন এবং পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৫. থান্ডা সেঁক

চুলকানির স্থানে থান্ডা সেঁক দিলে তাৎক্ষণিক আরাম পাওয়া যায়। এটি ত্বকের ফোলাভাব ও লালচে ভাব কমাতেও সাহায্য করে।

ব্যবহার পদ্ধতি:

  • একটি পরিষ্কার কাপড় ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে হালকাভাবে নিংড়ে নিন।
  • এরপর এটি চুলকানির জায়গায় ১০-১৫ মিনিটের জন্য ধরে রাখুন। প্রয়োজনে এটি পুনরায় ব্যবহার করা যেতে পারে।

৬. নিম পাতা

নিম একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান। এটি দাদ, চুলকানি ও অন্যান্য চর্মরোগের উপশমে খুবই কার্যকর।

ব্যবহার পদ্ধতি:

  • নিম পাতা পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি ঠান্ডা করে গোসলের সময় ব্যবহার করুন।
  • এছাড়াও নিম পাতা বেটে পেস্ট তৈরি করে চুলকানির স্থানে লাগাতে পারেন।

উপরোক্ত ঘরোয়া উপায়গুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কার্যকরী হলেও, যদি চুলকানি দীর্ঘস্থায়ী হয়, আরও খারাপের দিকে যায়, বা সাথে জ্বর, ফোলাভাব বা অন্য কোনো গুরুতর লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

চুলকানি দূর করার ঔষধের নাম 

১. অ্যান্টিহিস্টামিন: অ্যালার্জি বা পোকামাকড়ের কামড়ের কারণে হওয়া চুলকানির জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।

উদাহরণ: Cetirizine, Loratadine, Fexofenadin (ট্যাবলেট)।

২. কর্টিকোস্টেরয়েড ক্রিম: একজিমা বা প্রদাহজনিত ত্বকের সমস্যায় এটি ব্যবহৃত হয়।

আরও পড়ুন  সহজে চুলের খুশকি দূর করার উপায় 2026

উদাহরণ: Hydrocortisone, Betamethasone (ক্রিম)।

৩. অ্যান্টিফাঙ্গাল বা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ঔষধ: ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে চুলকানি হলে এটি ব্যবহার করা হয়।

উদাহরণ: Clotrimazole (অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিম)।

৪. লরিক্স প্লাস লোশন: লরিক্স প্লাস লোশন চুলকানির দারুন কাজ করে। বাজারে যেকোনো ফার্মেসিতে এই লোশন পেয়ে যাবেন। বর্তমানে এটি দাম ২০০ টাকা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ: যেকোনো ঔষধ ব্যবহারের আগে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

We will be happy to hear your thoughts

Leave a reply

Amar Sikkha
Logo