
২০২৬ সালের ষষ্ঠ থেকে একাদশ শ্রেণির উপবৃত্তির আবেদন ফরম প্রকাশ করেছে, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা সহায়িতা ট্রাস্ট। এখন থেকে এই আবেদন ফরমে সকল শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ আবেদন করতে হবে।
বাংলাদেশ সরকারের সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় ষষ্ঠ থেকে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির আবেদন প্রক্রিয়া সাধারণত প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট সময়ে শুরু হয়। এই আবেদন ফরম পূরণ এবং জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম ও প্রয়োজনীয় তথ্যের প্রয়োজন হয়। আজকে আমরা এই পোস্টে সবগুলো দিক আলোচনা করব।
ষষ্ঠ থেকে একাদশ শ্রেণির উপবৃত্তির আবেদন ফরম
আবেদন ফরম পূরণ করার সময় সাধারণত নিচের তথ্যগুলো নির্ভুলভাবে শিক্ষার্থীদের পূরণ করতে হবে:
-
শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য: নাম (জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী), জন্ম নিবন্ধন নম্বর (১৭ ডিজিট), জন্ম তারিখ, লিঙ্গ এবং স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা।
-
পিতামাতার তথ্য: পিতা ও মাতার নাম, তাদের এনআইডি (NID) নম্বর এবং মোবাইল নম্বর।
-
পূর্ববর্তী শিক্ষার তথ্য: শিক্ষার্থী যে স্কুল বা মাদ্রাসা থেকে পাস করেছে তার নাম, রোল নম্বর, জিপিএ এবং পাসের সন।
-
বর্তমান শিক্ষার তথ্য: বর্তমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম, ইআইআইএন (EIIN) নম্বর, শ্রেণি, শাখা এবং রোল নম্বর।
মনে রাখতে হবে যদি কোনো তথ্য ভুল দেওয়া হয় তাহলে উপবৃত্তি পাওয়া যাবে না, সেই সাথে আইনের আওয়তায় আনা হতে পারে। সেই সাথে উপবৃত্তির টাকা সরাসরি মোবাইল ব্যাংকিং নগদ বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে, তাই এই অংশটি খুব সতর্কতার সাথে পূরণ করতে হবে।
-
হিসাবধারীর নাম: যার নামে অ্যাকাউন্ট (পিতা/মাতা/অভিভাবক)।
-
অ্যাকাউন্ট নম্বর: বিকাশ, নগদ, রকেট বা যেকোনো অনলাইন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর।
-
মোবাইল নম্বর: সচল একটি মোবাইল নম্বর যা পেমেন্ট গেটওয়ের সাথে যুক্ত।
৬ষ্ঠ থেকে ১১শ শ্রেণির উপবৃত্তির আবেদন ফরম
মনে রাখতে হবে, সব শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারলেও উপবৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ অগ্রাধিকার থাকে:
-
অসহায়, এতিম বা ভূমিহীন পরিবারের সন্তান।
-
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) শিক্ষার্থী বা তাদের সন্তান।
-
দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান বা নাতি-নাতনি।
-
নদী ভাঙন বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।


উপবৃত্তির আবেদনের নিয়ম
বর্তমানে উপবৃত্তির আবেদন প্রক্রিয়া মূলত অনলাইন ভিত্তিক। সাধারণত নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করা হয়:
১. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মূল আবেদন ফরম সংগ্রহ করে তা হাতে লিখে পূরণ করতে হয়।
২. পূরণকৃত ফরমের সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (যেমন: জন্ম নিবন্ধন ও এনআইডির ফটোকপি) সংযুক্ত করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জমা দিতে হয়।
৩. পরবর্তীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের তথ্যগুলো HSP-MIS (Harmonized Stipend Program) পোর্টালে এন্ট্রি করে।
