
বর্তমানে ১০ হাজার টাকার মধ্যে নতুন ব্যবসা শুরু করা মটেই সহজ কাজ না। তবে আজকে ১০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া আপনাদের সাথে শেয়ার করব। এখান থেকে হয়তো বেশি টাকা আয় করতে পারবেন না তবে আস্তে আস্তে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে বেশি টাকা আয় করতে পারবেন।
বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র হওয়াতে আমি আপানাদের ব্যবসা সম্পর্কে বেশ ভালো ধারণা দিতে পারব বলে আশাকরছি তাই এসব আইডিয়া নিশ্চিন্তে গ্রহন করতে পারেন। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন।
১০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া
১। ব্যক্তিগত কোচিং সেবা: আপনি যদি কোনও ক্ষেত্রে দক্ষ হন, তাহলে আপনি ব্যক্তিগত কোচিং সেবা প্রদান করতে পারেন।
২। অনলাইন টিচিং প্ল্যাটফর্ম: আপনি যদি কোনও বিষয়ে দক্ষ হন এবং শিক্ষণ দেতে চান, তাহলে আপনি অনলাইন টিচিং প্ল্যাটফর্মে শিক্ষণ দিতে পারেন।
৩। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরামর্শ: আপনি যদি স্বাস্থ্য সম্পর্কিত জ্ঞান থাকেন, তাহলে আপনি ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরামর্শ প্রদান করতে পারেন।
৪। ফুড ট্রাক: যদি আপনি কুকিং ভালবাসেন, তাহলে আপনি নিজের ফুড ট্রাক চালাতে পারেন। এটি একটি অনুষ্ঠানিক রেস্তোরাঁর সমান ব্যবসা অপর্যাপ্ত মূল্যে শুরু করার সুযোগ প্রদান করে। ফুড ট্রাক সাথে সাথে আপনার ব্যবসা স্থান পরিবর্তন করতে পারে, যাতে আপনি সেখানে অধিক প্রচার এবং ক্রেতাদের প্রয়োজনীয় খাবার প্রদান করতে পারেন। তাই আপনি ১০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া তে এই ব্যবসাটি অবশ্যই যোগ করতে পারেন।
৫। পোশাক এবং টেক্সটাইল: বাংলাদেশ পোশাক এবং টেক্সটাইল উদ্যোগে পরিচিত। আপনি পোশাক উৎপাদন ব্যবসা শুরু করে আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাক এক্সপোর্ট করতে পারেন।
৬। পাট প্রোডাক্ট: পাট বাংলাদেশে অধিকাংশ পাওয়া যায়। এক্সপোর্টের জন্য পাটের ব্যবহার করে পাটের ব্যাগ, গুলি, বা অন্য পাট ভিত্তিক প্রোডাক্ট তৈরি করতে পারেন।
৭। চামড়া প্রোডাক্ট: চামড়া প্রোডাক্ট যেমন জুতা, ব্যাগ, ও ওয়ালেট এক্সপোর্টের জন্য অধিক চাহিদা আছে। আপনি চামড়া প্রোডাক্ট উৎপাদন করে এক্সপোর্ট করতে পারেন।
৮। ফ্রোজেন সিফুড: বাংলাদেশে সমৃদ্ধ মাসুদ সম্পদ রয়েছে। এক্সপোর্টের জন্য ফ্রোজেন মাছ, চিংড়ি, এবং অন্যান্য সিফুড প্রোডাক্ট তৈরি করতে পারেন।
৯। ব্যক্তিগত ব্লগ:
আপনি নিজের ব্লগ শুরু করে লেখা লিখতে পারেন। ব্লগ থেকে আপনি অনলাইনে আয় করতে পারেন। এটি শুরু করার জন্য আপনার অনলাইন সম্পর্কে ধারনা থাকতে হবে। কনটেন্ট রাইটিং বা লেখালেখিতে আপনার দক্ষতা থাকতে হবে। আর কিছু জানার জন্য আপনি অনলাইন বিভিন্ন কোর্স আছে যেটা অংশগ্রহণ করতে পারেন। তবে হ্যাঁ আপনার যদি কোন বিশেষ বিষয় জ্ঞান বা দক্ষতা থাকে তাহলে আপনি ভালো লিখতে পারবেন অন্যথায় শুধুমাত্র ওয়েবসাইট ঘাটাঘাটি করে অন্যের লেখা নকল করে বা রিরাইট করে বেশিদূর যাওয়া যাবে না।
১০। ট্রাভেল এজেন্সি: ট্রাভেল এজেন্সি হিসেবে ব্যবসা শুরু করে আপনি ট্রিপ বুকিং এবং হোটেল বুকিং সেবা প্রদান করতে পারেন।
১১। কাঁসা পিতলের ব্যবসা: কাঁসা এবং পিতলের ব্যবসা অনেক লাভজনক হতে পারে। এই ব্যবসা আপনি অনলাইনে বা অফলাইনে করতে পারেন।
১২। অনলাইন ইন্টেরিয়র ডিজাইন: আপনি অনলাইন ইন্টেরিয়র ডিজাইন সেবা প্রদান করতে পারেন। এটি আপনাকে ঘরে বসে কাজ করতে দেয় এবং আপনি আপনার গ্রাহকের প্রাথমিক আবাসন প্রয়োজনীয়তা অনুসারে ডিজাইন করতে পারেন।
১৩। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ব্যবসা: মুদি দোকান, ফার্মেসি, স্টেশনারি সেবা প্রদান করা যেতে পারে।
১৪। সেবা ব্যবসা: সেলুনে চুল কাটা, মেকআপ সেবা প্রদান করা যেতে পারে।
১৫। অনলাইন ব্যবসা: অনলাইন শপিং, ফ্রিল্যান্সিং, ইত্যাদি।
১৬। গুগল রিভিউ লেখা: আপনি গুগল রিভিউ লেখে অনলাইনে টাকা উপার্জন করতে পারেন।
১৭। ক্যাটারিং/টিফিন ব্যবসা: খাবারের ব্যবসা, যেখানে আপনি পার্টি, ইভেন্ট, বিয়ে, অথবা দৈনিক টিফিন সরবরাহ করতে পারেন।
১৮। অনলাইন গ্রসারি ব্যবসা: অনলাইনে মুদি দোকান চালানো, যেখানে মানুষরা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারেন।
১৯। টিউটরিং ব্যবসা: অনলাইন শিক্ষক হিসেবে কাজ করা, যেখানে আপনি শিক্ষার্থীদের পড়াতে পারেন।
২০। খাবারের ব্যবসা:
বর্তমানে ঘরে তৈরি বা বাসার খাবারের কদর দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। যারা ভালো খাবার তৈরি করতে পারে অথবা বিভিন্ন ধরনের পিঠা কেক তৈরি করতে পারে তারা খাবারের ব্যবসা শুরু করতে পারেন। তবে এ ব্যবসা শুরু করার জন্য আপনাকে আগে বেশ কিছু নিজস্ব পরিমাণ বলে কাস্টমার থাকতে হবে। তারা আপনার খাবার সম্বন্ধে প্রচার করবে যদি ভালো খাবার তৈরি করতে পারেন তাহলে এমনিতেই আপনার খাবারের কদর এবং প্রচার বেড়ে যাবে। বাসায় তৈরি শুধুমাত্র খাবার নয় আপনি বিভিন্ন ধরনের জন্মদিনের কেক পিঠা পায়েস তৈরি করতে পারেন। বিভিন্ন ধরনের ফেসবুক পেজ তৈরি করে সেখানে প্রচার করলে অনেকেই আপনার খাবার অর্ডার দিবে।
২১। ফুলের দোকান
বাংলাদেশে সাধারণত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিশেষ করে পহেলা বৈশাখ, পূজা, ভ্যালেন্টাইন্স ডে, নববর্ষ, একুশে ফেব্রুয়ারি, বিজয় দিবস সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান উদযাপনের জন্য ফুলের ব্যবহার হয়। এ সমস্ত উৎসব ছাড়াও সারা বছরই বিভিন্ন প্রয়োজনে বিশেষ করে বিয়ে উৎসব ও অন্যান্য প্রয়োজনে মানুষ ফুল ব্যবহার করে থাকে।
ফুল সাধারণত মালা হিসাবে, তোড়া হিসেবে, বুকেট বা বিভিন্ন ধরনের মোড়কে বিক্রি করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন মৌসুমে বাংলাদেশের ফুলের চাহিদা বেড়ে যায় বিশেষ করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। আপনি খুব কম টাকায় ছোট আকারে ফুলের দোকান করতে পারেন। এমনকি পাইকারি দামে ফুল আপনার দোকানে দিয়ে যাবে।
আপনাকে যেটা করতে হবে ফুলগুলোকে মাল আকারে বুকেট বা প্যাকেট আকারে সাজিয়ে বিক্রি করতে হবে। এছাড়া গাড়ি গিয়ে অনুষ্ঠান সাজিয়ে বেশ মুনাফা অর্থ অর্জন করা যায়। ছোট আকারে শুরু করা যায় একটি অন্যতম নতুন ব্যবসা আইডিয়া।
২২। হ্যান্ডমেড পণ্য
আপনার যদি হাতে পণ্য তৈরি করার দক্ষতা থাকে তাহলে আপনি সে পণ্যগুলোকে অনলাইনে বা বাজারে বিক্রি করতে পারেন। বিশেষ করে এখন আড়ং বা এ ধরনের প্রতিষ্ঠান হাতে তৈরি পণ্য ক্রয় করে থাকে।
২৩। বাচ্চাদের জন্য হোমমেড খাবার
আপনার যদি রান্নার বা খাবার তৈরির দক্ষতা থাকে তাহলে আপনি বিভিন্ন অফিস টিফিনে খাবার সরবরাহ করতে পারেন। কারণ বর্তমানে স্বাস্থ্যগত বিষয়ে বিবেচনায় অনেকেই হ্যান্ডমেড বা হোমমেড খাবার পছন্দ করে থাকে, এ ধরনের খাবারের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
২৪। ই-কমার্স দক্ষতা শেখানো
আপনি অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বিপণি করতে এবং অনলাইন কোর্সের মাধ্যমে হোম-বেসড ই-কমার্স দক্ষতা শেখাতে পারেন। এটি সময়ের সাথে মিলিয়ে তাদের বিক্রয় বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে।
২৫। ফটোগ্রাফি সেবা
আপনি যদি ফটোগ্রাফির শখে প্রফেশনাল হোন, তাদের সেবা প্রদান করার জন্য দরকারি সামগ্রী নিয়ে একটি ছোট ব্যবসা শুরু করতে পারেন। বিশেষত, প্রস্তুতি থাকতে পারেন ছবি সম্পাদনা বা অলকার কাজে।
২৬। ভিন্ন ধরণের ক্যান্ডি তৈরি
আপনি হোমমেড ক্যান্ডি বা মিষ্টি তৈরি করে স্থানীয় বাজারে বিক্রয় করতে পারেন। মিষ্টির প্রেমিকদের জন্য অসীম সম্ভাবনা আছে!
অল্প টাকায় নতুন ব্যবসা আইডিয়া
১। গার্ডেনিং সাধারণ টিপস
আপনি অল্প মূল্যে একটি গার্ডেনিং সাধারিত সামগ্রী সরবরাহ করতে পারেন, যা স্থানীয় লোকদের জন্য উপযোগী হতে পারে। এটি প্রস্তুতি থাকতে পারে ফুল, সজানো গাছ, বা ছোট বৃক্ষ।
২। ক্যান্ডল তৈরি
আপনি স্বয়ংক্রিয়াভাবে ক্যান্ডল তৈরি করতে পারেন এবং তাদের বাজারে বিক্রয় করতে পারেন। হাতেমধুর সাথে মিলিয়ে আপনি বিভিন্ন রং এবং গন্ধের ক্যান্ডল তৈরি করতে পারেন।
৩। দোকানে দুধ প্রদান
আপনি হোমমেড দুধ বা দুধ পণ্য তৈরি করে তাদের স্থানীয় বাজারে বিক্রয় করতে পারেন। এটি স্থানীয় কৃষকদের পণ্যগুলি পূর্ণতা এবং প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদন করা যাবে তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করতে পারে।
৪। মোবাইল রিপেয়ার
আপনি মোবাইল এবং অন্যান্য ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস মেন্টেনেন্স এবং রিপেয়ার করার জন্য একটি ছোট কারখানা শুরু করতে পারেন। এটি অল্প খরচে একটি কারিগরের সাথে শুরু করা যেতে পারে।
৫। চায়ের দোকান:
প্রতিদিনের আড্ডায় সকালে কিংবা বিকালে এক কাপ চা না হলে চলেই না। ছোট-বড় ধনী গরীব শ্রমিক থেকে শুরু করে সব শ্রেণীর মানুষ প্রতিদিন চায়ের দোকানে ভিড় করে। আর তাই বাংলাদেশে চা বিক্রি একটি লাভজনক ব্যবসা। খুব কম টাকায় ব্যবসা শুরু করা যায় শুধুমাত্র চা চিনি আর সামান্য কিছু জিনিস নিয়েই এ ব্যবসা শুরু করা যায়।
তবে এ ব্যবসায় মুনাফা করার জন্য একটু ভিন্নমাত্রা ও ভিন্ন আইডিয়া দিয়ে শুরু করা যেতে পারে যেমন:
সাধারণত দোকানগুলোতে দুধ চা ও লাল চা বিক্রি হয়ে থাকে। সেখানে আপনি যদি তেজপাতা চা, লেমন টি ,পুদিনা পাতার চা, কালোজিরা চা, মালটা চা, গরুর দুধের চা, মালাই চা, আদা চাসহ ভিন্ন ফ্লেভার ও ভিন্ন স্বাদের বিভিন্ন ধরনের চা বিক্রি করেন তাহলে আপনার দোকানে ক্রেতা সামলানো মুশকিল হবে। এই ব্যবসাটি আপনি ১০০০০ টাকা বা তার কমেও শুরু করতে পারবেন।
