
প্রিয় শিক্ষার্থীরা তোমরা যারা স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস বই pdf খুঁজছ তোমাদের জন্য আজকের আমাদের পোস্ট। এখান থেকে এই বইটি pdf আকারে পেয়ে যাবে, এবং খুব সহজেই সংগ্রহ করতে পারবে।
অনার্স ১ম বর্ষে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস বইটি সকল বিভাগের থাকে ফলে সবাইকে কিনতে হয়। তবে, অনেকের সময় না থাকায় বইটি কিনতে পারে না তাই আমরা এখানে ফ্রি pdf দিয়ে এখান থেকে ডাউনলোড করে পড়তে পারবে।
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস বই pdf
সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও দ্বিজাতি তত্ত্ব: উদ্ভব ও বিকাশ
১৯৪৭ সালেই যে সাম্প্রদায়িকতার উদ্ভব হলো তা নয়। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে বৃটিশ শাসকরা সাম্প্রদায়িকতা বিভিন্ন ফর্মে আমদানি করেছিলেন। যেমন ব্রিটিশ সিভিলিয়ান ও ঐতিহাসিক আলফ্রেড লায়াল সবসময় ভারতীয় সমাজ কাঠামোর ভিত্তি হিসেবে বর্ণ ও ধর্মকে মাপকাঠি হিসেবে ধরেছিলেন। তাঁর মতে, ভারতীয় সমাজের চাবিকাঠি হলো ধর্ম। শুধু তাই নয় ব্রিটিশ শাসনের স্বার্থে এগুলিকে অক্ষুন্ন রাখা উচিত। তিনি আরো লিখেছিলেন (১৮৭২), ভারতের চব্বিশ কোটি লোক রক্ত বর্ণ ও ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত। সুতরাং, এই বিভক্তি যাব্রিটিশ শাসনের স্তম্ভ তা অটুটি রাখাই শ্রেয় এবং তা ১৯৪৭ পর্যন্ত তারা তা রেখেছিলও।
উনিশ শতকের শেষার্ধে কংগ্রেস ও বিশ শতকের শুরুতে মুসলিম লীগের উদ্ভব। কংগ্রেস ক্রমেই ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ধারক বাহক হয়ে ওঠে, মুসলিম লীগ প্রথমে মুসলমানদের স্বার্থের ধারক বাহক হয়ে উঠলেও পরে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান আন্দোলনের অগ্রদূত হয়ে ওঠে। এর বিপরীতে আবার হিন্দুত্ববাদী সংগঠন সমূহের উদ্ভব হয়। বিশ শতকের গোড়ার দিক পর্যন্ত যা ছিল আপাতদৃষ্টিতে সরল রাজনীতি তা হয়ে ওঠে জটিল।
এ সময় রাজনীতির আরেকটি ধারা তরুণদের উজ্জীবিত করেছিল যা আমাদের ইতিহাস আলোচনায় সাধারণতঃ এড়িয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ভারতীয়/বাংলা/পূর্ববঙ্গের ইতিহাস আলোচনায় এই ধারা যা মার্কসবাদী বা বামধারা হিসেবে পরিচিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তৎকালীন তরুণদের (রুশ বিপ্লবের পর) এই ধারা দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। এই ধারা কৃষক-শ্রমিক স্বার্থ সংহত করেছে, অসাম্প্রদায়িকতার ভিত্তি স্থাপনে সচেষ্ট থেকেছে। কিন্তু অন্তিমে কংগ্রেস ও মুসলিম রাজনীতির দ্বৈরথে এটি শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারেনি। কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ সামগ্রিকভাবে এই ধারার আধিপত্যের বিরোধী ছিল। এই পর্বে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ১৯৪০ সালে লাহোর প্রস্তাব যা পাকিস্তান প্রস্তাব হিসেবেও পরিচিত। এরপরই পাকিস্তান আন্দোলন জোরদার হয়ে ওঠে ও ভারত বিভক্ত হয়ে দুটিই রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়- ভারত ও পাকিস্তান।
আমাদের জাতীয় ইতিহাসে ১৯৪৭ সাল গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি হিসেবে আমরা বিবেচনা করি ১৯৪৭ থেকে পরবর্তী ২৪ বছর। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হওয়ার সময় আরেকটি ঘটনা ঘটে তাইলো অভিন্ন বাংলাকে নিয়ে আরেকটি রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব। এ বিষয়টি আমাদের ইতিহাসে প্রায় অনালোচিত। আমাদের পটভূমি রচনায় এই বিষয়টিকে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। বাঙালির আলাদা রাষ্ট্র গঠনের এটিই প্রথম প্রস্তাব।
এ প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে কংগ্রেস নেতা শরৎ বসু ও মুসলিম লীগ নেতা শহীদ সোহরাওয়ার্দী যৌথভাবে এ প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মূল নেতৃত্ব এই প্রস্তাব নাকচ করে দেয়।
