
পৃথিবীর সকল স্তন্যপায়ী প্রাণীর স্তন রয়েছে যার সাহায্যে ফিমেইল প্রাণী তাদের সন্তানদের দুধ খাওয়ার। অনেক সময় আমাদের কাছে প্রশ্ন আসে স্তন ব্যথা করে কেন? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া অনেকটাই মুশকিল কারণ বিভিন্ন কারণে এই ঘটতে পারে সেই দিক থেকে যদি বলা যায় তাহলে,
সাধারণত, এই ব্যথা দুই ধরনের হয় সাইক্লিক্যাল যা মাসিকের সাথে সম্পর্কিত এবং নন-সাইক্লিক্যাল যা মাসিক চক্রের সাথে সম্পর্কিত নয়। নিচে বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলোঃ
স্তন ব্যথা করে কেন তার কারণ
যে দুই কারণে স্তন ব্যথা করে, সাইক্লিক্যাল এবং ননসাইক্লিক্যাল।
সাইক্লিক্যাল স্তন ব্যথা
এটি একটি সাধারণ স্তন ব্যথা। এই ব্যথা মাসিক চক্রের হরমোন পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত।
- কারণ: মাসিক চক্রের মাঝামাঝি সময়ে ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা স্তন টিস্যুতে ফোলাভাব এবং সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে তোলে।
- লক্ষণ: সাধারণত মাসিক শুরু হওয়ার এক থেকে দুই সপ্তাহ আগে ব্যথা শুরু হয় এবং মাসিক শুরু হলে তা কমে যায়। এই ব্যথা সাধারণত উভয় স্তনেই হয় এবং স্তনের উপরের ও বাইরের অংশে বেশি অনুভূত হয়। ব্যথা চাপা বা ভারী ধরনের হতে পারে।
নন-সাইক্লিক্যাল স্তন ব্যথা
এই ধরনের ব্যথা মাসিক চক্রের সাথে সম্পর্কিত নয়। এর কিছু সম্ভাব্য কারণ নিচে দেওয়া হলো:
- স্তন ফাইব্রোসিস বা সিস্ট: স্তনে নিরীহ সিস্ট বা ফাইব্রোসিস থাকলে ব্যথা হতে পারে। এগুলো সাধারণত ক্যান্সার নয়।
- স্তন আঘাত: সরাসরি আঘাত, যেমন খেলাধুলা বা দুর্ঘটনার কারণে স্তনে আঘাত লাগলে ব্যথা হতে পারে।
- বুকের পেশী বা হাড়ের সমস্যা: স্তনের নিচে থাকা বুকের পেশী বা পাঁজরের হাড়ে কোনো সমস্যা হলে ব্যথা স্তনে ছড়িয়ে যেতে পারে।
- ঔষধ: কিছু ঔষধ, যেমন জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল বা কিছু অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট, স্তন ব্যথার কারণ হতে পারে।
- অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ঔষধ: NSAID-এর মতো কিছু ঔষধও স্তন ব্যথার কারণ হতে পারে।
- অপর্যাপ্ত ব্রা: ভুল মাপের বা অপর্যাপ্ত ব্রা পরলে স্তনে চাপ পড়ে ব্যথা হতে পারে।
- স্তন ক্যান্সার: সাধারণত স্তন ব্যথার প্রধান কারণ ক্যান্সার নয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি স্তন ক্যান্সারের একটি লক্ষণ হতে পারে, বিশেষ করে যদি ব্যথা একটি নির্দিষ্ট স্থানে হয় এবং সময়ের সাথে সাথে সেটি না কমে।
অতিরিক্ত ব্যথা হলে সরাসরি ডাক্তারের পরামর্শ নিন। আপনার সুস্থতাই আমাদের একান্ত কাম্য।
স্তন ক্যান্সারের কারণ
স্তন ক্যান্সারের বিভিন্ন কারণ থাকলেও এর মধ্যে প্রধান কিছু কারণ নিচে দেওয়া হয়েছে-

১. বয়স: বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়ে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ৫০ বছরের বেশি বয়সী মহিলাদের মধ্যে এই রোগ ধরা পড়ে। এছাড়াও যাদের বুকে রেডিয়েশন থেরাপি দেওয়া হয়েছে, তাদের ঝুঁকি বেশি।
২. বংশগত বা জেনেটিক কারণ: প্রায় ৫-১০% স্তন ক্যান্সার জিনগত পরিবর্তনের কারণে হয়। যাদের BRCA1 বা BRCA2-এর মতো নির্দিষ্ট জিনে মিউটেশন থাকে, তাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক বেশি। যদি পরিবারের কোনো প্রথম সারির আত্মীয় (মা, বোন বা মেয়ে) স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তাহলে ঝুঁকি বেড়ে যায়।
৩. মাসিক চক্র: যেসব মহিলাদের খুব অল্প বয়সে মাসিক শুরু হয় (১২ বছরের আগে) এবং দেরিতে মেনোপজ হয় (৫৫ বছরের পরে), তাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি। কারণ, তাদের শরীর দীর্ঘ সময় ধরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের সংস্পর্শে থাকে।
স্তন ক্যান্সারের আরও কিছু কারণ
১. ওজন: অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়, বিশেষ করে মেনোপজের পর। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত টিস্যু ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা কিছু ধরনের ক্যান্সারের বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করে।
২. খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকির সাথে যুক্ত।
৩. শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা: নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ামের অভাবে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।
৪. অ্যালকোহল সেবন: অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন স্তন ক্যান্সারের একটি উল্লেখযোগ্য ঝুঁকির কারণ।
৫. তামাক সেবন: ধূমপান বা তামাকজাত দ্রব্য সেবন স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
৬. হরমোন থেরাপি: মেনোপজের পরে যেসব মহিলারা দীর্ঘদিন ধরে হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (HRT) নেন, তাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কিছুটা বাড়তে পারে।
৭. গর্ভধারণ এবং স্তন্যপান: যেসব মহিলা সন্তান ধারণ করেননি, বা দেরিতে প্রথম সন্তান ধারণ করেছেন (৩০ বছরের পর), তাদের ঝুঁকি কিছুটা বেশি। অন্যদিকে, যারা সন্তানকে বুকের দুধ খাইয়েছেন, তাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কিছুটা কম।
মনে রাখবেন, ঝুঁকির কারণ থাকলেই যে স্তন ক্যান্সার হবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। আবার অনেক ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকির কারণ না থাকলেও এই রোগ হতে পারে। তাই নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা খুবই জরুরি।
