
আমরা বাঙালি, বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। বেশিরভাগ সাইন্স ফিকশন গল্প pdf বিদেশি ভাষায় হওয়াতে আমাদের পড়তে সমস্যা হয়ে থাকে কিন্তু আজকে আমরা বেশ কিছু সাইন্স ফিকশন গল্পের বই আপনাদের সাথে শেয়ার করব, যেগুলো বাংলাতে পাওয়া যাবে।
সেরা কয়েকটি সাইন্স ফিকশন বই যেগুলো আপনাদের পড়া উচিত বলে আমি মনে করি। চলুন তাহলে সে সকল বই সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যাক এবং কিভাবে ডাউনলোড করবেন সেটি দেখে নেওয়া যাক।
সাইন্স ফিকশন গল্প PDF ডাউনলোড
আজকে আমরা আইজেক আজিমভের সাইন্স ফিকশন-১ আপনাদের সাথে শেয়ার করব এটি সম্পূর্ণ বাংলায় pdf পাওয়া যাচ্ছে। আপনি চাইলে আমাদের এখান থেকে পিডিএফ ফাইলটি ডাউনলোড করতে পারেন, নীচে লিংক দেওয়া হয়েছে। চলুন গল্পটির কিছু অংশ পড়া যাক-
সারো ভার্সিটির ডিরেক্টর অ্যাটন ৭৭-এর ক্রুদ্ধ মূর্তি দেখেও কোনো ভাবান্তর ঘটল না সাংবাদিক থেরেমন ৭৬২-র। পেশার খাতিরেই এসবে অভ্যস্ত সে। তার ওপর জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা হয় বেশি খেয়ালি, কাজেই আমল দিল না। গত দু মাস ধরে লোকটার অদ্ভুত কথাবার্তার ভেতরের সার জানতে হবে, তাই তার ইন্টারভিউ নিতে এসেছে থেরেমন ৭৬২।
এখন তার মেজাজ-মর্জির দিকে তাকাবার সময় নেই।
‘স্যার,’ ডিরেক্টর বললেন, ‘আপনি আপনার যে শয়তানি মতলব নিয়ে এসেছেন, তার…’
অবজার্ভেটরির টেলিফটোগ্রাফার বীনে ২৫ বাধা দিল, ‘স্যার, শত হলেও…
‘কথার মধ্যে বাধা দেবে না,’ একদিকের সাদা ভুরু উঁচু করে তাকে
দেখলেন অ্যাটন ৭৭। ‘তুমি এঁকে নিয়ে এসেছ, ঠিক আছে, আমি মেনে নিয়েছি। কিন্তু অবাধ্যতা গোছের কিছু করতে যেয়ো না, সেটা সহ্য করব না।’
থেরেমন ভাবল মুখ খোলার এটাই সময়, ‘ডিরেক্টর অ্যাটন আপনি যদি আমার বক্তব্য শেষ করার অনুমতি দেন…’
‘আপনার কোনো কথার মূল্য নেই এখন, ইয়ংম্যান। আপনি পত্রিকায় যে কলাম লেখেন, গত দু মাসের ঘটনাবলির সঙ্গে তার কোনো তুলনাই হয় না। আমার এবং আমার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে বলতে গেলে রীতিমতো প্রচারণা যুদ্ধে নেমেছেন আপনি, কিন্তু যে ভীতি দূর করতে জনগণকে সংঘবদ্ধ করতে চেয়েছেন, তা ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের হাসির পাত্র করে তুলতে চেয়েছেন।’
টেবিল থেকে এক কপি ‘সারো সিটি ক্রনিকল’ তুলে নিয়ে ক্রুদ্ধ ভঙ্গিতে ঝাঁকালেন। ‘আজ যা ছাপা হয়েছে, তাতে আপনার মতো নির্লজ্জেরও উচিত ছিল এখানে আসতে দ্বিধা করার। আপনারা, সব সাংবাদিকের।’
পত্রিকা মেঝেতে ফেলে দিয়ে জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন। ‘আপনি যেতে পারেন,’ বলে গম্ভীর চেহারায় তাকিয়ে থাকলেন এ গ্রহের ছয় সূর্যের সবচেয়ে উজ্জ্বল অস্তমিত গামার দিকে। দিগন্তের হালকা কুয়াশার ছোঁয়ায় হলুদ হয়ে গেছে ওটার আলো। অ্যাটন জানেন, আর কোনদিন ওটাকে দেখতে পাবেন না তিনি। অন্তত মানুষ হিসেবে।
দ্রুত ঘুরলেন তিনি, ‘না দাঁড়ান। যাবেন না। আসুন, আপনি যা জানতে চান বলছি।
যাওয়ার কোন লক্ষণই ছিল না সাংবাদিকের মধ্যে, ধীরপায়ে বৃদ্ধের দিকে এগোল সে। বাইরের দিকে ইঙ্গিত করলেন তিনি, ‘ছয় সূর্যের মধ্যে কেবল বেটা আছে আকাশে, দেখলেন তো?’
অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন থেরেমন অবশ্যই দেখতে পাচ্ছে। একদম মাথার ওপর রয়েছে বেটা, টকটকে লাল আলো ছড়াচ্ছে। আজ ওটাকে বেশ ছোট দেখাচ্ছে, এত ছোট কখনো দেখেনি থেরেমন। যদিও ওটাই এখন লাগাশের একচ্ছত্র শাসক। লাগাশের নিজস্ব সূর্য আলফা। তাকে কেন্দ্র করে ঘোরে লাগাশ। ওটা রয়েছে উলটোদিকে। তার দূরাগত অন্য দুই সঙ্গীও থাকে ওদিকে। বেটার অবস্থান অন্যখানে।
সাংবাদিকের দিকে ঘুরলেন অ্যাটন। ‘আর মাত্র চার ঘণ্টা, তারপর সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে। ছেপে দিন খবরটা, যদিও তা পড়ার কেউ থাকবে না সকালে।’
‘কিন্তু যদি তা না হয়?’ বলল থেরেমন।
‘অবশ্যই হবে।’
‘শুনছি। তারপরও যদি না হয়?’
দ্বিতীয়বারের মতো কথা বলে উঠল বীনে। ‘স্যার, ওর কথা আপনার শোনা উচিত।’
‘ভোটাভুটি হলে কেমন হয়?’ খেরেমন প্রস্তাব দিল।
