
সাধারণভাবে একজন কতোটুকু লম্বা হবে তা বেশ কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে যেমন জেনেটিক বা বংশীয় বৈশিষ্ট্য ও পিতা মাতার উচ্চতা। তবে লম্বা হওয়ার দোয়া পড়ে মহান আল্লাহর কছে লম্বা হওয়ার জন্য আর্জি জানাতে পারেন।
অনেকেই ভাবেন দোয়া করে আবার লম্বা হওয়া যায় নাকি, পুরো পৃথিবীটাই চলছে দোয়া এবং দাওয়ার উপরে । একটা হচ্ছে বিশ্বাস এবং আরেকটা হচ্ছে বিজ্ঞান। তাই এটাকে অসম্ভব বলার আসলে কোন সুযোগ নাই। আল্লাহর কাছে ভালোভাবে চাইলে অবশ্যই তিনি দিবেন।
লম্বা হওয়ার দোয়া পড়ুন
একটা বয়সে আপনার উচ্চতা বাড়বে এবং একটা বয়সে উচ্চতা আর বাড়বে না। এটাও একটা প্রাকৃতিক নিয়ম । আমাদের শরীর থেকে শুরু করে একদম এই পুরো বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সর্বত্র আপনি এধরণের প্রাকৃতিক নিয়ম দেখতে পাবেন এবং এই প্রতিটা প্রাকৃতিক নিয়মের পিছনে আল্লাহ’তায়ালার বিশাল হিকমত রয়েছে যা আমরা কখনো কখনো বুঝি এবং কখনো কখনো বুঝতে পারি না । এই প্রাকৃতিক নিয়মগুলোকে আমরা ব্যাখ্যা করতে পারি কিন্তু এর কোন ব্যতয় আসলে আমরা ঐভাবে ঘটাতে পারি না। একটা প্রাকৃতিক নিয়মকে আমরা বদলাতে পারি না, আমরা যেটা করতে পারি সেটা হচ্ছে একটা প্রাকৃতিক নিয়মের উপর অন্য একটা প্রাকৃতিক নিয়ম এনে বসাতে পারি।
সেক্ষেত্রে আপনার উচিত হবে মানুষের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে বহু বছর ধরে সাধনা করেছে এবং সফল হয়েছে এমন কোন একজন বিশেষজ্ঞের সাথে এই ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা করা । কারণ ঐ বিশেষজ্ঞ লোকটি হয়তো এমন কোন একটি প্রাকৃতিক নিয়ম বা বিজ্ঞান জানেন যেটার সাহায্যে আপনার উচ্চতা বৃদ্ধি না হওয়ার পিছনে যে প্রাকৃতিক নিয়ম বা বিজ্ঞানটা কাজ করছে সেটাকে এনকাউন্টার করা যাবে । মানে এককথায়, উচ্চতা বৃদ্ধি না হওয়ার পিছনে একটা বিজ্ঞান আছে এবং আরেকটা বিজ্ঞান দিয়েই এটাকে এনকাউন্টার করতে হবে । সে দিক থেকে চিন্তা করলে বিজ্ঞান আসলে বিশ্বাসেরই একটা অংশ । কারণ আল্লাহতায়ালা আপনার অভিভাবক, আপনার সেবক না কিন্তু । আপনি যদি শুধু দোয়াই করেন, দাওয়া না নেন তার মানে দাঁড়ায় আপনি আল্লাহতায়ালার দেওয়া বিজ্ঞান, আল্লাহতায়ালার দেওয়া প্রাকৃতিক নিয়মগুলো আসলে বুঝেনই না বা বুঝলেও আপনি সেটার ধার ধারেন না । আপনি নিজেকে এতই পুণ্যবান মানুষ মনে করেন যে আপনি মূলত অলৌকিক বা সুপার ন্যাচারাল কিছুর জন্য অপেক্ষা করছেন ।
আল্লাহ’তায়ালার অনুমতি ছাড়া, আল্লাহ’তায়ালার ইচ্ছার বাইরে গিয়ে এই পৃথিবীতে একটা পাতাও নড়ে না । আর তাই আপনি আপনার জন্য যাই চান না কেন সেটা আল্লাহ’তায়ালার কাছ থেকে দোয়ার মাধ্যমে সেঙ্কশন করিয়ে আনতে হবে । কারণ আল্লাহ’তায়ালার সহায় ছাড়া আপনি আমি অসহায় ।
রাসুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, বুখারি এবং মুসলিম শরীফের হাদিস,
দোয়া হচ্ছে ইবাদত ।
আরেকটি হাদিসে এসেছে,
যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট কিছু চায় না, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি অসন্তুষ্ট হন।’
মানে আল্লাহ’তায়ালার কাছে কেউ কিছু চাইলে আল্লাহ’তায়ালা খুশি হন । মানুষের উল্টা আর কি । আর মানুষের উল্টাই তো হবে কারণ মানুষ হচ্ছে সসীম আর আল্লাহ’তায়ালা হচ্ছেন অসীম । সসীমের সাথে তো আর অসীমের তুলনা চলে না । তাই আল্লাহ’তায়ালার কাছে লজ্জা পেয়ে ভদ্রতা করে কিছু না চাইলে আসলে নিজেরই লস । যাইহোক এটা ছিল (তিরমিজি শরীফের ৩৩৭৩ নাম্বার হাদিস।)
রাসুল্লাহ (সাঃ) আরও বলছেন,
‘তোমাদের মধ্যে যারা দোয়ার দ্বার খুলেছে, তাদের জন্য রহমতের দ্বার খোলা হয়েছে। আল্লাহর কাছে যেসব দোয়া চাওয়া হয়, তন্মধ্যে তাঁর কাছে সর্বাধিক পছন্দীয় দোয়া হলো আফিয়াত; অর্থাৎ নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের জন্য দোয়া করা।’ (জামে তিরমিজি, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ৫৫২, হাদিস নম্বর: ৩৫৪৮) ।
রাসুল্লাহ (সাঃ) আরও বলেছেন,
‘তাকদিরের ফয়সালাকে কেবল দোয়াই পরিবর্তন করতে পারে।’
আর শেষমেশ আমি আপনাকে আরেকটা একটা হাদিস শোনাব যেটা শুনলে আপনার মন ভালো হয়ে যাবে।
হাদিস শরিফে এসেছে,
‘যখন কোনো মুসলমান দোয়া করে, যদি তার দোয়ায় গুনাহের কাজ কিংবা সম্পর্কচ্ছেদের আবেদন না থাকে, তাহলে আল্লাহ তাআলা তিনটি প্রতিদানের যেকোনো একটি অবশ্যই দান করেন । সঙ্গে সঙ্গে দোয়া কবুল করেন এবং তার কাঙ্ক্ষিত জিনিস দিয়ে দেন। অথবা দোয়ার কারণে কোনো অকল্যাণ থেকে তাঁকে হেফাজত করেন। অথবা তার আখিরাতের কল্যাণের জন্য তা জমা করে রাখেন।’ (আহমাদ, ৩: ১৮, হাদিস: ১১১৪৯) ।
অর্থাৎ দোয়াতে আপনার উচ্চতা বাড়ুক আর না বাড়ুক আপনার কোনই দোয়া কিন্তু বিফলে যাবে না । এককথায়, দোয়া করলে আপনার কোন লস নাই ।
লম্বা হওয়ার দোয়া
লম্বা হওয়ার দোয়া হল, اَلَمْ تَرَ كَيْفَ ضَرَبَ الله مَثَلا كَلِمَةً طَيٌِبَةً كَشَجَرَةٍ طَيٌِبَةٍ أصْلُهَا ثَابِتُ وَفَرْعُهَا فِي السٌَمَاءِ,
বাংলা উচ্চারণ হচ্ছে: “আলামতারা কাইফা যারাবাল্লাহু মাছালান কালিমাতান ত্বাইয়্যিবাতান কাশাজারাতিন ত্বাইয়্যিবাতিন আছলুহা ছাবিতুন ওয়া ফারউহা ফিচ্ছামা-ই।”( সূরা ইবরাহীমের ২৪ নাম্বার আয়াত।)
