বিদ্রোহী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (পিডিএফ) ডাউনলোড 2026

বিদ্রোহী কবিতাটি অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। বিদ্রোহী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর পড়তে আমাদের সম্পূর্ণ পোস্ট পড়ে নাও । অনেক শিক্ষার্থী বিদ্রোহী কবিতার জ্ঞানমূলক ও সৃজনশীল প্রশ্ন গুলো অনুশীলন করতে চায়। এজন্য গুগলে অনুসন্ধান করে।

আমরা এই পোস্টে বিদ্রোহী কবিতার গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্ন গুলো দিয়েছি। সেই সাথেই উত্তর গুলো পিডিএফ ফাইলে দেওয়া আছে। আপনারা যারা যারা প্রশ্নের উত্তর গুলো পিডিএফ ফাইলে সংগ্রহ করতে চান তাদের জন্য নিচে একটি লিঙ্ক দেওয়া আছে।

বিদ্রোহী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর 

সৃজনশীল প্রশ্ন-১ 

আমি যুগে যুগে আসি, আসিয়াছি পুনঃ মহাবিপ্লব হেতু
এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু!
সাত-সাতশ নরক-জ্বালা জ্বলে মম ললাটে।
মম ধূম-কুণ্ডলী করেছে শিবের ত্রিনয়ন ঘন ঘোলাটে।
আমি স্রষ্টার বুকে সৃষ্টি পাপের অনুতাপ-তাপ হাহাকার
আর মর্ত্যে শাহারা- গোবী-ছাপ
আমি অশিব তিক্ত অভিশাপ।

ক. কবি কী মানেন না? 

উত্তরঃ কবি কোনো আইন মানেন না।

ঘ. ‘যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবেনা’- একথা বলার কারণ কী?

উত্তরঃ নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের দুঃখকষ্ট ও আর্তচিৎকার বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কবি বিপ্লব-প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন বোঝাতে তিনি প্রশ্নোক্ত কথা বলেছেন।

অসাম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে কবির বিদ্রোহ নিরন্তর। যেখানেই তিনি অত্যাচার ও অনাচার দেখেছেন, সেখানেই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। নিপীড়কের বিরুদ্ধে এবং আর্তমানবতার পক্ষে প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন তিনি। তাঁর হুংকারে কেঁপে উঠেছে অত্যাচারীর ক্ষমতার মসনদ। অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেলেও উৎপীড়িত মানুষের পক্ষে বিপ্লব-প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে

. উদ্দীপকের সাথে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিক্টি ব্যাখ্যা কর।
ঘ. ‘উদ্দীপকটি ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সমগ্রভাব ধারন করেনা’- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার কর।

বিদ্রোহী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন-২ 

যাহারা পদে পদে আনিয়া দিল লাঞ্ছনা, অপমান, অত্যাচার, নির্যাতন, প্রত্যেক সুযোগে যাহারা হানিল বৈরিতার বিষাক্ত বাণ, হযরত তাঁহাদের সহিত কী ব্যবহার করিলেন? জয়ীর আসনে বসিয়া ন্যায়ের তুলাদণ্ড হাতে লইয়া বলিলেন : ভাইসব, তোমাদের সম্বন্ধে আমার আর কোনো অভিযোগ নাই, আজ তোমরা সবাই স্বাধীন, সবাই মুক্ত। মানুষের প্রতি প্রেমপুণ্যে উদ্ভাসিত এই সুমহান প্রতিশোধ সম্ভব করিয়াছিল হযরতের বিরাট মনুষ্যত্ব।

আরও পড়ুন  ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ কবিতার MCQ (PDF) 2026

ক. কবি নিজেকে কাদের মরম বেদনা বলেছেন?

উত্তরঃ অবমানিতের মরম বেদনা বলেছেন।

খ. ‘আমি দুর্বার/ আমি ভেঙে করি সব চুরমার’– ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ আলোচ্য উত্তিতে কবির বিধ্বংসী রূপের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি শোষণ-বঞ্চনা ও অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ। পরাধীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ বেনিয়া শাসকগোষ্ঠী ও তাদের দোসরদের অপশাসন ও ভেদ-বৈষম্যের জাঁতাকলে পিষ্ট দেশবাসীকে তিনি মুক্ত করতে চান। এ লক্ষ্যেই দুর্বার গতিতে তিনি শোষক ও অত্যাচারীর সবকিছু ভেঙে চুরমার করে দিতে চান। প্রশ্নোক্ত চরণটিতে বিদ্রোহী কবিসত্তার এমন বিধ্বংসী রূপই প্রতিফলিত হয়েছে।

গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার বৈসাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।
. “উদ্দীপকের হযরত মুহম্মদ (স.) ও “বিদ্রোহী’ কবিতার কবির মধ্যে পার্থক্য থাকলেও তাঁদের মূলচেতনা একই”— মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

বিদ্রোহী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন -৩ 

যতােই চাও না কেন আমার কণ্ঠ তুমি থামাতে পারবে না,
যতােই করবে রুদ্ধ ততােই দেখবে আমি ধ্বনি প্রতিধ্বনিময়।
আমার কণ্ঠকে কেউ কোনােদিন থামাতে পারেনি যেমন পারেনি কেউ কোনােকালে ঠেকাতে অরুণােদয়,
চাও বা না চাও নৈঃশব্দ্যেও যদি কান পাতাে শুনবে আমারই কণ্ঠস্বর ।

ক. ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?

উত্তরঃ ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।

খ. ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি নিয়ম-কানুন মানতে চান না কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তরঃ  শােষকের অন্যায়-অত্যাচার বিদ্রোহী কবি মেনে নিতে রাজী নয়। তাই কবি  চলার র তার সকল বাধা বিপতি  উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কবি নিয়ম-কানুন মানতে চান না।

বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি নিজের শক্তির বিদ্রোহীতা তুলে ধরেছেন। সেগুলাে দিয়ে তিনি মানব সমাজে চলমান সমস্ত অনিয়ম, উচ্ছঙ্খলতা দূর করতে চেয়েছেন। যারা মানুষের অধিকার হরণ করে এবং মানুষকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞিত করে তারা মানষের শত্র।সেই শত্রদের তৈরি নিয়ম-কানন কবি মানতে চান না। তিনি শােষকের তৈরি সমস্ত নিয়ম ভেঙে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চান। এ কারণেই তিনি প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস নিয়ে শােষকের জারি করা বিধিবিধানের বিরুদ্ধাচরণ করেছেন। আর তাই তিনি নিয়ম-কানুন মানতে চান না।

আরও পড়ুন  স্নাতক (পাস) ও সমমান পর্যায়ের উপবৃত্তির আবেদন এন্ট্রির বিজ্ঞপ্তি ২০২৫

গ. ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সঙ্গে উদ্দীপকের মিলের দিকটি ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপক ও বিদ্রোহী কবিতার মূলভাব একসূত্রে গাঁথা।”- মন্তব্যটির যথার্থতা প্রমাণ কর ।

বিদ্রোহী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন-৪ 

বেজে উঠল কি সময়ের ঘড়ি?
এসাে তবে আজ বিদ্রোহ করি,
আমরা সবাই যে যার প্রহরী।
উঠুক ডাক।
উঠুক তুফান মাটিতে পাহাড়ে
জ্বলুক আগুন গরিবের হাড়ে
কোটি করাঘাত পৌছােক দ্বারে
ভীরুরা থাক।
মানবাে না বাধা, মানবাে না ক্ষতি,
চোখে যুদ্ধের দৃঢ় সম্মতি
রুখবে কে আর এ অগ্রগতি
সাধ্য কার?
রুটি দেবে নাকো? দেবে না অন্ন?
এ লড়াইয়ে তুমি নও প্রসন্ন?
চোখ-রাঙানিকে করি না গণ্য |
ধারি না ধার।

. ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি কবির ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থের কততম কবিতা?

উত্তরঃ ২য় কবিতা।

খ. ‘আমি অর্ফিয়াসের বাঁশরী’– কথাটি কবি কেন বলেছেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তরঃ বাঙালি জাতিকে বিদ্রোহের অগ্নিমন্ত্রে জাগ্রত করার মানসে কবি গ্রিক পুরাণে উল্লিখিত মহান শিল্পী অর্ফিয়াসের বাঁশির সাথে নিজের তুলনা করেছেন।

অর্ফিয়াস গ্রিক পুরাণের একজন মহান কবি ও শিল্পী। তিনি যন্ত্রসংগীতে সকলকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখতেন। শুধু তাই নয়, সুরের ইন্দ্রজাল সৃষ্টি করে তিনি ভালোবাসার পাত্রী ইউরিডিসের মন জয় করেছিলেন। কবির প্রত্যাশা, অর্ফিয়াসের বাঁশির সুরের মতো তাঁর বিদ্রোহের সুরও মানুষের মাঝে ছড়িয়ে যাবে। সে সুরে বিদ্রোহের অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষিত হবে দেশবাসী। মিলবে কাঙ্ক্ষিত মুক্তি। এমন ভাবনা থেকেই।

গ. উদ্দীপকটি ‘বিদ্রোহী কবিতার কোন দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “চেতনাগত মিল থাকলেও উদ্দীপকে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার মূলভাবের পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি।”- মন্তব্যটির যথার্থতা প্রমাণ কর।

We will be happy to hear your thoughts

Leave a reply

Amar Sikkha
Logo