
আজকে আমরা বড়দের রোমান্টিক গল্প নিয়ে একটি চমৎকার গল্প আপনাদের সাথে শেয়ার করব আশাকরি আপনাদের পছন্দ হবে। গল্পটি পছন্দ হলে আপনার বন্ধুদের সাথে অবশ্যই শেয়ার করবেন।
নিয়মিত গল্প পড়তে চাইলে আমাদের ওয়েবসাইটে নিয়মিত ভিজিট করুন।
বড়দের রোমান্টিক গল্প ২০২৫
ফিল্টার ম্যাসেজ চেক করতে গিয়ে দেখলাম তানভির অহনাফ নামের একটা আইডি থেকে আমার বউয়ের কিছু নুড পাঠানো হয়েছে। ছবিগুলোতে রিতুর মুখ স্পষ্ট। আমি আরো সিওর হওয়ার জন্য ছবিগুলো ভালোভাবে জুম করে দেখলাম। না এটা রিতুই। বামপাশে বুকের উপরে তিলটাও স্পষ্ট। এডিট করা হলে তিল থাকতোনা নিশ্চয়। আইডিটা থেকে আমাকে টেক্সটটা দিয়েই ডিএক্টিভেট করে রাখা হয়েছে।
মুহূর্তেই আমার হাত কাপতে লাগলো। এইতো একটু আগেও আমি রিতুর সাথে দুষ্টুমি করে এলাম। অফ ডে বলে আজকে বাসাতেই আছি। রিতু কিচেনে আমার জন্য মালাই চা আর সিঙারা বানাচ্ছে। আমি রিতুকে পিছন থেকে গিয়ে জড়িয়ে ধরলাম। রিতু হাসিহাসি মুখ করে আমাকে রুমে এসে ওয়েট করতে বললো।
রুমে এসে আমি ফেসবুকে ঢুকতেই এ কি জিনিস দেখলাম। রিতুর সাথে যদিওবা আমার এরেঞ্জ ম্যারেজ বাট আমাদের আন্ডারস্ট্যান্ডিং ভালো। একজন আরেকজনকে অনেক ভালোবাসি। বিয়ের আগে আমার কোন পছন্দ ছিলনা তাই বাবা মায়ের পছন্দেই রিতুকে বিয়ে করা। রিতু আমাকে কখনো বলেনি যে ওর আগে কারো সাথে রিলেশন ছিল বা আমি কখনো শুনিওনি কারো কাছে। হঠাৎ করেই আমার মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দিলো যেন। রিতু কি তাহলে অন্য কারো সাথে কিন্তু ওর কোন আচরনে তো মনে হয় না। আমার ভাবনার মাঝেই রিতু এসে ডাক দিলো,
-কি হলো মশাই। কি এত ভাবছেন শুনি?
আমি থতমত খেয়ে গেলাম। বিষয়টা রিতুর চোখ না এড়ালেও ও যেন পাত্তা দিলো না। চায়ের কাপটা আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো
-এই নাও চা আর দুপুরের রান্না কম্পিলিট না হওয়া পর্যন্ত আমাকে ডিস্টার্ব করবেনা একদম। আজকে তোমার জন্য স্পেশাল ডিস বানাবো।
আমি চায়ের কাপ হাতে নিয়ে রিতুর দিকে তাকিয়ে রইলাম। একটা মেয়ের কত রূপ হতে পারে। রিতু আমাকে তাগাদা দিলো। কি হলো আমার মুখের দিকে এভাবে তাকিয়ে আছো কেন? চা টা খাও। খেয়ে বলো কেমন হয়েছে?
অনিচ্ছা সত্ত্বেও চায়ে চুমুক দিলাম। স্বাদ কিরকম হলো বুঝতে পারলাম না। রিতু জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। আমি ভালো হয়েছে বলতেই রিতু আমার দিকে চেয়ে ফিক করে হেসে দিয়ে আবার রান্নাঘরে ঢুকলো। রিতুর রান্নার হাত খুব ভালো।
কিন্তু এই চা এই মুহূর্তে আমার কাছে পানসে লাগছে। যেই রিতু এক কাপ গরম পানি দিলেও আমার কাছে অমৃত মনে হত এখন এত সুন্দর করে বানানো মালাইচা ও আমার কাছে বিস্বাদ লাগছে। সিঙারা তো মুখেই দিতে ইচ্ছে করছে না অথচ রিতুর হাতের বানানো মালাই চা এর সঙ্গে সিঙারা ডুবিয়ে খেতে আমি সবথেকে পছন্দ করি। আমি উঠে আস্তে আস্তে হেটে গিয়ে কিচেনে উকি দিলাম।
রিতু গুনগুন করে গান গাইছে আর রান্না করছে। বাবা মা বাসায় থাকলে মা নিজেই সবসময় রান্না করে। রিতু টুকিটাকি হেল্প করে তখন। তিনচারদিন হল তারা দেশের বাড়ি গিয়েছে। আরো সপ্তাহখানিক থেকে তবে আসবে। আমি ভাবতে লাগলাম রিতুকে কি সরাসরি জিজ্ঞেস করবো।
ছবিগুলো দেখাবো। না নিশ্চিত না হয়ে রিতুকে কিছু বলা ঠিক হবে না। আমি অন্য একটা আইডি খুলে তানভির অহনাফ লিখে সার্চ দিলাম। এ নামে বেশ কয়েকটাই আইডি পেলাম। কিন্তু কোন আইডি কিভাবে বুঝবো। ওই আইডির প্রোফাইল তো দেখিনি। কিভাবে কি করবো বুঝতে পারছি না।
রিতু যদি কারো সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে যায় আমাকে তো অন্তত বলতে পারতো। আমি তো কখনোই ওকে আটকে রাখতাম না। আমাদের বিয়ে হয়েছে ছয় মাস হবে কিন্তু রিতু কখনই বলেনি যে আমাকে ওর পছন্দ না বা রিতুর কোন আচরনে মনেও হয়নি। রিতু আমার প্রতি যথেষ্ট কেয়ারিং। তাহলে কি রিতুর আগে কোথাও সম্পর্ক ছিলো। হয়তো আমি জানিনা। আর আমাকে এভাবে এসব ছবি পাঠানোর মানে কি। আমাকে বিষয়টা আরো ভালোভাবে ক্লিয়ার হতে হবে।
বিকেলে রিতু বায়না ধরলো চলনা বাইরে থেকে ঘুরে আসি।
আমার একটুও যেতে ইচ্ছে করলোনা তাই রিতুকে বুললাম শরীরটা খারাপ লাগছে। রিতু আমার কপালে হাত দিয়ে বোঝার চেষ্টা করলো জ্বর টর এসেছে কিনা। কি আশ্চর্য শরীর খারাপ হলে কি খালি হাত দিলেই বোঝা যাবে। রিতু আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বললো, তুমি কি কোন ব্যাপার নিয়ে টেনশন করছো। চোখমুখ এরকম শুকনো লাগছে কেন?
না কি হবে। কিছু হয়নি
আমি স্মিত হেসে বুঝানোর চেষ্টা করলাম কিছু হয়নি। রিতু কি বুঝলো জানিনা আমাকে শুয়ে পড়তে বলে আমার উল্টদিকে ফিরে ও শুয়ে পড়লো। আউলাঝাউলা চিন্তা চিন্তা করতে করতে কখন জানি ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুম থেকে জেগে দেখি সন্ধ্যা সাতটা বেজে গেছে। বেশ অনেকটা সময় নিয়ে ঘুমিয়েছি। পাশে রিতুকে দেখতে পেলাম না। উঠে দেখি রিতু বসার ঘরে টিভি দেখছে। আমি ফ্রেশ হয়ে রিতুর পাশে এসে বসলাম। মনটা ভালো লাগছে না। রিতুকে বাসায় রেখেই বাইরে আসলাম। এদিক সেদিক কতক্ষণ হাটাহাটি করলাম। হানিফ মামার দোকানে কড়া করে বেশ কয়েক কাপ চা খেলাম। সাড়ে দশটা নাগাদ রিতু কল দিলো।
-কই তুমি বাসায় আসতেছো না কেন?
আসছি আমি। আরো প্রায় দেড় ঘন্টা পড় বাসায় গেলাম। রিতু ঢুলুঢুলু চোখে দরজা খুললো।
কই ছিলে এতক্ষণ। এত দেরি হল কেন বাসায় আসতে?
আর বলনা আরিফের সাথে অনেকদিন পড়ে দেখা হল তাই একটু আড্ডা দিলাম।
ফোন করে বলে দিলেই পারতে। আমি তো খাবার টেবিলে অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়েই গিয়েছিলাম।
আমি এই মেয়েটাকে ঠিক বুঝে উঠতে পারিনা। রিতুকে টেবিলে বসিয়ে আমি নিজ হাতে খাইয়ে দিলাম। রিতু জিজ্ঞেস করলো তুমি খাবেনা?
আমি বাইরে থেকে খেয়ে এসেছি। আরিফ জোর করলো তাই।
বিছানায় শুতেই রিতু ঘুমিয়ে পড়লো। আমি শুধু ছটফট করছিলাম। আস্তে করে উঠে বেলকুনিতে গিয়ে ইজিচেয়ারটায় বসলাম। বাইরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। হঠাৎ আমার মনে হল রিতুর ফোনটা একবারও চেক করিনি। আস্তে করে এসে রুম থেকে রিতুর ফোন নিয়ে নিলাম।
ফোন ঘেটে কিছুই পেলাম না। রিতু সেভাবে ফেসবুক চালায় না। পিকচার ও আপ্লোড করে না। খুব কম এক্টিভ থাকে। ম্যাসেঞ্জারে তেমন কিছুই পেলাম না। তানভির অহনাফ লিখে সার্চ কোন আইডির সাথে সংযুক্ততা পেলাম না। কললিস্ট ঘেটেও দেখলাম সব পরিচিত নাম্বার। কিন্তু ফোন বুকে একটা নাম্বারে চোখ আটকে গেল। তানভির লিখে সেভ করা একটা নাম্বার। আমি সাথে সাথেই নাম্বারটা আমার ফোনে তুলে নিলাম এবং কল করলাম। প্রথমবার রিং হলো কেউ পিক করলোনা। সেকেন্ডটাইম পিক হলো। আমি হ্যালো বলতেই চমকে গেলাম।
বড়দের রোমান্টিক গল্প আড়ালে কে পর্ব ২
আমি হ্যালো বলতেই চমকে গেলাম। ওপাশ থেকে মেয়েলি গলায় একজন জিজ্ঞেস করলে কে আপনি। আমি কোন ছেলের কন্ঠ আশা করেছিলাম। সে আবার ধমকের কন্ঠে জিজ্ঞেসা করলো কে আপনি? কাকে চাই?
আমি কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না। তারপরেও বললাম তানভীর আছেন? আমি তার কাছে ফোন দিয়েছিলাম।
-ও আচ্ছা দিচ্ছি। ওপাশে হাসির শব্দ। তারপর বেশ শব্দ করে বললো তানভীর দেখতো তোমাকে কে জানি ফোন দিয়েছে।
অল্পসময়টুকুতে কি কি বলবো তানভিরকে তাই মনে মনে আওড়ে নিচ্ছিলাম। ওপাশ থেকে বেশ চওড়া গলায় একটা ছেলে সালাম দিলো। আমি সালামের জবাব দিতেই ছেলেটা জিজ্ঞেস করলো কে আমি?
আমি আদনান রিতুর হাজবেন্ড। রিতুকে চিনোনা তুমি।
-ও আচ্ছা আপনি আদনান ভাইয়া। ভাইয়া ভালো আছেন রিতু আপু কেমন আছে?
হ্যা ভালো। তোমার কি খবর?
তানভীরের সাথে অনেকক্ষন কথা বললাম। খেয়াল করলাম ছেলেটা জানতে চাইছেনা আমি তাকে কেন কল দিয়েছি। যেহেতু তার সাথে আগে কখনো কথা হয়নি তার উপর এত রাতে ফোন দেয়া অবশ্যই কারনবশত হবে এবং তার বেশ বড়সড় কারন হতে হবে। অবশ্য একবার হলেও তার জানতে চাওয়া উচিত। কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে ছেলেটা জিজ্ঞেস করলো ভাইয়া কোন সমস্যা হইছে কি রিতু আপুর সাথে? এত রাতে কল দিলেন যে?নাহ আমরা সবাই ভালো আছি। রিতু হঠাৎ করে বললো যে তোমার সাথে কথা বলবে তাই কল দেয়া।
-ও আচ্ছা আচ্ছা রিতু আপু কই?
ও আসলে একটু বাথরুমে গেছে!
-হারামীটা আমার কোন খোঁজ খবর নেয় না। বিয়ে করে তো ছোট ভাইকে পর করে দিয়েছে আর এতদিন পরে কথা বলার কথা বলে এখন বাথরুমে গিয়ে বসে আছে! ঠিক আছে ও আসলে আমাকে কল দিয়েন ভাইয়া।
-আচ্ছা ভালো থাকো। আল্লাহ হাফেজ।
কলটা কেটে দিয়ে একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ছাড়লাম। না কোন ক্লু পাওয়া গেল না। এ ছেলেটা মনে হচ্ছে রিতুর কোন ছোট ভাই। সে কেন এ কাজ করতে যাবে। এ কাজ যে করেছে সে চায়না রিতুর সাথে আমার সম্পর্ক থাকুক। এবং রিতুর তার সাথে কানেক্ট আছে অথবা ছিলো। হতে পারে রিতুর কোন এক্স বয়ফ্রেন্ড। হয়ত এতদিন আমাদের বিয়ের কথা জানতোনা এখন কারো কাছ থেকে জেনেছে তাই হিংসার বর্শবর্তী হয়ে আমাকে ওর ছবিগুলো দিয়েছে। যাতে আমাদের মধ্যে ঝামেলা হয়। কিন্তু রিতু ও তো কখনো বলেনি যে ওর কারো সাথে সম্পর্ক ছিলো।
ও বলেছে আমিই প্রথম। রিতুর কথা এত জোড়ালো ভাবে নেয়ার কারন হলো আমি কখনো রিতুকে মিথ্যে বলতে দেখিনি। আমাদের সম্পর্কটা বন্ধুর মত। আমাকে বললেও যে আমি রিতূকে কিছু বলতামনা তা রিতু ভালোভাবেই জানে। তাই লুকোনোর কোন প্রশ্নই আসেনা।আবার এটাও হতে পারে যে আমাদের বিয়ের পরে ও কারো সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছিলো পরে তার সাথে কোন ঝামেলা হয়েছে যার জন্য সে আমাকে সবকিছু জানিয়ে দিতে চায়। কিন্তু এত অল্প সময়ে রিতু এত নিচে নেমেছে আমার বিশ্বাস হতে চায় না।
আমার সাথে কি ও তাহলে সুখী না। ও কি ভালো থাকার নাটক করছে। আমি তো ওকে সর্বচ্চো ভালো রাখার চেষ্টা করি। বুঝতে চেষ্টা করি। তারপরেও রিতু এমন কেন করলো। আমার মাথায় কাজ করছিলো না। শুনতে পেলাম ভোরের আজান দিচ্ছে। চিন্তা করতে করতে কখন যে সকাল হয়ে গেছে সেটাই টের পাইনি। রিতুর পাশে এসে শুয়ে পড়লাম। মেয়েটা বেঘোরে ঘুমাচ্ছে। আমিও একটু পরে ঘুমিয়ে পড়লাম। ফোনের প্রচণ্ড শব্দে ঘুম ভাঙলো। রিতুর ফোন বাজছে।
ফোন টা উলটে রাখায় কে ফোন করছে বুঝতে পারলাম না। যেই না ফোনটা দেখতে যাবো অমনি কোথা থেকে যেন রিতু এসে রুমে ঢুকলো। আমার দিকে একবার তাকিয়ে ফোনটা নিয়ে বেল্কুনিতে চলে গেল। আমি ঘুমের ভান ধরে রইলাম। বেশ খানিকক্ষণ পরে রুমে এসে ফোনটা চার্জে লাগিয়ে আবার চলে গেল। আমি উঠে রিতুর ফোনটা চেক করলাম। আম্মা ফোন দিয়েছিলো। আম্মার ফোনটা রিসিভ করতে এত লুকোচুরির কি আছে। আম্মার সাথে সাত মিনিট ছাপ্পান্ন সেকেন্ড কথা বলেছে। নাম্বারটাও চেক করলাম। না আম্মার ই। রিতু আবার রুমে আসলো।
–তুমি উঠে পড়েছো। কটা বাজে খেয়াল আছে। বারোটা।
আমাকে ডেকে দিলেনা কেন? অফিসে যেতে হবেনা।
–শোন আজকে একটা বিশেষ দিন। দেরি যখন করেই ফেলেছো আজ আর অফিসে যাওয়ার দরকার নেই। তোমার বসকে ফোন করে বলে দাও।
রিতুর এরকম আদিখ্যেতা আমার একদম ভালো লাগলো না। বেশ কড়া গলায় বললাম রোজ রোজ অফিস কামাই দেয়া যায় নাকি। চাকরি না থাকলে বিশেষ দিন দিয়ে কি করবো। এখন যেতে হবে।
–ঠিক আছে তাহলে খেয়ে যাও।
আমি বাইরে খেয়ে নেব।
রিতুর মুখটা মলিন হয়ে গেল। যাকগে ও যা করেছে তার তুলনায় এটা কিছুই না। রিতু রুম থেকে চলে গেল।
বাইরে বের হয়ে ভাবলাম আজ আর অফিসে যাবো না। কিছুক্ষণ এলোপাথাড়ি ঘোরাঘুরি করলাম। চায়ের দোকানে আড্ডা দিলাম। হানিফ মামা জিজ্ঞেস করলেন, বাজান তোমার মনটন কি দুইদিন ধইরা খারাপ। মুখটা কেমন শুকাইয়া গেছে।
না চাচা কিছু হয়নি বলে বিষয়টা এড়িয়ে গেলাম। চাচা মনেহয় বুঝতে পারলেন আমি কিছু বলতে চাচ্ছিনা তাই আর জানতে চাইলো না।
চায়ের দোকানে আরিফের সাথে দেখা হয়ে গেল। বেশ অনেকসময় আড্ডা দিলাম। আরিফ বললো, মামা চল আমার বাসায় কেউ নাই।একলা একলা ভাল্লাগছেনা। রাতে খেয়ে একেবারে যাবি। অনেকদিন তো যাসনা।
আরিফের সাথে তার বাসায় গেলাম। স্কুল কলেজ লাইফে বহুবার আসছি। যখনি আরিফদের বাসায় কেউ না থাকতো দুই বন্ধু মিলে আড্ডা দিতাম। সেইসব দিনগুলো মনে পড়ছে। আরিফের সামনে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছি। এই ছেলেটা আবার না জিজ্ঞেস করে বসে। হঠাৎ মনে পড়লো রিতু বললো আজকে বিশেষ দিন। আজকের দিনের বিশেষত্বটা কি। ভাবতেই মনে পড়ে গেল আজ তো রিতুর বার্থডে। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম সাড়ে দশটা বাজে। ইশ আরেকটু আগে মনে পড়লে রিতুকে নিয়ে বাইরে বের হওয়া যেত। আরিফের বাসা থেকে তড়িঘড়ি বের হয়ে রিতুর জন্য কিছু কেনাকাটা করলাম। একটা কাচা বেলীফুলের মালা, মহাদেব সাহার একটা কবিতার বই আর একবক্স চকোলেট।
বাসায় আসতে আসতে আজও লেট করে ফেললাম। রিতু দরজা খুলে দিলো। রিতুর চোখদুটো লাল আর ফোলাফোলা। মেয়েটা নিশ্চই কান্না করছে। আজকের দিনে এরকম করা উচিত হয়নি আমার। রিতুর হাতে প্যাকেটটা ধরিয়ে দিলাম। রিতু প্যাকেট নিয়ে কোন আগ্রহ দেখালো না শুধু বললো ডাইনিংয়ে খাবার দেয়া আছে খেয়ে নিও। রিতু কাথামুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়লো।
আরও পড়ুনঃসুইসাইড নোট pdf ডাউনলোড – সহিদুল ইসলাম রাজন
আমারো আর ভালোলাগছিলোনা তাই রিতুর পাশেই চুপচাপ শুয়ে পড়লাম এবং একসময় ঘুমিয়ে পড়ালাম। আমি ঘুমিয়ে পড়লে রিতু উঠে বালিসের পাশ থেকে ফোনটা নিলো। ফ্লাশলাইট অন করে ড্রেসিংটেবিল এর উপরে ওর হ্যান্ড ব্যাগটা থেকে একটা কার্ড বের করলো এবং ছিড়ে টুকরোটুকরো করে জানালা দিয়ে ফেলে দিয়ে আবার চুপচাপ শুয়ে পড়লো..
বড়দের রোমান্টিক গল্প আড়ালে কে শেষ পর্ব
পরদিন সকালে হৈ চৈ এর শব্দে ঘুম ভাঙলো। বসার ঘরে গিয়ে দেখলাম বাবা মা চলে এসেছে। মা কে জিজ্ঞেস করলাম মা তোমাদের না আরো পরে আসার কথা। তোমরা এতো তাড়াতাড়ি চলে এলে।
–আসলে তোদের জন্য মন খারাপ লাগছিলো তো তাই। আর তুই তো জানিস যে তোর মা তোকে না দেখে একদমই থাকতে পারে না। একমাত্র ছেলে বলে কথা। তাছাড়া রিতু মাকে তো ফোন করে বলে দিয়েছিলাম। মায়ের হয়ে বাবা উত্তর দিয়ে দিলেন। কি গো মা আদনানকে বলো নি?
–আসলে বাবা আদনানকে সারপ্রাইজ দিলাম।
যাক রিতু সব সামলে নিলো।
ফ্রেস হয়ে বাবা মায়ের সাথে নাস্তা করলাম। রিতু কচি কলাপাতা কালারের একটা শাড়ি পড়েছে সেই সাথে হাতখোঁপায় দিয়েছে কাল রাতের আনা বেলিফুলের মালা। আর চোখে সামান্য কাজল। এতটুকু সাজেই মেয়েটাকে অপ্সরী লাগছে। তবে ফুলের মালা বাসি হয়ে ফুলগুলো শুকিয়ে গেছে। ঠিক রিতুর মুখের মত কেমন নিষ্প্রান মলিন। নাস্তা করে রুমে এসেছি অফিসের জন্য রেডি হতে রিতুও আমার পিছন পিছন আসলো।
–আদনান তোমার কি কোন কারনে মন খারাপ।
রিতুর কথায় আমি চমকে গেলাম। একবার ভাবছি বিষয়টা বলে দেই। পরে ভাবছি থাক। নেক্সট যদি কিছু হয় তখন বলবো। মনের কথা মনে রেখে রিতুকে বললাম
–কই নাতো। মন খারাপ থাকবে কেন।–তাহলে কি কোন বিষয় নিয়ে তুমি আপসেট। না মানে কয়েকদিন ধরে কেমন যেন চিন্তিত দেখাচ্ছে তোমাকে। আমার কাছে বলতে পারো।
–না। তেমন কিছু না।
–কিছুই না হলে আমাকে এরকম এভয়েড কেন করছো। আমি দুদিন যাবত নোটিশ করছি। কোন প্রয়োজন ছাড়া তেমন কথাও বলছোনা।
–কই কে বলেছে। আসলে অফিসে একটা নতুন প্রজেক্টের দায়িত্ব পেয়েছি তো। টু মাচ ক্রিটিক্যাল। সেটা আবার আজকেই বসের সামনে প্রেজেন্টেশন করতে হবে তাই একটু চিন্তিত। সাথে একটু চিন্তিত হবার ভান করলাম। রিতুর সাথে দুদিন যাবত মিথ্যে কথা বলে যাচ্ছি। নিজের কাছেও খুব খারাপ লাগছে।
–ও আচ্ছা। আমিতো ভেবেছিলাম আমার উপরে রাগ করেছো।
রিতুকে আমি কাছে টেনে নিলাম এবং আগের সময়ের মত কপালে একটা চুমু খেলাম। রিতু সাথেসাথেই বললো কাল আর পরশু দুইদিন চুমু দাওনি যাওয়ার সময় সেটাও দিয়ে দাও। অনিচ্ছা সত্ত্বেও রিতুকে আরো কয়েকটা চুমু খেয়ে অফিসে রহনা দিলাম।
অফিসে এসে হাতের কাছের কাজগুলো সেরে নিলাম। কেমন যেন কাজে মন বসাতে পারছিলাম না। বারবার মাথার ভিতর একটাই চিন্তা ঘুরঘুর করছে। তখনি ডেস্কে টোকার শব্দ। আমি না তাকিয়েই বুঝতে পারছি যে বাচাল হাবিব সাহেব এসেছেন এবং এই মূহুর্তে প্যানপ্যান করে আমার মেজাজ না খারাপ করে যাবেন না। ওনার কাজ হচ্ছে ঘুরে ঘুরে সবার ডেস্কে যাওয়া, নিজের কাজ অন্যের উপরে চাপানোর চেষ্টা করা এবং উল্টাপাল্টা কথা বলে মাথা খারাপ করা।ফাঁকিবাজ হলেও সবসময় মুখের ছাপ দেখে মনে হয় মহাব্যাস্ত। ওনার প্রেজেন্ট সাইরেন হচ্ছে টেবিলের উপর টোকা দেয়া।
হাবিব ভাই একটা চেয়ার টেনে বসে পড়লেন।
–কি খবর আদনান সাহেব। কাল অফিসে এলেন না যে?
একটু ব্যাস্ত ছিলাম। তা আপনার কি খবর।
–আমার আর খবর। ঘরে বাইরে সব কাজ তো আমাকেই করতে হয়। ভীষন ব্যাস্ততায় থাকি।
ঘরের সবকাজও আপনি করেন।
–কষ্টের কথা আর কি বলবো ভাই আপনি আপন দেখেই বলছি বলে আমার দিকে কিছুটা ঝুকেঁ এলেন আসলে ঘরের কাজও আমাকেই করতে হয়। বৌ টা ভালো না। ছেড়ে দিবো।
যে স্বামী বৌয়ের ভয়ে ঘরের কাজ করে সে আর যাই হোক বৌকে ছেড়ে দিতে পারে না। তাও মজা নেওয়ার জন্য বললাম তা কবে ছেড়ে দিচ্ছেন।
–শীঘ্রই। আসলে বৌ হচ্ছে হাতলবিহীন স্যুটকেসের মত। বহন করতেও কষ্ট আবার ফেলে দিতেও মায়া লাগে।
উনি একটা দীর্ঘসময় ভাষন দেয়ার টপিক পেয়ে গেলেন। এড়ানোর জন্য বললাম হাবিব ভাই কফি খাবেন? আমি খাবো।
–ভাই জানেননা কফি খাইনা দেখলেও বমি আসে। আপনি খান আমি গেলাম কাজ আছে। হাবিব ভাই কপাল কুচকে উঠে গেল। মনে মনে বললাম তোর কপালে এর থেকেও খারাও বৌ জোটার দরকার ছিলো।
বাসায় ফিরে বেশ একটা ভালো সময় পার করলাম। সবাই একসাথে ডিনার করলাম। কয়েকদিন বাবা মা ছিলোনা কিন্তু মনে হচ্ছে অনেকদিন যেন ছিলনা। রিতুর সাথেও অনেকটা সহজ হয়ে গেছি। খেয়েদেয়ে রুমে আসলাম। আমি আমার মত করে শুয়ে পড়লাম রিতু অন্যদিকে মুখ করে শুয়ে আছে অথচ এই মেয়েটা সবসময় আমার বুকে মুখ লুকিয়ে ঘুমাতো। রিতুকে আমার দিকে ফেরাতে গিয়ে আবার হাত গুটিয়ে আনি। কোথায় যেন একটু আড়ষ্টতা আছে। কিছুক্ষন এপাশ ওপাশ করে উঠে বেলকুনিতে আসলাম।
বেলকুনির একপাশে গ্রীনলিফ আর্কিড একপাশে নীল আর্কিড সাথে কোকোপিট ভর্তি ছোটছোট ঝুলন্ত টবে নাম না জানা বীজও রিতুর লাগানো। সবকিছুই সুন্দর ভালো শুধু আমার মনটা ভালো না। আকাশে মেঘ জমেছে। পশ্চিমা বাতাস বইছে। না আমার রিতুকে সবকিছু খুলে বলা উচিত। পিঠে কারো হাতের স্পর্শ পেলাম। তাকিয়ে দেখি রিতু। মেয়েটা হুট করে আমাকে জড়িয় ধরে ঝরঝর করে কেঁদে দিলো। এই মূহুর্তে আমার কিছু জানতে ইচ্ছে না। রিতুর কান্না থামলেই যেন আমি খুশি।
কি হয়েছে রিতু? এভাবে কাঁদছো কেন?
রিতু আমার থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো। এখনো ওর হেচকি উঠছে।
–আদনান তোমাকে অনেক কিছু বলার আছে। আমি তোমাকে অনেক আগে একটা মিথ্যা কথা বলেছি।
তুমি আগে কান্না থামাও পরে শুনবো।রিতুকে শান্তনা দিচ্ছি। রিতু আমার কথা পাত্তা দিলোনা বলতে শুরু করলো
আদনান তোমার সাথে বিয়ের তিনবছর আগে আমার ইফাদ নামের একটা ছেলের সাথে রিলেশন ছিলো। আমরা দুজন দুজনকে অনেক ভালোবাসতাম। কিন্তু ইফাদ হঠাৎ একদিন আমাকে না জানিয়ে স্কলারশিপ নিয়ে জাপান চলে গেল। ইফাদের সাথে যোগাযোগ করার অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু পারিনি এপর্যন্ত বলেই রিতু চোখের পানি মুছে নিলো।
ছেলেটা তোমার সাথে যোগাযোগ করেনি কৌতুহল নিয়ে জানতে চাইলাম?
–না। কিন্তু..
কিন্তু কি?
গতসপ্তাহে ওর সাথে শপিংমলে দেখা হয়েছিলো। আমি ওর সাথে কথা বলেছি। ও বলেছে ও এখনো আমাকে ভালোবাসে। বিয়ে করতে চায়। ও আমার বিয়ের কথা জানতো না। ও বলেছে তোমাকে ডিভোর্স দিয়ে ওকে বিয়ে করতে যদি আমি সত্যি ওকে কখনো ভালোবেসে থাকি। আমিই ফেক আইডি খুলে তোমাকে আমার ছবিগুলো পাঠিয়েছি। রিতু একনিঃশ্বাসে বলে গেল।
আর তাতেই কি আমি তোমাকে ছেড়ে দিবো? সম্পর্ক এত ঠুনকো রিতু।
–ইফাদ আমাকে ওর একটা কার্ড দিয়েছিলো। বলেছিলো আমি যদি রাজি থাকি যেন ওর সাথে যোগাযোগ করি। কিন্তু এখন আমি বুঝেছি তুমি আমাকে কতটুকু ভালোবাসো। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও আদনান। তোমার ভালোবাসাই আমাকে আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে শিখিয়েছে। তুমি আমাকে যা শাস্তি দেবে দাও কিন্তু আমি আর নিতে পারছি না। দুদিন নিজের সাথে অনেক যুদ্ধ করেছি। আমি বুঝেছি যে আমি তোমাকেই ভালোবাসি। তোমার সাথেই থাকতে চাই। আসলে অতীত হয়তো ভুলে থাকা যায় কিন্তু বদলানো যায়না। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও আদনান প্লিজ।
কি অদ্ভুত এ দুনিয়া। দুদিন আগে যে মেয়ে আমাকে ছেড়ে যাওয়ার জন্য এতো কাহিনী করলো আজ সে আমার সাথে থাকার জন্য শাস্তিও মাথাপেতে নিতে চাইছে। চাঁদের আলোয় রিতুর চোখের পানি চিকচিক করছে। মেঘ কেটে গিয়ে কখন যে চাঁদ উঠেছে খেয়ালই করিনি। টের পেলাম আমার চোখও ভিজে গেছে। চাঁদ তার পূর্ন যৌবন দিয়ে আলো ছড়াচ্ছে আর সেই আলোতে রিতুকে নিষ্পাপ মনে হচ্ছে। আমি রিতুকে বুকে জড়িয়ে নিলাম। বুকের উপর থেকে যেন একটা পাথর নেমে গেছে।
রিতু আল্লাহর কাছে মাফ চাইলে তিনিও মাফ করে দেন আমি তো সাধারন মানুষ। তোমাকে মাফ করে দিয়েছি। সবচেয়ে বড় কথা তোমার ভুল তুমি বুঝতে পেরেছো। রিতু আমাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।
আদনান আর রিতুর চোখের আড়ালে বেলকুনির নিচ থেকে একটা ছায়া সরে গেল। ইফাদ ভাবছে আবার জাপান চলে যাবে। যার জন্য এসেছিলো যেই তো অন্যের হয়ে গেছে। নিজের বামহাতের পিঠ দিয়ে চোখের পানি মুছে নিলো। সমাজে পুরুষদের কাঁদতে নেই। রিতুকে আদনানের বাম পাজর দিয়ে তৈরি করা হয়েছে তার নয়। হঠাৎ ইফাদ থেমে গিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে বললো হে সৃষ্টিকর্তা আদনান আর রিতুকে তুমি ভালোরেখো। ভীষন ভালো।
Follow Us
Facebook Page: AmarSikkha.com
Linkedin: AmarSikkha.com
Google News: Amar Sikkha
WhatsApp Channel: Amar Sikkha
Telegram: t.me/amarsikkha

[…] যদি রোমান্টিকতা পছন্দ করেন,তবে তার সাথে খুনসুটি […]
[…] অসমাপ্ত চুম্বনের ১৯ বছর পর পিডিএফ [PDF] একটি বাংলা বই। অসমাপ্ত চুম্বনের ১৯ বছর পর – আনিসুল হক এর লেখা একটি জনপ্রিয় গল্পের বই। অসমাপ্ত চুম্বনের ১৯ বছর পর বইয়ের একটি পিডিএফ [PDF] কপি আমরা অনলাইনে খুজে পেয়েছি এবং আনিসুল হক এর অসাধারণ বইটি আপনাদের মাঝে শেয়ার করছি। ছয় পৃষ্টার অসমাপ্ত চুম্বনের ১৯ বছর পর বইটির পিডিএফ সাইজ মাত্র ০.৫ এমবি। […]