
আজকাল সবাই প্রেগন্যান্সির লক্ষণ প্রথম সপ্তাহের নিয়ে টেনশনে থাকে। বার বার টেস্ট করার পর নিজেকে বিশ্বাস করতে পারে না ফলে অনেক চিন্তায় পরে যায়। প্রেগনেন্সির সময় একজন মহিলার শরীরে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন আসে।
এই পরিবর্তনগুলি প্রেগনেন্সির প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে প্রকাশ পায়, যা সকলের জানা উচিত। গর্ভধারণের বিষয়ে যে কোনও সমস্যার জন্য আমরা আপনাকে আমাদের গাইনোকোলজিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেব।
প্রেগন্যান্সির লক্ষণ প্রথম সপ্তাহের জন্য
১. রক্তক্ষরণ ঋতুচক্রের মতোই ৬ থেকে ১২ দিন হালকা রক্তপাত হতে পারে। এই লক্ষণ দেখলে প্রেগন্যান্সি পরীক্ষা অবশ্যই করে নিন।
২. প্রথম সপ্তাহে মুখে অন্য রকম স্বাদ বুঝতে পারবেন। অনেক সময় মুখে দুর্গন্ধও হতে পারে। আসলে গর্ভাবস্থার জেরে শরীরে হরমোনের মাত্রার তারতম্যের কারণেই এই তফাৎ হতে পারে।
৩. গর্ভে সন্তান এলে নারীরা অতিরিক্ত পরিমাণে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। তিনি গর্ভবতী হয়েছেন এমন স্বপ্নই দেখেন তারা।
৪. অনেক সময় মুখে বা হাত-পায়ে কালো কালো ছোপ ছোপ দাগ দেখা য়ায়। গর্ভধারণের সময় ত্বকের সংবেদনশীনতা বেড়ে যায়। এর ফলে চেহারায় এই কালো দাগ-ছোপ দেখা যায়।
৫. ক্লান্তি প্রেগন্যান্সির একটি উল্লেখযোগ্য লক্ষণ। যেহেতু শরীর এই সময় বাড়ন্ত শিশুকে পুষ্টি দেয়ার জন্য অতিরিক্ত রক্ত উৎপন্ন করে তার জেরে খুব অল্পতেই ক্লান্তি এসে যায়।
৬. প্রেগন্যান্সির সময় শরীর অতিরিক্ত পরিমাণ তরল উৎপাদন করে। আর তার জেরে কিডনি দ্বিগুণ পরিমাণে কাজ করে। আর সে কারণেই অতি ঘন ঘন শৌচাগারে যাওয়া প্রয়োজনীয় হয়।
৭. গর্ভাবস্থায় মাথার যন্ত্রণা হতে পারে। গর্ভধারণ করার প্রথম সপ্তাহের শুরুতেই মাথাব্যথা শুরু হতে থাকে। হরমোনের মাত্রা শরীরে বেড়ে যাওয়ার কারণেই এ সমস্যা হয়।
তথ্যসূত্র: বোল্ডস্কাই
প্রেগনেন্সির প্রাথমিক লক্ষণ:
এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে প্রেগনেন্সি একটি সুন্দর অনুভূতি। এই অবস্থার কিছু প্রাথমিক লক্ষণও রয়েছে যা থেকে প্রেগনেন্সির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। আসুন প্রেগনেন্সির প্রাথমিক লক্ষণগুলি বিশদে জানি ও বুঝি –
পিরিয়ড মিস হওয়া: পিরিয়ড মিস হওয়াকে আপনি প্রেগনেন্সির প্রথম লক্ষণ বলতে পারেন। যদি অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্কের আগে পিরিয়ড নিয়মিত থাকে এবং সম্পর্কের পরে পিরিয়ড মিস হয়ে যায়, তবে এটি প্রেগনেন্সির দিকে ইঙ্গিত করে।
স্তনগুলিতে সংবেদনশীলতা: প্রেগনেন্সির কারণে স্তনে পরিবর্তন হয়, যা স্বাভাবিক। স্তনে ফোলাভাব, ব্যথা এবং সংবেদনশীলতা প্রেগনেন্সির একটি লক্ষণ। এর সঙ্গে নিপল (এরিওলা) এর রঙ ও আকারেও পরিবর্তন দেখা যায়।
ক্লান্তি এবং দুর্বলতা: প্রেগনেন্সির সময় প্রোজেস্টেরন নামে হরমোনের স্তর শরীরে বেড়ে যায়। এর ফলে মহিলাকে ক্লান্তি এবং দুর্বলতার সম্মুখীন হতে হয়।
বমি ভাব ও বমি আসা (মর্নিং সিকনেস): প্রেগনেন্সির সময় শরীরে অনেক হরমোনাল পরিবর্তন হয়, যার ফলে মহিলার সারাদিন বমি ভাব ও বমির সমস্যা হতে পারে। এই অবস্থাকে চিকিৎসা পরিভাষায় মর্নিং সিকনেস বলা হয়।
বারবার প্রস্রাব করা: প্রেগনেন্সির সময় গর্ভাশয়ের কারণে ব্লাডারে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যার ফলে বারবার প্রস্রাব করতে ইচ্ছে করে। এটি একটি প্রাথমিক লক্ষণ, যা ক্রমাগত থাকতে পারে।
ক্ষুধার পরিবর্তন: প্রেগনেন্সির সময় ক্ষুধায় অনেক ওঠানামা হয়। অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্কের পরে বেশি বা কম ক্ষুধা লাগা প্রেগনেন্সির একটি প্রাথমিক লক্ষণ।
পেটে কড়কানি বা ফোলা: প্রেগনেন্সির সময় শরীরে কিছু পরিবর্তন হয়, যার ফলে মহিলার পেটে হালকা ব্যথা, কড়কানি বা ফোলাভাব হতে পারে।
মুড সুইং: সাধারণত পিরিয়ডের সময় মুড সুইং দেখা যায়, তবে অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্কের পরে যদি পিরিয়ড মিস হয় এবং হঠাৎ মুড সুইং হয়, তবে এটি প্রেগনেন্সির ইঙ্গিত দেয়।
এই সবের অতিরিক্ত কিছু অন্যান্য লক্ষণও মহিলারা অনুভব করতে পারেন যেমন –
- স্পটিং (যা ইমপ্লান্টেশন ব্লিডিং বলা হয়)
- মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা
- প্রেগনেন্সির প্রাথমিক দিনগুলিতে নাক বন্ধ থাকা
- পেট ফোলা
- ত্বকের পরিবর্তন
এগুলির বেশিরভাগ লক্ষণ প্রেগনেন্সির পাশাপাশি অন্যান্য সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করতে পারে, তাই লক্ষণ দেখা দিলে প্রেগনেন্সি টেস্ট কিট দিয়ে পরীক্ষা করুন বা আমাদের গাইনোকোলজিস্টের সঙ্গে কথা বলুন।
