
বর্তমানে যুবসমাজে সবচেয়ে আশক্তির বিষয়ে হয়েছে পর্ণগ্রাফি। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিনামূল্যে এসব খারাপ ভিডিও সহজেই পাওয়া যায় বলে অনেকেই আশক্ত হয়ে পরছে। অনেকেই পর্ণগ্রাফি মানে কি এটাই জানে না কিন্তু, বিভিন্ন খারাপ কাজে জড়িয়ে যাচ্ছে। আজকে আমাদের বিষয় পর্ণগ্রাফি আসক্তি ভয়াবহতা ও মুক্তির উপায় সমূহ বিস্তারিত বর্ণনা।
পর্ণগ্রাফি মানে কি
যে কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও বা অডিও, যা কেবলমাত্র যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি করার জন্য তৈরি করা হয়। আরও সহজ করে বললে, পর্ণগ্রাফি হলো এমন কিছু দৃশ্য বা গল্প, যা মানুষের মনে যৌন ইচ্ছা জাগানোর উদ্দেশ্যে দেখানো বা প্রকাশ করা হয়। সাধারণ বিনোদনের সাথে পর্নোগ্রাফির পার্থক্য হলো: পর্ণগ্রাফির মূল উদ্দেশ্য থাকে শুধু যৌন অনুভূতি জাগানো।
এক কথায়, পর্ণগ্রাফি হলো এমন ধরনের লেখা, ছবি, অ্যানিমেশন, অডিও বা ভিডিও, যার প্রধান উদ্দেশ্য হলো মানুষের যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি করা। এতে সাধারণত পুরুষ ও নারীর নগ্ন/তা, যৌন আচরণ বা সম্পর্ক দেখানো হয়। এগুলো শিক্ষামূলক নয় বরং মানসিক ও শারীরিকভাবে যৌন অনুভূতি উদ্রেক করার জন্য তৈরি হয়।
পর্ণগ্রাফি আসক্তি ভয়াবহতা ও মুক্তির উপায়
পর্ণগ্রাফি আসক্তি ভয়াবহতা
১. পর্ণ আপনাকে ভালবাসার বিকৃত ধারণা দেয়। এতে প্রেম, অনুভূতি, সহমর্মিতা কিছুই থাকে না, শুধু যৌনতা যা আপনাকে স্বার্থপর ও অনুভূতিহীন করে তোলে। বিয়ের আগে যারা পর্ণে আসক্ত হয়, বিয়ের পরেও তারা তা ছাড়তে পারে না। এটি বাস্তব ভালোবাসা ও সম্পর্ক নষ্ট করে দেয়।
২. পর্ণ মেয়েদেরকে ‘মানুষ’ নয়, ‘ভোগের বস্তু’ হিসেবে উপস্থাপন করে। ফলে বাস্তব জীবনে নারীদের প্রতি সম্মানবোধ হারিয়ে যায়। এটি পরকীয়া ও বিবাহ বিচ্ছেদ বাড়ায়।
৩. মনোবিজ্ঞানীরা দেখেছেন, পর্ণ স্মরণশক্তি ও মনোযোগ নষ্ট করে, মানসিক অবসাদ তৈরি করে। অনেক সময় শারীরিক অক্ষমতাও দেখা দেয়ম বস্তুত, অতিরিক্ত পর্ণ দেখে অনেক পুরুষ স্ত্রীকে দেখে উত্তেজিত হতে পারে না।
৪. আরো খারাপ দিক হলো আপনার দেখা প্রতিটি ভিডিওর পেছনে অনেক মেয়ের জীবন নষ্ট হয়ে যায়। অনেকে জোরপূর্বক বা প্রতারণার মাধ্যমে এই জগতে আসেন।
পর্ণগ্রাফি থেকে মুক্তির উপায়
এতক্ষণ আমরা জানলাম পর্ণগ্রাফির কত ভয়াবহ ক্ষতিকর দিক রয়েছে। এবার আলোচনা করা যাক — কীভাবে এই ভয়ংকর আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
১. ডিজিটাল মিডিয়ার কোনো মেয়ের দিকে তাকাবেন না
ইন্টারনেট, টিভি, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম আজকের দুনিয়া ভরা আবেদনময়ী মেয়েদের ছবিতে। এইসব ছবি বা ভিডিও গুলোতে মেয়েদের নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করা হয় সার্জারি, মেকআপ, এডিটিং ও ফিল্টার করে। কিন্তু মনে রাখুন, বাস্তব জীবনের কেউ এত নিখুঁত হয় না। আপনি যত বেশি এই ডিজিটাল সৌন্দর্যের দিকে তাকাবেন, ততই আপনার ব্রেইন বাস্তব মানুষদের সৌন্দর্য মাপতে ভুলে যাবে। ফলে বাস্তব সম্পর্কেও আপনি আগ্রহ হারাবেন।
তাই এখন থেকেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিন: ডিজিটাল মিডিয়ার মেয়েদের দিকে তাকানো বন্ধ করুন। না তাকাতে পারলে অন্তত চেহারার দিকে তাকান, শরীরের বিশেষ কোনো অংশের দিকে নয়। এবং মনে মনে ভাবুন “এও আমার মা-বোনের মতো একজন মানুষ।”
২. নিয়ত ঠিক রাখুন এবং সম্মানজনক দৃষ্টিতে তাকান
বাস্তবে নারী-পুরুষের মেলামেশা অপরিহার্য অফিসে, বিশ্ববিদ্যালয়ে, সমাজে। এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়। তবে তাকানোর সময় নিয়ত ঠিক রাখুন। মেয়েদের শরীরের বিশেষ অংশ নয়, তাদের চেহারা ও মানবিক দিক চিন্তা করুন। মনে রাখুন, আপনি যদি কারো মাকে, বোনকে সম্মান দেন, তাহলে আপনাকেও আল্লাহ সম্মান দেবেন। নারীর প্রতি সম্মান দেখানো এক ধরনের ইবাদতও বটে।
৩. কোনোভাবেই নামাজ ছাড়বেন না
নামাজ হচ্ছে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধক। আল্লাহ্ কোরআনে বলেছেন: “নামাজ অবশ্যই অশ্লীলতা ও পাপাচার থেকে বিরত রাখে।” (সূরা আনকাবুত ২৯:৪৫)
আপনি যদি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, আপনার হৃদয়ে ধীরে ধীরে পবিত্রতা আসবে। শয়তানের প্ররোচনা দুর্বল হয়ে যাবে।
নামাজ শুরু করুন এখনই, অলসতা করবেন না। নামাজ পড়তে পড়তে দেখবেন একদিন নিজেও পর্ণ থেকে দূরে থাকতে পারবেন।
৪. নিয়মিত নফল রোজা রাখুন
রোজা হলো আত্মনিয়ন্ত্রণের শ্রেষ্ঠ প্রশিক্ষণ। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“হে তরুণরা! তোমাদের যার সামর্থ্য আছে সে যেন বিবাহ করে। আর যার সামর্থ্য নেই সে যেন রোজা রাখে, কারণ তা যৌন আসক্তির বিরুদ্ধে ঢাল।” (বুখারী ও মুসলিম)
