
বর্তমানের ইন্টারনেটের যুগে যেকোনো তথ্য খুব সহজেই অনলাইনে খুঁজে পাওয়া যায়। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কি? এই সম্পর্কে অনেকেই জানেন না, তাই আজকে আমরা এই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।
বাংলাদেশে পাচঁ শতাধিকেরও বেশী কম্পানি বিভিন্ন প্রতিকুল পরিবেশের মধ্যেদিয়ে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং বা মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং(এমএলএম) ব্যাবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে । এর মধ্যে কিছু কিছু কম্পানি আবার ই-কর্মাস বা অন্যন্য নামে তাদের নেটওয়ার্ক মার্কেটিং বা মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং(এমএলএম) ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে ।
নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কি?
নেটওয়ার্ক মার্কেটিং বা মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং(MLM) এর বাংলা পরিভাষা হচ্ছে বহুমুখী পণ্য বিপণন পদ্ধতি। এটি মূলত মধ্যস্বত্ত্বভুগীদেরকে (যেমনঃ এজেন্ট-পাইকারী বিক্রেতা-খুচরা বিক্রেতা) বাদ রেখে সরাসরি কাস্টমারের কাছে পণ্য বিক্রয় করে এবং কোন ক্রেতা যদি তার নিকটাত্বীয় বা বন্ধুদের কাছে বিক্রয় সহযোগীতা করেন তাহলে এর লাভের একটা অংশ পুনরায় কমিশন আকারে ফেরত দেওয়েই হচ্ছে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং বা মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং(MLM) এর মূল ব্যবসা । আর এই পুরো সিস্টেমটাকেই নেটওয়ার্ক মার্কেটিং বা মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং(MLM) বলা হয় ।
নেটওয়ার্ক মার্কেটিংকে ডিরেক্ট সেলিং বা মাল্টিলেভেল মার্কেটিং হিসেবেও আখ্যায়িত করা যায়। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং যদিও ‘তাড়াতাড়ি ধনী হোন’ টাইপের কোনো খেলা নয়, কিন্তু তারপরেও নেটওয়ার্ক মার্কেটিংয়ের দ্বারা খুব সহজেই আপনি আপনার নিজের একটি পার্ট টাইম বা ফুল টাইম ব্যবসা দাঁড় করাতে পারবেন।
নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ট্রেনিং
শিক্ষা নিন ও প্র্যাকটিস করার মনমানসিকতা তৈরি করুন
নেটওয়ার্ক মার্কেটিংয়ে সফল হওয়ার জন্য মেন্টরদের কথাবার্তা শোনার ও তাদের থেকে শিক্ষা নেয়ার মনমানসিকতা থাকতে হবে। একজন মেন্টর মূলত বেশ কয়েকবছর ধরে এই স্ট্রাকচারের সাথে যুক্ত আছেন। যার ফলে তিনি ভালোভাবেই জানেন যে, কীভাবে নেটওয়ার্ক তৈরি করতে হবে ও একটা নেটওয়ার্ক সাজাতে হবে। নেটওয়ার্ক মার্কেটিংয়ে প্রত্যেক মুহূর্তেই হয়তো নতুন কোনো মেথড যুক্ত হচ্ছে বা হবে কিন্তু কাজ করার ধরণ একই। যার ফলে একজন মেন্টর যেভাবে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং নিয়ে কাজ করেছেন ঠিক একইভাবে আপনাকেও সেটা নিয়ে কাজ শিখতে হবে তার থেকে।
ইন্টারনেটের যথাযথ ব্যবহার করা শিখুন
বর্তমানে ফিজিক্যাল মার্কেটিং বা অফলাইন মার্কেটিংয়ের পাশাপাশি অনলাইন বা ডিজিটাল মার্কেটিংও খুবই জরুরী এবং কার্যকরী ভূমিকা রাখছে। আপনি ইন্টারনেটের মাধ্যমে আপনার কর্মীদের সাথে যোগাযোগ করা থেকে শুরু করে তাদের যেকোনো ধরণের টাস্ক কিংবা আপনার আপলাইনের যেকোনো কাজ করে দেয়ার ক্ষেত্রেও ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। যদি আপনি ‘স্প্যামিং’ থেকে বাঁচার নিয়ম জানেন আর স্প্যামিং না করে থাকেন, তাহলে খুব সহজেই আপনার ইন্টারনেট ব্যবহার করে সেটাকে নেটওয়ার্ক মার্কেটিংয়ের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতে পারেন।
উচ্চপদস্থদের সাহায্য নিন
এটাকে অনেক কিছুই বলে। যদিও এটাকে মূলত নেটওয়ার্ক মার্কেটিংয়ে ‘আপলাইন’ হিসেবেই বলা হয়ে থাকে। একই নেটওয়ার্ক বা ম্যানেজমেন্টে আপনার উপরে যিনি থাকেন তাকেই আপলাইন বলা হয়। খেয়াল করে দেখুন তো, আপনার আপলাইন আপনাকে কতটা সাহায্য করছেন? তারা কি বিভিন্ন কাজের জন্য আপনাকে ডেকে থাকে? যদি আপনি তাদের থেকে সাড়া না পান তাহলে যেভাবেই হোক তাদের সাথে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করুন ও তাদের থেকে সাহায্য নিন। তাদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলুন। নেটওয়ার্ক মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে আপলাইনের সহায়তার খুবই প্রয়োজন।
সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া শিখুন
নেটওয়ার্ক মার্কেটিংয়ের একটি সুযোগ গ্রহণ করার জন্য আপনাকে ছয়টি ‘কি এলিমেন্টের’ দিকে নজর রাখতে হবে। যেগুলো হচ্ছে,
১. স্ট্যাবিলিটি বা স্থায়িত্ব: যে কোম্পানির সাথে চুক্তি করতে যাচ্ছেন বা কাজ করতে যাচ্ছেন সেটা কত বছর ধরে মার্কেটে অবস্থান করছে?
২. ইউনিক প্রোডাক্টস বা অনন্য পণ্যসমূহ: যে কোম্পানির সাথে কাজ করতে যাচ্ছেন সেটার পন্যগুলো কী কী?
৩. পে প্ল্যান বা অর্থ প্রদানের ধারণা: যে কোম্পানির সাথে চুক্তি করতে যাচ্ছেন তারা আপনাকে বা আপনার টিমকে কী পরিমাণ অর্থ প্রদান করবে? কীভাবে অর্থ প্রদান করবে?
৪. ইন্টেগ্রিটি অফ কোম্পানি ম্যানেজমেন্ট বা কোম্পানির ম্যানেজমেন্টের সততা: যে কোম্পানির জন্য কাজ করতে যাচ্ছেন, পুর্বে সেই কোম্পানির সততা-সম্পর্কিত কোনো ঘটনা আছে কি না।
৫. ভ্যালুয়েশন অফ কোম্পানি বা কোম্পানির মূল্য-নির্ণয়: যে কোম্পানির জন্য কাজ করতে যাচ্ছেন সেই কোম্পানি দু বছর বা পাঁচ বছর পরে কোন অবস্থানে দাঁড়াবে সে সম্পর্কে জেনে নিন।
৬. সাপোর্ট এন্ড বিজনেস সিস্টেম বা ভারবহন ও ব্যবসার নিয়মকানুন: যে কোম্পানির জন্য কাজ করতে যাচ্ছেন সেই কোম্পানি আপনাকে ও তার কর্মীদের কি পরিমাণ সহায়তা প্রদান করে এবং তারা কোন পদ্ধতিতে ব্যবসা করে আসছে সে সম্পর্কে জেনে নিন।
