নিতুর মাহবুব ভাই পর্ব ১৭ শেষ অংশ 2016

নিতু হাসলো।—কেনো? একটা জামদানী শাড়ি পরেছিস বলে তুই নিশ্চয়ই বাংলা, বিহার আর উড়িষ্যার রাণী হয়ে যাসনি। তুই বাচ্চা, তাই বাচ্চাদের দায়িত্ব তোর।

নিতু আহত কণ্ঠে বললো,

আমি বাচ্চা?

–একচুয়েলি তোকে কি দেখাচ্ছে জানিস? কমলা রঙের শাড়িতো; তোকে বাচ্চা কমলা দেখাচ্ছে। মিনি সাইজের কমলা! দেখেছিস তো নাকি? শাড়ির পাড়ে সোনালী জড়ির সুতোটন না থাকলে যে কেউ তোকে এক্ষুনি গিলে নিতো। একটু চিবিয়ে তারপর কিচ করে বিচি ফেলতো

মাহবুব ভাই রাহ শব্দ করে একটা বিশাল হাঁ করে নিতুর দিকে ঝুঁকে এলেন।

নিতু চমকে গিয়ে নিজের মুখটা পেছন দিকে সরে এলো। মনে মনে বললো, আমি আপনাকে কখনোই বলবো না আমার মনের কথা। মরে যাবো তবু বলবো না। এরকম বন্ধ উন্মাদের পা ধরে আমি ভালোবাসা চাই না।

-এই শাড়ি কোথায় পেলি বলতো। কমলা তো সেই কমলা। মনে হচ্ছে এক্ষুনি কমলার বুড়ি থেকে দোকানী ফোকে পাল্লায় তুলে বেঁচে দেবে বলে তোর খুব মন খারাপ।

-দোকানি আমাকে বেচে দেবে?

-তুই বরং শাড়িটা পাল্টে আমার ওয়ারড্রব থেকে কিছু পরে নে। টিশার্ট, প্যান্টা শোন উপরের ড্রয়ারে হাত দিবি না। ওখানে আমার বউয়ের জন্য গিফট রাখা আছে। নিচের ড্রয়ার থেকে পরবি। ততক্ষণে পাবদামাছ নিয়ে আমি ভাবতে থাকি। তুইও ভাব।

অবশ্যই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দিবেন।

নিতু মাহবুব ভাইয়ের দিকে কিছুক্ষণ ডাঁকিয়ে থেকে কোনো কথা না বলে দুট করে এক দৌড়ে ড্রয়িংরুমে চলে এলো। এই মানুষ বদলাবার নয়। কিছুতেই নয়। এই মানুষ যাস্ট অসম্ভব। অসম্ভব।

ডিনারের সময় মাহবুব ভাইয়ের মা বললেন,

-মাহবুব বি বিয়ের ।জন্য খুব তাড়াহুড়ো করছে। বলছে কমিশন পেলে বিয়ে করে নেবে। দিনরাত এক কথা। মা বিয়ে করবো, মা বিয়ে করবো। বিয়ে না করলে মরে যাবো।

মা আর বড়চাচী তাতে বেশ আনন্দের সাথে গলা মেলালেন

-তাও তো বলছে। এরকম পাইলট ছেলে মায়েদের তো এখন বিয়ের কথা বলেই না। নিজেরাই বিয়ে করে নেয়। একশোটা গার্লফ্রেন্ড তো এদের আঙুলের চিপায় থাকে। নিতুর গলায় ভাত আটকে গেলো। সে আটকে থাকা ভাত নিয়েই প্লেটে হাত ধুয়ে ফেললো।

বাবা ধমক দিলেন।

খেলে না যে?

নিতু জবাব না দিয়ে উঠে পড়লো।

মা-বাবা সবাই মিলে জম্পেশ আড্ডা দিতে থাকলেন। নিতু একবার গিয়ে বললো,

বাসায় যাবে না মা?

-সে কি রে? আজ তো আমর এখানে থাকবে। কি বৃষ্টিা রাস্তাঘাট ডুবে গেছে।

এর মধ্যে বেড়িয়ে অঘটনের তো দরকার নেই। তুই গিয়ে শুয়ে পড়।

ইমিশা মহানন্দে বললো,

-তুমি আমাদের বাড়ি ঘুরে দেখলে না নিতুং চলো… তুমি কিন্তু ভাইয়ার ঘরে থাকবে…।

ইথিশ্য বেশ উৎসাহে নিতুকে বাড়ি ঘুরিয়ে দেখাতে

লাগলো।

বাড়িটা বুঝলে, ভাইয়া নতুন করে রেডি করলো। বিয়ে করবে তো। ভাই।

-তোমার ভাইয়া বিয়ে নিয়ে বেশ সিরিয়াস মনে হচ্ছে।

-শুধু সিরিয়াস। যুদ্ধ বলতে পারো। প্রতিমাসেই তো

বউয়ের জন্য এটাসেটা কিনছে। গতমাসে নিয়ে এলো গ্ল্যাডিয়েটর জুতু।

নিতু ইদিশাকে থামিয়ে দিলো।

-তা মেয়ে কি করে? মানে তোমার ভাইয়ার উড বিং

….. পড়ছে বোধহয়। ডিটেলে কিছু বলে না। তবে ভাইয়া সব কাজে তাঁর মুখ দেখে নেয় আগে। এন্ড নাট এটা হলো ভাইয়ার ঘর।

মাহবুব ভাইয়ের ঘরে এসে নিতু বেশ চমকে গেলো। ঘরটা নীল সাদায় রা করা। সমস্ত দেয়ালের রং নীল আর সাদা। জানালার গ্রিল, পর্দা সব সাদা রংয়ের। ঘরের প্রতিটি ফার্নিচারও নীল আর সাদার কম্বিনেশনে রং করা। এমনকি বিছানার সাদা চাদরটাতেও নীল সুতোর ফুলেল কাজ করা। সাদা বালিশের কভারে নীল রংয়ের অপরাজিতা প্রিন্ট। মেঝেতে নীল কার্পেট; সিলিং এ সাদার মাঝে নীল বা এর শাহীমহলের ডিজাইন। ঘরের ছোট্ট সোফাটাও সাদা মখমলের কাভারের এবংতাকে নীল রংয়ের দুটো নরম কুশান রাখা। বেডসাইডে রাখা টেবিল ল্যাম্পটাও নীল শেডের। আর সেটা জ্বালাতেই

ঘরটা যেনো এক অলৌকিক অদ্ভুত সুন্দর নীলাভ আলোয় ভরে গেলো। নিজের নীল সাদা এত পছন্দ; আর নিতুকে কিনা বলা হয় নীল আকাশে সাদা বক। আচ্ছা এই নীল-সাদার মানে কি? এটা কি কোনো বিশেষ ইঙ্গিত?

-তোমার ভাইয়া এমন করে সাজিয়েছেন।

২। নিজেই। নিতু তুমি এখবে থাকবে। একা থাকতে পারবে তো? আনলে যেভাবে বাজ পড়ছে। আমি তো মায়ের সাথে শুবো।

-তোমার ভাইয়া কোথায় থাকছেন?

-ভাইয়া তো ড্রয়িংরুমের মেঝেতে তাস খেলছে। বন্ধুরা চলে গেলে ওখানেই

শুয়ে পড়বে।

-উনি তাসও খেলেন নাকি?

-ভাইয়া কি খেলে না সেটা বলো? প্রায়ই বলে বিয়ের পর ওর বউয়ের সাথে জুয়া খেলবে। টাকা বাজি রেখে খেলা আর কিং

নিতু মন খারাপ করে বললো,

-ওহ। কি খারাপ বৃষ্টি শুরু হলো, বলোতো? একেবারেই আটকে গেলাম।

ডিনারে এসে তোমাদের কত ঝামেলা বাড়িয়ে দিলাম।

ইমিশা হাসলো

-বৃষ্টিটা যদি আজীবন থাকতো। খুব ভালো হতো।

-কেনো?

-আরে ভাইয়া তো খুব কম ছুটি পায়। অন্তত বৃষ্টিতে আটকা পড়েও বাড়িতে কটা দিন থাকতো। মা সারাক্ষণ ভাইয়াকে মিস করে

তুমি চা খাবে নিভা

এখন?

তোমায় দেখে মনে হচ্ছে খাবে। আইয়া তো বললো, তুমি নাকি সারারাত জেগে চা খাও আর পড়াশোনা করে। ফিজিক্সে কি অনেক পড়া?

-না, খুবই কম পড়া। আমি ভুলে যাই তো ভাই বারবার পড়তে হয়। তুমি বরং ঘুমোও গিয়ে। আমি বৃষ্টি দেখি।

-তোমার ভয় লাগলে ডেকো কিন্তু।

ইদিশা চলে গেলো। নিতু জুতু পায়েই বিছানায় উঠে পড়লো। হোক নোংরা। এই বিছানায়ই তো শয়তানটা বউ নিয়ে ঘুমাবে। জল্লাদের বিছানায় যে ময়লা করে দেবে। সব নষ্ট করে দেবো মবা ওয়ারড্রবে বউয়ের জন্য গিফট। নিতু সব শেষ করে দেবে। সব… একসময় কাঁদতে কাঁদতে সে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লো কে জানে?

মাহবুব ভাইয়ের বিছানাটা সাদা ফুলে ফুলে সাজানো। তাঁর মাঝখানে নীল শাড়ি পরে নিতু মাথা নিচু করে বসে আছে। মাহবুব ভাই ঘরে এসে সটান দরজা আটকে দিলেন। নিতু বিছানায় বসেই কেঁপে উঠলো। কিছুসময় চুপচাপ কাটলো। মাহবুব ভাই টেবিল থেকে এক গ্লাস পানি খেলেন। ঢকঢক করে। উফঃ। নিতুরও তো বড্ড তেষ্টা পেয়েছে। তারপর নিতুর খুব কাছে এসে বসলেন। খুব কাছে। উনার গায়ের গন্ধটা এসে নিতুর নাকে লাগছে। নিতুর শরীরে টিপসি চলে এলো। হাসনাহেনা ফুল শুঁকলে যেমন ভেতরটা ফুসে উঠে, খুব করে সব কিছু দোলাতে ইচ্ছে করে ঠিক সেরকম। নিতু শাড়ির আঁচলের কোপটা টানতে চাইল।

মাহবুব ভাই নিতুর সামনে পেছন ফিরে দু-হাত ছড়িয়ে বললেন,

-সুাটটা খুলে দে তো নিতু… গরম লাগছে।

নিতু না তাকিয়েই বললো,

-পা পা পা পারবো না।

-দুদিন পর আমার র‍্যাংক কি হবে জানিস তো? ক্যাপ্টেন। এদেশের একজন ক্যাপ্টেনের কোট খুলতে তুই মানা করিস। অসম্মান। তোর কি শাস্তি হতে পারে জানিস তো? অপরাধ প্রমাণিত হলে দশবছরের সশ্রম কারাদন্ড।

মাহবুব ভাই নিতুর দিকে আরেকটু পিছিয়ে গেলেন

নিতুও পেছালো মাহবুব ভাই আরেকটু পিছিয়ে নিতুর কোলে যেতেই নিতু কাঁপা কাঁপা হাতে মাহবুব ভাইয়ের কোটটা খুলতে দু-পাশে হাতটা বাড়ালো। মাহবুব ভাই সাথে সাথেই নিজের শরীরের সমস্ত প্রজন নিতুর উপর ছেড়ে দিলেন। মাহবুব ভাইকে সে দু- হাতে শক্ত করে জাপটে ধরলো।….উহঃ। ভার লাগছে তো… সোজা হোন। এক্ষুনি সোজা যোন।

মাহবুব ভাই আরো গা এলিয়ে দিলেন। নিতু নিজের টাল সামলাতে না পেরে পেছনে বিছানায় চিৎ হয়ে শুয়ে পড়লো। মাহবুব ভাই গলার টাইয়ের নটটা ডান হাতে ঢিলে করতে করতে বললেন,

….একদম উঃ আঃ করবি না। মেরে ফেলবো।

বলেই তিনি নিতুকে নিজের কাছে টানলেন।

…আমার কাছে এড পেঁচিয়ে শাড়ি পরবার কি আছে? আমার কি শাড়ির পাঁচ খোলার এত টাইন আছে নাকি? নিরব কুচি ধরে টান দিতেই নিতু উঠে বসলো। মাহবুব ভাইয়ের হাত সরিয়ে দিলো। মাহবুব ভাই ততক্ষণে কুচিসহ শাড়িটাই খুলে নিয়েছেন।

-আমি যাবো।

-আমি যাবো… (মাহবুব ভাই মুখ ভেংচিয়ে করলেন)

এমন থাপ্পড় দিবো যে মুখের গ্রাফ পাল্টে যাবে। শু…

তিনি উঠে দাঁড়িয়ে নিজের শার্টের ইন খুললেন, হাতের বোতাম খুললেন। নিতু বিছানায় বসে খুলে যাওয়া শাড়িটা গায়ে জড়াবার চেষ্টা করছে। মাহবুব ভাই নিতুর হাতটা খামচে ধরে বললেন,

-দে শার্টটা খুলে দে তাড়াতাড়ি! কুইক।

-আমি পারবোনা, বাইরে যাবো।

বাইরে কি? বাইরে কি? বাইরে তোর জন্য মন্ত্রীসভা বসে আছে? জরুরি কিল পাস করতে হবে? না করলে কি দেশ ভেসে যাবে?

মাহবুব ভাই নিতুকে আবার ঠেলে শুইয়ে দিলেন। আবার… চেপে ধরলেন

বিছানায়। বুকের কাছের আঁচলটা এত জোরে টানলেন যে পিন ছিঁড়ে গেলো।

-কি শাড়ি পরিস, ধরতেই ছিঁড়ে যায়া তোর বাবা দিয়েছে তো? নিশ্চয়ই গুলিস্তানের লট থেকে কিনেছে। দেখি কাত হ

বলেই মাহবুব ভাই পুরো শাড়িটা খুলে মেঝেতে ছুঁড়ে

ফেললেন।

নিতু আবার উঠে বদবার চেষ্টা করলো। মাহবুব ভাই তাকে নিজের সমস্ত শরীর দিয়ে চেপে ধরছেন। চেষ্টা কাজে দিলো না। মাহবুব ভাইয়ের অবাধ্য হাতের বিচরণ নিতের সমস্ত শরীরের অন্যভূতিটাই গুলিয়ে দিলো

নিতুর সমস্ত শরীরের অনুভূতিটাই গুলিয়ে দিলো।

নিতু ফিসফিস করে বললো,

-এখন কি হবে?

মাহবুব ভাই যেনো শুনলেনই না এমনভাবে একটু উঁচু হয়ে নিতুর দিকে তাঁকালেন। তাঁর বাঁ-চোখটা গাঢ় করে টিপে দিলেন। নিতু দু-হাতে মুখ ঢেকে

ফেললো।

মাহবুব ভাই এমন করে রাঁকে দেখছে কেনো? না দেখলে হয়না বুঝি?

-তোর ব্লাউজের ছক কইরে? সামনে তো নেই।

নিতু চিতকার দিয়ে বললো,

-হুক খোলা যাবে না। একদম ন্যং কিছুতেই না।

ছিড়ে ফেলি। কি বলিস? এর বিনিময়ে হাজার ব্লাউজ কিনে দেবো। মাহবুব ভাই বুকের কাছে হাত দিতেই নিত্ব বললো,

ব্যথা পাচ্ছি।

-ছোঁয়ার আগেই ব্যথা পাচ্ছিস। একদম ঢং করবি না। হুক ছাড়া পরলি কি করে?

-হক পেছনে।

আগে বলবি তো! আর ছক খুলতে ভুল হবে না আমার। মাহবুব ভাই সাথে সাথেই নিতুর পিঠের নিচে হাত ঢুকিয়ে দিলেন। নিতুর ঠোঁট কামড়ে ধরলেন। নিতু তাঁর মাঝেও আস্তে করে বললো,

বাঘা লাগছে আমার।

-আমি স্কুলেই তো তোর লেগে যায়…

-সত্যিই লাগছে।

-এমন করলে তো আমার মনোযোগ নষ্ট হয়। চুপ করে থাক।মাহবুব ভাই নিজের হাতটা আলতো করে নিতুর প্যান্টির ভেতরে ঢুকিয়ে দিলেন। নিজের ঠোঁটটা চেপে ধরলেন নিতুর বুকের মাঝখানে। নিতু সর্বশক্তি দিয়ে ফিসফস করে বললো,

-আমি কি বেঁচে আছি?

মাহবুব ভাই জবাব দিলেন না। আলতো করে কামড় বসিয়ে দিলেন নিতুর বিশেষ জায়গায়।

নিতু আহ করে উঠলো।

ঘুম ভেঙ্গে গেছে। ও মাই গন্ডা এটা কি স্বপ্ন ছিলো? সাথে সাথে ঘড়িতে রাত দুটো বাজলো। ঢং ঢং আওয়াজে। নিতু ধড়ির আওয়াজের সাথেও খুব কেঁপে উঠলো। আঁচল দিয়ে গলার ঘাম মুছতে গিয়ে দেখলো2:21 4

আরও পড়ুন  নিতুর মাহবুব ভাই পর্ব ৪ | তৃধা আনিকা 2026

শাড়িটা গায়েই নেই তাঁর। শাড়ি কোথায়? আশ্চর্যা শাড়ি পাওয়া গেলো মেঝেতে। শাড়ি খুললো কখন? নিতু মেঝে থেকে শাড়িটা কুড়িয়ে নিয়ে বিছানার একপাশে রেখে দিলো। শাড়ি পরতে ইচ্ছে করছে না এখন। ঘরের ভেতরে ভ্যাপসানো একটা গরম। নিতু জানালা খুলে আবার বন্ধ করে দিলো। বাইরে এখনো ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। প্রচন্ড বৃষ্টির ছাট আসছে। এই স্বপ্নটন সে কেনো দেখলো? মাহবুব ভাইয়ের বিছানায় শুয়েছে বলেই? এই ঘরটাই স্বপ্নটার কারণ নয়তো। ছহ

নিতুর ভাবনায় ছেদ পড়লো। মাহবুব ভাই এসেছেন। আশ্চর্য। দরজা খুলেই সে ঘুমিয়েছে এতক্ষণ। মাহবুব ভাই নিঃশব্দে ওয়াশরুমে গেলেন। বেড়িয়ে এসে বললেন,

ঘুম আসছিলো না। তাই একটা শাওয়ার নিলাম। তুই জেগে আছিস কেনো? নিতু জবাব দিলো না। শরীরে স্বপ্নের রেশ রয়ে গেছে। মনে এখন খুব বাজে বাজে চিন্তা আসছে। অপরাধ করতে ইচ্ছে করছে। এই মাহবুব ভাইটা নেশায় থাকলে সব করতে চায় আর সজ্ঞানে যেনো কিছুই বুঝেনা। এই যে বাইরে এর শরীরে ঝড়

বইয়ে দেয়া বৃষ্টি, এড গা মিষ্টি করে দেয়া রুমের ভেতরটা। উনি কেনো ভুল করেন না? কি হয় সব নিয়ম ভেঙে দিলে? কি হয় একটু পাগল পাগল হলে?

তোয়ালেতে মাখা মুছতে মুছতে মাহবুব ভাই বললেন,

-কি ভাবছিস বলতো? নীল সাদা আমার এক অপছন্দ!

তাও আমার ঘরের কেনো এমন দশা? আসলে সারাক্ষণ 2:21 48-

আকাশে বিমান নিয়ে ভেসে বেড়ানোটাই তো কাজ। তাই নীল সাদার আকাশটা ঘরে নিয়ে এলাম। নীল আকাশ, সাদা মেঘ। তোর পছন্দ বলে ভাবিস না… নিতুর মন খারাপ হয়ে গেলো।

মাহবুব ভাই ওয়ারড্রব থেকে টিশার্ট বের করে পরলেন। নিতুর দিকে একটা টিশার্ট ছুঁড়ে দিয়ে বললেন,

-ব্লাউজ পেটিকোট পোশাক হিসেবে খুবই জঘন্য। তোকে দেখে মনে হচ্ছে, ঠিকঠাক বাসন মাজিসনি বলে ভোর শাশুড়ি পিটিয়ে ডোর শাড়ি খুলে নিয়েছে। নিতু নিজের দিকে তাকালো। ব্লাউজের কাঁধের দিকে একপাশ নেমে আছে। সেখানে নিত্বর একটা চমৎকার ভিল। বুকের শেষে পেটের শুরুতেও তাঁর দারুণ একটা তিল। কারিনারও এত চমৎকার ডিল নেই নিতু জানো আর নাভিটি কি সুন্দর গর্তমতা মাহবুব ভাই কি এসব কিছুই দেখেন না। কখনোই নিতুর মন বুঝেননি হয়তো সেটা ভেতরে লুকানো ছিলো বলে, তাই বলে দেখানো শরীরটাও কি তিনি বুঝেননা?

নিতু টিশার্টীয় গায়ে পরতে পরতে বললো,

-আপনি প্লিজ এ ঘর থেকে যান। আমি ঘুমোবো।

-নে নে ঘুমো। আমার তো বাবা বিয়ের জন্য ঘুম নেই। ঘুমোতে গেলেই শুধু বউয়ের চিন্তা আসে। জীবন কি জটিল দেখেছিস নিতু। এখন বউয়ের চিন্তায় ঘুমোতে পারছিনা। কদিন পর বউ নিয়ে ঘুমাতে পারবো না।

নিতু বিমর্ষ স্বরে বললো,

-বউ নিয়ে ঘুমাতে পারবেন না কেনো?

-আরে বউ নিয়ে ঘুমানো যায় নাকি? ঘুমানে পঁচা আদরটা করবো কখন?

নিতু চোখ বন্ধ করে সমস্ত সাহস এক জায়গায় করে জিজ্ঞেস করলো,

-আপনি কি এসব কথা মজা করে বলেন?

-কোন কথা?

-এই যে বিয়ের কথা; বউয়ের কথা?

-তুই কি আমাকে তোর মত হানখাপুড়ে ভাবিস? বিয়ে আর বউ নিয়ে আমি একদম নিশ্চিত।

-আপনি কি সত্যিই নিজের বউ পছন্দ করে রেখেছেন?

মাহবুব ভাই জবাব দিলেন না। চলে গেলেন। নিত্ব বুক ভাসিয়ে সে রাতের বাকি সময়টা শুধু কেঁদেই গেলো। একটা মানুষ থাকে যে প্রথম ভালোবাসা বুঝবার সময় থেকেই ভালোবাসছে সে কিনা নিজের বউ ঠিক করে নিয়েছে।

সেদিন মাহবুব ভাইদের বাড়ি থেকে ফিরে নিতুকে আর নিজেকে ইচ্ছে করে বদলাবার দরকার হলো না। এভদিনের চেনা পৃথিবীই তো বদলে গেছে তার কাছে। প্রতিজ্ঞা করলো, সে কখনোই আর মাহবুব ভাইয়ের মুখ দেখবে না, মাহবুব ভাই বিষয়ক আলোচনা শুনবে না। মাহবুব বিষয়ক সব ধরনের আলোচনা থেকে নিজেকে বিরত রাখবে। এই টপিক বাইরে এখানেই শেষ। শুধু নিতুর ভেতরে থাকবে। নিতু প্রতিজ্ঞা করার পরই আশ্চর্য ব্যাপার ঘটতে লাগলো। মাহবুব ভাই যেন্যে আগের থেকে বেশি নিম্নদের বাড়ি আদতে লাগলেন। কোনো একটা ছুটি পেলেই আসছেন, উপলক্ষ্য ছাড়াই। সেই সময়টা

নিতু দরজা বন্ধ করে ঘরে থাকে। দেখা করেনা। কথা বলা বন্ধ রাখলে কি হবে? বেহায়াটাকে নিয়ে তো এ বাড়িতে আলোচনা চলতেই থাকে। তবে নিজের মৌখিক কথাবার্তাটা নিতু জিরোতেই নিয়ে এলো। ফোনের ব্যাপারটাও বন্ধ করে দিলো। মাহবুব ভাইয়ের উপর এতে কি কোনো প্রভাব পড়লোও? নিতুর মনে হলো, না। এসব উনি খেয়ালই করছেন না। হয়তো নিতু বিষয়টাই উনার মাথায় নেই।

চোখ বন্ধ করলে যেমন প্রলয় বন্ধ হয়না, তেমনি নিতু কথা বন্ধ করেও মাহবুব ভাই চ্যাপ্টার অফ করা সম্ভব হচ্ছিলো না।

তাঁর বেশ কিছুদিন পর, এক ঈদের দিন সন্ধ্যায় মাহবুব ভাই হুটহাট করে নিতুর ঘরে এসে হাজির। একেবারেই আচমকা 12:33

মাথায় টুপি, পরনে নীল পাঞ্জাবি। মাহবুব ভাই টেবিলে নীল র‍্যাপারে মোড়ানো একটা প্যাকেট রাখলেন।

নিত্ব বিছানায় শুয়ে ছিলো। দেখেও কথা বললো না। তাঁর সমস্ত ভেতরটা শুধু ধকধক করছিলো। মাহবুব ভাই ধপাস করে নিতুর পাশেই শুয়ে পড়লেন। নিতু উঠে বসলো।

মাহবুব ভাই নিতুর হাত ধরে আঙুল বাঁকিয়ে ব্যথা দিয়ে ধরলেন।

—তোর কি ধারণা আমি তোর সাথে কথা বলবার জন্য পাগল হয়ে ছুটে এসেছি? চার-মসে তিনদিন কথা না বললেই কি প্রমাণ হয়ে গেলো যে আমি কথা বলার জন্য অস্থির হয়ে আছি? আমার নিজের মুখ দেখারই টাইম এ নেই, আবার তোকে দেখা

নিতু হাত ছাড়িয়ে নিলো।

মাহবুব ভাই আবার হাত ধরলেন।

-কথা-টথা বন্ধ করে এমন ভাব করছিস যেনো তুই মহাকাশে গ্রহ-নক্ষত্রের বিয়ের সূত্র আবিষ্কার করছিসা ভোর কি ধারণা। গ্রহ নক্ষত্রের বিয়ে দিলে এদের আরো গ্রহ নক্ষত্রের মত সন্তান হবে? পৃথিবীর মত আরো একশোট। প্রয় বাচ্চা হবে। সেখানে তোর মত একশোটা নিতু থাকবে। সব নিতু মিলে মুড় করে মহাবিশ্ব ডুবিয়ে

ফেলবি?

-অ্যাপনি কি আমার কথা বলা না বলা নিয়ে তদন্ত করতে এসেছেন?

-তোর কথা বলা না বলা দিয়ে আমার কি? আমার ভাই নিজেকেই ভালো জিয়েস করার টাইম নেই। যা হাত ধুয়ে আয়। ঘাড়টা একটু ম্যাসাজ করে দিবি।

তোর হাত তো সারাক্ষন এটো দেখছি। এই একটু ধরলাম, আমার হাতও আঠা আঠা করছে।

নিতু মনে মনে বলল্যে আপনাকে দেখেই তো হাত থামছে। শরীর থামছে। কিন্তু মুখে বললো,

-জানতাম, পারবি না বলবি। পকেটে করে বাম নিয়ে এসেছি। একাই ম্যাসাজ করবো..

যদি তোর ডাক শোনে কেউ মালিশ না করে রে….

তবে একলা মালিশ করো ওরে একলা মানিশ করে!

রবীন্দ্রনাথ দেখেছিস, সব সিচুয়েশনের জন্য গান লিখে, রেখে গেছেন? একা মালিশ কিন্তু আরো টাইপের আছে।

নিতু চোখের কোন কচলাতে কচলাতে ক্লান্ত ভঙ্গিতে বললো,

-কেনো এসেছেন?

মাহবুব ভাই, নিজেই হাতে করে বাম নিয়ে ঘাড়ে ঘষতে লাগলেন।

-ইচ্ছে করলো তাই। দুদিন ধরে ঘাড়ে খুব ব্যাথা বুঝলি। নাড়াতে পারছি না। এদিক করলে ওদিক ফাটে অবস্থা। উহঃ আমার মনে হয় ঘাড়টা কেউ মটকে দিয়েছে।

নিতু মনে মনে বললো, এত ঘাড়ত্যাড়া ইতর হলে তো ঘাড়ে বাধা করবেই। মাহবুব ভাই চট করে একটু বাম নিতুর গালে লেপ্টে দিলেন।….উহঃ। চোখ জ্বলছে।

জ্বলবার জন্যই লাগালাম, আরাম পাবার জন্য নয় তো! এরকম গো ধরে আছিস কেনো? তুই কি মনে করিম বাংলাদেশে তোর মত পদার্থবিদের সাথে কথা বলার উপযুক্ত কেউ নেই? উপযুক্ত বাংলাদেশী না পেয়ে বিদেশে কি যোগাযোগ চালাচ্ছিস?

নিতু ঠান্ডা স্বরে বললো,

-আমি যাই।

মাহবুব ভাই ধমকে বললেন,

বোস। ইম্পটেন্ট কথা বলবো।

…বনতে পারবোনা। আমার সময় নেই।

-আমার কথা শোনার সময় নেই? তো কার কথা শোনার সময় আছে শুনি? জাস্টিন ট্রডে? তুই কি বলতে চাচ্ছিস জাস্টিন ট্রুডো তোর সাথে কথা বলবার মুখিয়ে আছে? সে তোকে মুখে রসগোল্লা দিয়ে পা ধরে বলবে, ওগো সজনী, এসো চলো কথা বলে কাটাবো রজনী এরকম ধারণা তোর? নিজেকে তুই

ট্রুডোর গার্লফ্রেন্ড ভাবিস।

জাস্টিন ট্রুডোটা কে?-কানাডার প্রধানমন্ত্রী। এব

হ্যান্ডসাম প্রাইম মিনিস্টার তাঁকে চিনিস না। আমার মত লম্বা, পাতলা, ফিউ, আমার নাকের মত খাড়া নাক। ভোর তো চাইনিজদের মত খেতলানো নাক। এই

অবশ্যই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দিবেন।

নাকে আবার পরেছিস ঝুমকা। দেখতে লাগে তুমকা। নাক হতে হয় উড়ো আর আমার মতা খাড়া, দেখ দেখ

মাহবুব ভাই নিতুর দিকে নিজের নাক এগিয়ে আনলেন। নিতু মুখান পিছনে সরিয়ে নিয়ে চাপা চিৎকারে বললো,

-আমি আপনার নাক বিষয়ক গবেষণা শুনতে আগ্রহী নই।

-আমি স্বাধীন দেশের মানুষ। সবসময় তোর আগ্রহ হিসেব করে তো আমি গবেষণা চালাতে পারিনা। আমার যখন ইচ্ছে আমি গবেষণা চালাবো! আমার বউয়ের জন্য নাকফুল কিনতে গেছিলাম। গবেষণার আরস্ত সেখান থেকেই। আমি ভেবে রেখেছি বউকে সব গয়না দেবোনা। স্পেসিফিক কিছু গয়না দেবো 12:33 4

-কেনো?

-যেসব গয়না আমার গায়ে খোঁড়াবে যেগুলো আগে থেকেই বাদা

গানা পরবে বউ, আর খোঁচাবে আপনার গায়ে?

…..ইয়েসা আমি আর বউ তো আলাদা না। এক দেহে মিশে থাকবো সবসময়। এখন, গলায় যদি এত বড় নেকলেস দিই, পাঁঠা কাজটা করবো না বসে বসে গয়না খুলবো? এক মিনিট দেরি করলেও আমার চলবে না। ওউউ উউ ওউ ওট…..

-এরকম বিশ্রী শব্দ করছেন কেনো?

-তুই বুঝবি না। আমার গ্রহ নক্ষত্রের চুসচাস শুরু হয়ে এ গেছে। মুচরে মুত্ত…..

-আপনি সবসময় একরকম মুডেই থাকেন।

-কি বলিস থাকবো না? আমার মাখায় তো চব্বিশ ঘণ্টার মাঝে তেইশ ঘন্টাই বউ। বাকি একঘন্টা বউয়ের ব্রেক। রেস্ট নিক বেচারি। এই দেখ আমার বউয়ের নোসপিনাটা দেখা মাহবুব ভাই পকেট থেকে একটা বক্স বের করলেন।

-দেখ কি সুন্দরা

নিতু দেখলো। নোসপিনাটা আসলেই সুন্দর। একটা সাদা

পাখর ঘিরে তিনটা নীল পাথর। মাহবুব ভাইয়ের কো2:33 4.

দেখছি নিতুর নীল সাদা বাদে সবই নীল সাদা।

-আকাশে থাকি সারাক্ষণ। নীল আর সাদা বাদে তো চোখে আর কিছু দেখি না।

বল কেমন হয়েছে?

-এমন কুৎসিত নাকফুল আমি জীবনেও দেখিনি।

বলিস কি রে? এড পছন্দ করে কিনলাম। সাদা পাথরট। হীরে। আর নীল দুটো টোপাজের ফেইক ক্রিস্টাল। এতগুলো টাকা দাম নিলো। সত্যিই ভালো হয়নি?

-দেখি পর।

-আমি পরবো কেনো?

আরও পড়ুন  নিতুর মাহবুব ভাই পর্ব ৬ - Tridha Anika 2026

-ভালো হয়নি শোনবার পর এটা তো আমি আমার বউকে দিতে পারি না। এখন তুই’ই পরবি। দুর মনটাই খারাপ হয়ে গেছে রে….মাহবুব ভাই পাঞ্জাবিটা একটানে খুলে ফেললেন।

-নাকফুলটা ভালো হয়নি শুনে শরীরটাই ঘেমে গেছে। দেখি এসি ছাড়।

মাহবুব ভাই মলিন ভঙ্গিতে সিগারেট ধরালেন। নিতুর মেজাজ চটে গেলো।

সিগারেট খাবেন ভালো কথা, 2:33 4

নিতুর ঘরেই কেনো? মাহবুব ভাইয়ের যাতে চোখে পড়ে নিতু এমন করে মুখ কুঁচকালো।

-এঘরে এশটে নেই?

নিতু জবাব দিলো না। বেডসাইড টেবিলেই এশটে রাখা। বড়চাচা যদিও নিতুর ঘরে সিগারেট খান না। তাও নিতু এটা বড়চাচার জন্য রেখেছে। সে ইচ্ছে করলেই এশটে বাড়িয়ে দিতে পারে।

মাহবুব ভাই সিগারেটে লম্বা টান দিলেন। তারপর নিতুর খুব পাশাপাশি এসে বসলেন। একদম গা ঘেঁষে। এশটেটা হাতে নিয়ে বললেন,

……এটা দেখেছিলি তো নাকি? বললি না? এত গোয়ার্তুমি কেনো করিস। সিগারেট খাচ্ছি বলে তোর এ যেনো সহ্য হচ্ছে না। আপনার সিগারেট আমার সহ্য হবে না কেনো? এপটেটা আমি আসলেই খেয়াল করিনি। সিগারেটে তোর সমস্যা নেই বলছিস?…. ইয়েস। নো প্রবলেম। মাহবুব ভাই পকেট থেকে সিগারেটের পুরো প্যাকেটটা বের করে বিছানায়।

রাখলেন।

নিতু সম্পূর্ণ না দেখার ভান করলো। মনে মনে বললো, খান বাত ইচ্ছে দিগারেট খান। গাঁজা খান… আমার কোনো সমস্যা নেই, আমার আটকাবার কি দরকার?

আমাদের মাঝে তো আর লিপকিদের সম্পর্ক হচ্ছে না। সমস্যা তো আপনার বউয়ের 2:33-4

-আমার সিগারেটের গন্ধ তোর এত সহ্য হয়?

-সহ্য হবে না কেনো? আশ্চর্যা আপনার ইচ্ছে হলে আপনি গাঁজা খাবেন।

মাহবুব ভাই আবখাওয়া সিগারেটটা এশট্রেতে চেপে ধরে নিভিয়ে ফেললেন। সিগারেটের প্যাকেট খুলে তা থেকে আরেকটা সিগারেট বের করলেন। নিতু তাতে আরো বিরক্ত হলো। আগের সিগারেটটা তিনি আধখাওয়া ফেলেছেন। এখন আবার নতুন সিগারেট, অপচয়ের যেনো শেষ নেই। মাহবুব ভাই হাসলেন।

-মুখ কালো করছিস কেনো? সিগারেট কেনার টাকা আছে তো, তাই ফেলে দিয়েছি।

নিত্ব বিষাক্ত রকমের একটা হাসি হাসলো। যার মানে হলো, কি আমার টাকাওয়ালারো বারো হাত কাকুঁড়ের তেরো হাত বিচি।

-অপচয় মানুষকে দরিদ্র করে।-

মাহবুব ভাই এবার পুরো দিগারেটের প্যাকেটটা ডাস্ট বাস্কেটে ফেলে দিলেন। পকেট থেকে লাইটার বের করে। সেটাও ফেললেন।

নিতুর দিকে তাকিয়ে বিজয়ীদের মত করে হাসলেন।

-অপচয় করবো। ওয়ান্ট টু বি দরিদ্রা আবার কিনবো।

আই হ্যাভ দ্য মানি: 2:44.

-কিনতে পারবেন বলেই কি এমন করে ফেলে দেবেন। ইজ ইট নরমাল।

-তুই নিজে কি নরমাল? সবসময় মুখ ভড়কে আছিস? সারাজীবনে হেসেছিস কখনো? ভাব করিস যেনো জীবনটা একটা দৈনিক সমাবেশ। ওই যে স্কুলে যেটা করায় সেটা। এখানে লাইন করে আরামে দাঁড়াও, সোজা হও, লেফট রাইটের বাইরে যেনো কিছু নেই। শোন, জীবনটা হলো ওয়ান কাইন্ড অফ স্পাইসি প্যাকেজ বন্ধু। এখানে এসেম্বলি লাইন থেকে বাইরে বেড়িয়ে মাঝে মাঝে একটু গোল্লাছুট, ডান্ডা গুলি এসব খেলতে হয়। দিন দিন তোর বাবা আর বড়চাচার মত এবনরমাল হয়ে যাচ্ছিস! আর যাই হোক, তোর কাছ থেকে আমি নরমালিটি শিখবো না।

-ভালো জিনিস শেখাটা জরুরি মাহবুব ভাই, কার কাছ থেকে শিখছেন সেটা জরুরি নয়।

–আমার কথা আমাকেই ফেরত দিচ্ছিস?

-আপনাকে তো আমি অনেক কিছু ফেরত দিতে চাই। দেওয়া হয় কই?

মাহবুব ভাই নিতুর দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকালেন। নিতুও স্থির চোখে তাকিয়ে রইলো। মাহবুব ভাই’ই চোখ সরিয়ে নিলেন।

–নিত্ব, তুই কি জানিস তোর উপর সবাই খুব বিরক্ত! সব্বাই

বিরক্ত কেনো হবে?

-তুই খুব পাকাপাকা কথা বলিস ইদানীং। এসব ট্রেনিং কোথায় পাচ্ছিস?

ভেবেছিস কি? কারো শেখানো বুলি বলেই তুই জিতে যাবি। কথায় জিততে হলে নিজের বুদ্ধি লাগে, শিখিয়ে পড়িয়ে কিছু হয় না।

নিতু হাসলো।-আপনি কি দয়া করে যাবেন? কাল আমার খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা প্র্যাকটিকাল

পরীক্ষা আছো

-এত দূরা প্র্যাকটিকালে চলে যাচ্ছিস? এত কথা কে শেখালো আবার!

কেউ আমাকে কিছু শেখায়নি মাহবুব ভাই। আমি নিজেই আগে না জানার ভান করে থাকতাম। এখন ভান করতে আর ভালো লাগে না। ভাই হয়তো সবাই ভাবছে আমার নতুন করে বুদ্ধি হয়েছে।

নিতু মাহবুব ভাইয়ের কাছ থেকে একটু সরে বসলো।

মাহবুব ভাই হঠাৎ নিচু হয়ে নিতুর পা ধরলেন।

নিতু চেঁচিয়ে উঠলো।

-পায়ে কেনো ধরছেন।

…ইচ্ছে করলো তাই সরেছি। তোর পারের মাপ নিচ্ছি

-ইচ্ছে করলো তাই ধরেছি। তোর পায়ের মাপ নিচ্ছি। এই মাপের লেডিস জুতো কিনবো। কিনে মালা বানিয়ে গলায় পরবো। যেভাবে কথা বলছিস একেকটা যেনো জুতোর বারি। জুতো দিয়ে পারছিস না বলে মুখে মারছিস।

-আপনার ধারণা আপনি খুবই ভদ্র হয়ে কথা বলেন।

-পরীক্ষা নয়া আপনার ভুল ধরিয়ে দিচ্ছি

-তুই এই দুনিয়ার শিষ্টাচার বিচারক। ভদ্রতা আর অভদ্রতার পরীক্ষা আমাকে তোর কাছে দিতে হবে? তোর কাছে?

..আমার ভুল। এদেশের একজন স্বনামজন্য হতে যাওয়া সম্ভাবনাময় বৈমানিকের ভুল ধরিয়ে তুই তাকে আদালতে পেশ করবি? যাবজ্জীবন তাঁকে কারাগারে আটকে বাংলার আকাশে দুশমনদের বিচরণের সুযোগ দিয়ে তোর যে মডলব….

নিতু হাসিমুখে করলো,

-এত রাগ করবেন না মাহবুব ভাই। আপনি আজ রাতে আমাদের বাসায় খেয়ে যাবেন। আমি নিজের হাতে আপনার জন্য রান্না করবো। বলুন কি খাবেন?

-আমার প্রতি পদে পদে ভুল ধরিয়ে দিয়ে এখন খাওয়াবি বলছিস?

মাহবব ভাই বিছানা থেকে পাঞ্জাবীটা নিয়ে পরলেন। 2:34

-কেনো খাওয়াবি? আমি কি তোর কাছে উপোস এসেছি? উপোস? মাহবুব ভাই ডাস্ট বাস্কেট থেকে সিগারেটের প্যাকেটজ তুলে নিয়ে পকেটে রাখলেন। লাইটারটা জ্বেলে নিতুর মুখের সামনে নিয়ে বললেন,

-তুই এটার মত হয়ে গেছিস নিতু। ঠিক একটা লাইটার। নিজে জ্বলিস। ভোর কাছে যে আসছে তাঁকেও জালিয়ে মারছিস। আমাকে দেখে মনে করিস সিগারেট। দেখামাত্রই আগা জ্বালিয়ে দিস। নিতু অনিচ্ছার হাসি হাসলো।

-হাসবি না, দেখ দেখ জ্বলছি আমি!

মাহবুব ভাই, একটু ভালো করে ভেবে দেখুন। লাইটার কিন্তু একা জ্বলে না। এটাকে কেউ একজন জ্বালায়। সিগারেট ধরাবার জন্য। লাইটার কখনো আপনা থেকে জ্বলে গিয়ে সিগারেটকে বলে না যে, আসেন তোমাকে জ্বালিয়ে দিই। লাইটারের তো অনেক কিছুই জ্বালাবার আছে, শুধু সিগারেট কেনো?

মাহবুব ভাই চিন্তিত ভদিতে বসলেন।

-তাহলে তুই বলতে চাইছিস, তুই লাইটার, আমি বিড়ি

-আমি বললাম কই? আপনিই তো বললেন।

–ওকে ফাইন আমিই বলেছি যা। আসলেই তো

বিড়িটাতে আগুন ধরাতে লাইটারটা কাউকে জ্বালতে

হচ্ছে। আচ্ছা, কে জ্বালাচ্ছে বলতো লাইটারটা? নিতু মনে মনে বললো, সিগারেট যেহেতু আপনি। আপনিই তো লাইটারকে ব্যাবহার করছেন নিজেকে পোড়াতে।

মাহবুব ভাই কিছুক্ষণ চিন্তা করে গন্ত্রীর স্বরে বললেন,

-আমার কি মনে হয় জানিস নিতু? তোর আমার মাঝখানে কিছু একটা গার্ড এনাজি আছে। এই তত্তীয় শক্তিই তোকে আমাকে নিয়ে লাইটার সিগারেটের খেলাটা করছে। এই অন্য শক্তিটা কি ভেবে বের করতো?

নিত্ব ফিসফিস করে বললো, এই তৃতীয় শক্তিটার নাম আমি জানি মাহবুব ভাই। এর নাম ভালোবাসা! আর জানি বলেই আমার এত কষ্ট। আর আপনি জানেন না বলে আপনি এত বিরক্ত।

তৃতীয় শক্তির উপর মহাবিরক্ত মাহবুব ভাইকে দেখে ঠিক সেই সময়ে নিতু ভীষণ অনারকম একটা সিদ্ধান্ত নিলো। এই মানুষটাকে ভুলতে হলে এই মানুষ সম্পর্কিত সব বিসর্জন দিতে হবে, যার একমাত্র উপায় হলো অনেক দূরে চলে যাওয়া। এইরকম ছেলেমানুষি তো জীবনভর চলতে পারে না। থামাতে গেলে নিতুকেই খামতে হবে। চলে যেতে হবে সামনে থেকে…

অনেক সাহস করে একদিন নাশতার টেবিলে নিতু বলেই ফেললো,-আমি মাস্টার্সটা দেশের বাইরে করতে চাই 12:34 ハイ

বাবা রেখে গেলেন।

-মানে?

-আমি বিদেশের কোনো ইউনিভার্সিটি থেকে…

নিতুর কথা শেষ হলো না; বাবা ধমকে উঠলেন,

–কেনো? এখানে কোন অসুবিধা হচ্ছে? এদেশে কি পড়াশোনা হয় না নাকি?

-কোনো অসুবিধে নেই। বিদেশে পড়তে ইচ্ছে করছে। ভিনদেশি খাতা কলমে পড়াশোনা কেমন হয় জানতে ইচ্ছে করছে

বড়চাচা বিস্মিত হলেন খুব।

-বিদেশি খাতা কলমের জন্য তুমি বিদেশ যেতে চাও?

-এটা বলার জন্য কল্য চাঙা আমি কিছুদিনের জন্য এই দেশটা ছাড়তে চাই।

পড়াশোনাটা অজুহাত করে। এইদেশে অনুপস্থিত থাকতে চাই।

কি দরকারে?

-নিড এ ব্রেক বিফোর টু সেটেল পার্মানেন্টলি।

সেজন্য পড়াশোনার জন্যই বিদেশ কেনো? মাত্র অনার্স শেষ হলো। একটা রেক নাও। বিদেশ তো তুমি

এমনিই ঘুরে আসতে পারো?

-আমি এখনি যেতে চাই চাচা। আমি কিছু ইউনিভাসিটিস সিলেক্ট করেছি, এপ্লিকেশন করে দেখি আগো প্রসেসিং এ এমনিতেও সময় লাগবে। সামার সেশনের জন্য তো। এর মধ্যে ব্রেক হয়ে যাবে।

-তাহলে কোনটা জরুরি তোমার কাছে? বিদেশ না পড়াশোনা।

পড়াশোনার শর্তে বিদেশ যাওয়াটা জরুরি। তাহলে আমি নিজেকে ওখানে আটকে রাখতে পারবো কিছুদিন।

মা কেঁদে কেটে অস্থির হয়ে পড়লেন।

-বাড়ির একমাত্র মেয়ে। বিদেশ বিভুঁইয়ে একা পড়ে থাকবে? কে দেখবে? কে বেঁধে খাওয়াবে? দরকার নেই আমার পড়াশুনার। এমনি বাড়ি বসে থাকুক। চোখের সামনে থাকুক। বাড়ির এক মেয়ে দূর ভীনদেশে তো পড়েই আছে।

নিতুও যদি চলে যায়..

-আমি তো আজীবনের জন্য যাচ্ছি না মা। পড়তে যাচ্ছি, ফুরিয়ে গেলে চলে আসবো।

–কোনো বিদেশি পড়াশোনা আমার লাগবে না। আমি শুধু আমার মেয়েকে চাই।

বুকে করে ঘুমোতে চাই। সারাক্ষণ চোখে চোখে রাখতে -একই বাড়িতে থেকে কি আমি তোমার বুকে ঘুমোচ্ছি মা? আলাদা ঘরেই তো থাকছি। এখন যেমন দিনে দুবার দেখা হচ্ছে, তখনো হবে। আমি ভিডিও কল করবো।

বিদেশে এপ্লিকেশন করা নিয়ে বাড়িতে সপ্তাহখানেক মোটামুটি একটা সাইক্লোন গেলো। বাড়ির সবাই নিতুকে তিনবেলা করো বকলো, ধমকালো। মা দুদিন টানা কান্নাকাটি করলেন। বাবা চুপচাপ থাকলেন দশ বারোদিন। বড়চাচা নিতুর দেয়া চা খেলেন না প্রায় দু- সপ্তাহ। নিতু এ নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য করলো না। চুপচাপ সব সহ্য করে গেলো। স্বাভাবিকভাবেই খাওয়া ঘুমানোর চেষ্টা করলো।

শুধু বড়চাচী এ ব্যাপারে সবার সামনে নিতুকে কিছুই বললেন না। আলাদা করে ডেকে পাঠালেন একদিন রাতে। কঠিন স্বরে বললেন,

-নিতু তুমি কি কি বুঝ বুঝতে পারছো, শুধু একটা মানুষের জন্য তুমি তোমার নিজের পুরো পরিবারটিকে একটা বিশাল কষ্টের মাঝে ফেলতে যাচ্ছো? শুধু নিজের কষ্টটা বড় করে দেখাকে কি বলে জানো নিতু? এটাকে বলে স্বার্থপরতা। তুমি নিশ্চয় স্বার্থপর নও?

নিতুর বুক ভার করে এলো।

সলিউশান তো অন্যভাবেও হতে পারতো। দুরে

-মলিউশান রো অন্যভাবেও হতে পারতো। দূরে গিয়েই কেনো? এখানেও তো দূরে থাকা যায়?

We will be happy to hear your thoughts

Leave a reply

Amar Sikkha
Logo