
নিতুর মাহবুব ভাই পর্ব ১৩ ছোট অংশটি অত্যন্ত শক্তিশালী, কারণ এটি বাহ্যিক ঝলমলে অনুষ্ঠানের বিপরীতে নিতুর ভেতরের ক্ষত এবং ব্যক্তিগতভাবে তার বড় হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াকে সূক্ষ্মভাবে দেখিয়েছে।
নিতুর মাহবুব ভাই পর্ব ১৩
বিয়ের দিনে নিতু আবার মাহবুব ভাইয়ের অপছন্দের রঙ পরলো। নীল আর সাদার কম্বিনেশনে জামা সালোয়ার। মিলিয়ে নীল সাদা চুড়ি, নীল টিপ, একপাশে করে মাথায় সাদা ফুল, গলায় নীল সাদায় মেশানো পুঁতির মালা। এমনকি পায়ের হিলটাও পরলো নীল।
রেডি হবার পর মাহবুব ভাইয়ের সাথে সিঁড়িঘরে নিতুর দেখা হলো, কিন্তু কথা হলো না। তিনি নাটের গুরু হিসেবে সবাইকে কিছু একটা ডিরেকশন দিচ্ছিলেন।
নিতু নিচের সিঁড়িটা নেমে এসে ফিরে তাকালো। মাহবুব ভাই দু-হাত নেড়ে নেড়ে কথা বলছেন। কি ঝলমলে মুখটা! কোথাও কোনো ক্লান্তি নেই, মন খারাপ নেই, দুশ্চিন্তা নেই। কথা বলার ফাঁকে ফাঁকে হাসছেন। এই হাসির নাম নিশ্চয়ই তুবন ভুলানো হাসি।
সাদা ধবধবে শার্টটাও যেনো সেই হাসির কাছে ফিকে দেখাচ্ছে। এই মানুষটার ঝাঁকড়া চুলটা যদি থাকতো না… উফ….
অথচ নিতু? আয়নায় তাঁকালেই মনে হচ্ছে এক্ষুনি সে কেঁদে ফেলবে। কাল রাতের ঝড়ে চেহারা আরো মিইয়ে গেছে। চোখের পাতা ভারী হয়ে ফুলে আছে। আর নিচের দিকটা গাঢ় কালচে হয়ে গেছে। গাল ভেঙ্গে বসে গেছে।
পলাশ ডাকলো,
নিতু ওখানে দাঁড়িয়ে কিরে? এখানে আয়, শুনে যা। আমরা খেটে বরপক্ষকে কিভাবে হাস্ত-ন্যস্ত করবো, সেটা নিয়ে দারুণ আলোচনা হচ্ছে।
নিতু পলাশের দিকে তাঁকিয়ে হাসলো,
তোরা কর, আমি আছি তো তোদের সাথে।
যে আলোচনাতে মাহবুব তাই আছেন, সেই আলোচনাতে নিতু কিছুতেই থাকতে চায় না। প্রশ্নই আসেনা।
নিজেকে নিচে শামনে দেখেই যা বললেন।
নিতুকে নিচে আসতে দেখেই মা বললেন,
তোকে কি মিষ্টি দেখাচ্ছে রে নিতু! পরীর মতো! আচ্ছা দুই রঙ মেশানো পরী হয়? নীল সাদা পরী? হয় না বোধহয়! তাহলে সেই পরীটা আজ থেকে তুই।
সুন্দর দেখালেই পরী কেনো হতে হবে মা? পরীরাই যে সুন্দরী হয় এত? কনফার্ম কি করে হচ্ছো? দেখেছো কখনো?
আচ্ছা যা, তুই রূপকথার রাজকন্যার মত সুন্দর।
মা, এবারও ঠিক হলো না। রূপকথাও তুমি দেখোনি। এরকম আর বলবে না। ন্যাকা লাগে।
মা হেসে ফেললেন।
তাহলে এই যে তোকে মিষ্টি দেখাচ্ছে, কি বলবো?
তুমি আমার দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকাচ্ছো, এতেই হবে। আর সবসময় বলতে হবে কেন? আমি কি একটুও বুঝি না?বাব্বা, কি জ্ঞানী জ্ঞানী কথা বলছিস রে নিতু! রুবার বিয়েতে হুট করে তুই বড় হয়ে গেলি। এবার তো তোর বিয়ে দিতে হয়! তারপর ফিতেটা এমনভাবে ছাড়লেন, নিতু আহঃ করে উঠলো।
আপনি কি মনে করেন আমি বড় হইনি?
বড় তো অনেক দূর… তুই এখনো ঠিক করে একা একা দাঁড়তে শিখিসনি। আর এন্ড দ্য মেইন থিং ইজ, ইউ ক্যাননট ফাইন্ড পিস বাই ডিসটার্নিং মাই লাইফ।
আমি আপনার লাইফে ডিসটার্বেন্ড? আমি?
মাহবুব তাই নিজের পরনের ভিজে পাঞ্জাবিটা খুলে সেটা নিতুকে বস্তাধস্তি করে পরিয়ে দিলেন।
আর কখনো এরকম করলে তোকে আমি স্বাদ থেকে লাথি মেরে ফেলে দেবো। ছেঁড়ে মগজ ভর্তা করে ফেলবো। তুই ছোট বলে সবসময় পার পাবি ভাবিস না।
তারপর নিতুকে সেখানে দাঁড়িয়ে রেখে গজগজ করতে করতে চলে গেলেন। নিতু ফিসফিস করে বললো,
আপনার জন্য হওয়া আমার এই খারাপ অসুখটা এবার আমি সারাবেছি, মাহবুব ভাই। সেজন্য যদি আমার হৃদয় কেটে ফেলতে হয়, ফেলবো। আই ডোন্ট কেয়ারা!
নিতু মেঝেতে পড়ে থাকা তাঁর টপটা হাতে একছুটে ঘরে এসে মেঝেতেই শুয়ে পড়লো আর কেঁদে গেলো অনবরত… অনুষ্ঠানে ব্যস্ত সবাই জানলোই না, কি ভয়ংকর অপমানে নিতুর দুনিয়া কেমন ভেঙে গুড়িয়ে যাচ্ছিলো। কেমন চোখ জ্বলে যাওয়া ধোয়ায় চোখের পানির স্রোত বইছিলো। এই অপমান, ভালোবাসা প্রত্যাখ্যাত হবার নয়, অন্যরকম ছিলো, যেটা শুধু নিতুই বুঝতে পারছিলো, আর কেউ নয়…বিয়ের দিনে নিতু আবার মাহবুব ভাইয়ের
অপছন্দের রঙ পরলো। নীল আর সাদার কম্বিনেশনে জামা সালোয়ার। মিলিয়ে নীল সাদা চুড়ি, নীল টিপ, একপাশে করে মাথায় সাদা ফুল, গলায় নীল-সাদায় মেশানো পুঁতির মালা। এমনকি পায়ের হিলটাও পরলো নীল। রেডি হওয়ার পর মাহবুব ভাইয়ের সাথে সিঁড়িঘরে নিতুর দেখা হলো, কিন্তু কথা হলো না। তিনি নাটের গুরু হিসেবে সবাইকে কিছু একটা ডিরেকশন দিচ্ছিলেন।
নিতু নিচের সিঁড়িটা নেমে এসে ফিরে তাকালো। মাহবুব ভাই দু-হাত নেড়ে নেড়ে কথা বলছেন। কি ঝলমলে মুখটা! কোথাও কোনো ক্লান্তি নেই, মন খারাপ নেই, দুশ্চিন্তা নেই। কথা বলার ফাঁকে ফাঁকে হাসছেন। এই হাসির নাম নিশ্চয়ই তুবন ভুলানো হাসি। সাদা ধবধবে শার্টটাও যেনো সেই হাসির কাছে ফিকে দেখাচ্ছে। এই মানুষটার ঝাঁকড়া চুলটা যদি থাকতো না… উফ….
অথচ নিতু? আয়নায় তাকালেই মনে হচ্ছে এক্ষুনি সে কেঁদে ফেলবে। কাল রাতের ঝড়ে চেহারা আরো মিইয়ে গেছে। চোখের পাতা ভারী হয়ে ফুলে আছে। আর নিচের দিকটা গাঢ় কালচে হয়ে গেছে। গাল ভেঙে বসে গেছে।
পলাশ ডাকলো,
— নিতু, ওখানে দাঁড়িয়ে কিরে? এখানে আয়, শুনে যা। আমরা খেটে বরপক্ষকে কিভাবে হাস্ত-ন্যস্ত করবো, সেটা নিয়ে দারুণ আলোচনা হচ্ছে।
নিতু পলাশের দিকে তাকিয়ে হাসলো,
— তোরা কর, আমি আছি তো তোদের সাথে।
যে আলোচনায় মাহবুব তাই আছেন, সেই আলোচনায় নিতু কিছুতেই থাকতে চায় না। প্রশ্নই আসে না।
নিজেকে নিচে শামনে দেখেই যা বললেন।
নিতুকে নিচে আসতে দেখেই মা বললেন,
— তোকে কি মিষ্টি দেখাচ্ছে রে নিতু! পরীর মতো! আচ্ছা, দুই রঙ মেশানো পরী হয়? নীল-সাদা পরী? হয় না বোধহয়! তাহলে সেই পরীটা আজ থেকে তুই।
— সুন্দর দেখালেই পরী কেনো হতে হবে মা? পরীরাই যে সুন্দরী হয় এত? কনফার্ম কী করে হচ্ছো? দেখেছো কখনো?
— আচ্ছা যা, তুই রূপকথার রাজকন্যার মত সুন্দর।
— মা, এবারও ঠিক হলো না। রূপকথাও তুমি দেখোনি। এরকম আর বলবে না। ন্যাকা লাগে।
মা হেসে ফেললেন।
— তাহলে এই যে তোকে মিষ্টি দেখাচ্ছে, কী বলবো?
— তুমি আমার দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকাচ্ছো, এতেই হবে। আর সবসময় বলতে হবে কেন? আমি কি একটুও বুঝি না?
বাকা, কি জ্ঞানী জ্ঞানী কথা বলছিস রে নিতু। রুবার বিয়েতে তুই হুট করে বড় হয়ে গেলি। এবার তো তোর বিয়ে দিতে হয়!
-নিতু, ফ্রিজে ঠান্ডা পানি আছে না?
নিতু হেঁচকি তুলে বললো, আছে,
–এক কাজ কর, আমার জন্য লেবু দিয়ে একগ্লাস শরবত বানিয়ে নিয়ে আয়। বিয়ের ঝামেলায় আমার কিছুই খাওয়া হয়নি। শরীর কাহিল হয়ে গেছে বুঝলি?.
কিছুই খাওয়া হয়নি। শরীর কাহিল হয়ে গেছে বুঝলি? বিয়েতো আর কাহিল শরীরে করা যায় না। বিয়ে একটা মহাশক্তির কাজ। একগ্লাস পানিতে চার চামচ চিনি দিবি। প্রচুর ক্যালরি দরকার আমার।
নিরু কাঁদতে কাঁদতে শরবত বানাতে গেলো। কিন্তু কি আশ্চর্যা শরবতের জন্য তাঁকে গ্লাসে পানি নিতে হচ্ছে না। তাঁর চোখের পানিতে আপনাতেই গ্লাস ভরে যাচ্ছে। নিতু বারবার গ্লাস খালি করে পানি আনতে যায়। বারবার নিতুর চোখের পানিতেই গ্লাস ভর্তি হয়ে যায়। নিতু কিছুতেই চোখের পানি থামাতে পারে না। একসময় মাহবুব ভাই এসে নিতুকে ধমকালেন।
-কিরে? শরবত রেডী হয়নি? বিয়ে করতে দেরি হয়ে যাচ্ছে আমার।
-শরবত বানাতে পারছি না মাহবুব ভাই। আমার চোখের পানিতে গ্লাস ভর্তি হয়ে যাচ্ছে।
-ওহ। তাই নাকি? দে তোর চোখের পানিটাই দে… খেয়ে ফেলি!
মাহবুব ভাই নিতুর হাত থেকে গ্লাস নিয়ে একটানে সেটা খেয়ে ফেললেন। সাথে সাথেই নিতুর চোখের জল শুকিয়ে গেলো।
সেটা খেয়ে মাহবুব ভাই তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে বললেন,
-টেস্টটা দারুণ তো। শরীরও তো বেশ চাঙ্গা লাগছে। বাহ তোর চোখের পানিতে এত শক্তি! দে দেখি আরেক গ্লাস চোখের পানি দো নিতু বললো,
-এখনতো আমার আর কান্না পাচ্ছে না।
-কান্না পাচ্ছে না মানে? আমার তো তৃষ্ণা মিটলো না। নে কাঁদবার চেষ্টা কর…. নিতু কাঁদতে চেষ্টা করলো, কিন্তু কিছুতেই চোখে পানি আনতে পারলো না। মাহবুব ভাই রেগে গেলেন।
হুংকার দিয়ে বললেন,
-যতক্ষণ না তুই আমাকে আরেক গ্লাস কান্না শরবত না খাওয়াবি আমি এখান থেকে নড়বো না। কান্না শুরু কর…
-আমার কান্না পাচ্ছে না।
-মারবো থাপ্পড়া কান্না পাচ্ছে না। তুই না কাঁদলে আমি গায়ে জোর পাবো কি করে?
মাহবুব ভাইয়ের রাগ দেখে নিতু শব্দ করে কেঁদে উঠলো। কিন্তু কি আশ্চর্যা চোখে তো পানি আসছে না। মাহবুব ভাই আরো রেগে গেলেন। টেবিলের গ্লাসটা ছুঁড়ে ভেঙে ফেললেন। গ্লাস ভাঙার শব্দে নিতুর ঘুম ভেঙে গেলো। ইশ। কত রাগ
মানুষটার। এত অদ্ভুত একটা স্বপ্ন সে কেন দেখলো। এমন স্বপ্ন দেখে তো আর কাউকে না বলে থাকা যায় না।
মাহবুব ভাইকে কি একটা ফোন করবে।
মাহবুব ভাই দু-বারে ফোন ধরলেন না। মিনিট কয়েক পর ফোন ব্যাক করলেন। নিতু ফোন ধরতেই বললেন,
–একটু আগেই তোকে স্বপ্নে দেখলাম। কি যন্ত্রণাই না দিচ্ছিলি আমাকো এখন আবার ফোন করে যন্ত্রণা দিচ্ছিস। কিরে স্বপ্নের যন্ত্রণা কি কম হয়েছে?
আমি? স্বপ্নে?
-তুই ছাড়া আর কে? এই বাংলাদেশে কি আর কেউ
আমাকে যন্ত্রণা দিতে পারে?
-ইয়ে মানে, আমিও তো স্বপ্ন দেখলাম…
–ওহ তুই তাহলে সত্যিই স্বপ্ন মারফতে এসেছিলি। শোন নিতু তোকে আমি ভালো করে ওয়ার্ন করে দিচ্ছি, তুই আর কোনোদিন আমার স্বপ্নে হাজির হবি না। আমার স্বপ্নের যন্ত্রণাময় যাবতীয় কর্মকান্ড থেকে আমি তোকে বহিষ্কার করলাম। ইউ আর এক্সপেলড। মাহবুব ভাই ফোন রেখে দিলেন।
নিতু এবার রুবা আপাকে ফোন করলো।
রুবা আপ্য ফোন ধরেই দিলেন ধমক।
–এত রাতে ফোন করলি যে? কটা বাজে দেখেছিস?
–একটা খারাপ স্বপ্ন দেখলাম।
-খারাপ স্বপ্ন দেখলেই আমাকে ফোন করবি? আমি কি তোর দুঃস্বপ্নের
খাবনামা?
–আসলে তুমি তো আমার একমাত্র…
-এত প্যানপ্যান না করে বলে ফেল কি স্বপ্ন? শুধু জিস্ট বলবি।
-দেখলাম, আমি যাকে ভালোবাসি সে আমার চোখের পানি শরবতের মত খেয়ে ফেলেছে
আমাকে যন্ত্রণা দিতে পারে?
-ইয়ে মানে, আমিও তো স্বপ্ন দেখলাম…
-ওহ তুই তাহলে সত্যিই স্বপ্ন মারফতে এসেছিলি। শোন নিতু তোকে আমি ভালো করে ওয়ার্ন করে দিচ্ছি, তুই আর কোনোদিন আমার স্বপ্নে হাজির হবি না। আমার স্বপ্নের যন্ত্রণাময় যাবতীয় কর্মকান্ড থেকে আমি তোকে বহিষ্কার করলাম। ইউ আর এক্সপেলড। মাহবুব ভাই ফোন রেখে দিলেন।
নিতু এবার রুবা আপাকে ফোন করলো।
রুবা আপা ফোন ধরেই দিলেন ধমক।
-এত রাতে ফোন করলি যে? কটা বাজে দেখেছিস?
–একটা খারাপ স্বপ্ন দেখলাম।
-খারাপ স্বপ্ন দেখলেই আমাকে ফোন করবি? আমি কি তোর দুঃস্বপ্নের
খাবনামা?
–আসলে তুমি তো আমার একমাত্র…
-এত প্যানপ্যান না করে বলে ফেল কি স্বপ্ন? শুধু জিস্ট বলবি।
-দেখলাম, আমি যাকে ভালোবাসি সে আমার চোখের পানি শরবতের মত খেয়ে ফেলেছে
-সেটা তো স্বপ্নে। বাস্তবে তো আর নয়।
–তাও তো… কাল হয়তো স্বপ্নে দেখনি তোর বুকে বসিয়ে তাঁকে চোখের পানি নাকের পানি মিশিয়ে লাচ্ছি বানিয়ে খাওয়াচ্ছিস। এরপর একদিন হয়তো সে তোর কলিজা খেতে চাইবে। তখন কি করবি? আমাকে ফোন করবি?
-সে মোটেও এইরকম না। রাগী কিন্তু মানুষ ভালো।
-মানুষ ভালো হয়ে তোর লাভটা কি? তুই তো তাঁর ভালোমানুষি ইনজয় করতে পারছিস না তাইনা?
–এখন বল চুপিচুপি অভিমান করে কি লাভ হচ্ছে?
-না।
-তাহলে এখন কি করতে হবে? নিতু জবাব দিলো না।
-এখন তোকে ভালোবাসা প্রকাশ করতে হবে। তাকে তোর মত করে বানাতে হবে।
-তুমি জানো সে আমার তাস না। কোনো দানেই সে আমার জন্য চাল ফেলে না।
-ফেলবে ফেলবে, চাল ফেলবে। দেখ তুই যে তাঁকে পছন্দ করিস যে কি ব্যাপারটা জানে?
না।
-কেনো জানেনা?
বলিনি তো।
-কেনো বলিসনি?
লজ্জা লাগে।
-আচ্ছা তোদের মাঝে ঝগড়া কবে থেকে?
-যখন থেকে আমি রাগ করেছি! তোমার বিয়ের সময়ে খুব বাজে একটা ঘটনার পর থেকে।
-কষ্ট বেশি কে পাচ্ছে তাতে?
-আমিা
-আগে কষ্ট হতো না?
-আগে তো আমি রাগ করতাম না।
-এখন কেনো করছিস?
-আমি যে তাঁকে পছন্দ করি সে এটা কেনো বুঝেনা?
-বুঝাতে চেষ্টা করেছিস?
—আগে একটু একটু করেছি, ভালো করে নয়। আসলে তিনি এত মুখপাত্বরে যে বুঝানোর সুযোগও পাই না। কখন ফট করে সবাইকে আলত ফালত বলে দেন
কখন ফট করে সবাইকে আলতু ফালতু বলে দেন।
তাহলে দ্যাখ, ঘুরেফিরে আমরা শুরুতেই চলে এলাম। তুইই তাঁকে ভালোবাসছিস, তুইই তাঁকে বলছিস না. তুইই তাতে রাগ করছিস, তুইই কষ্ট পাচ্ছিস… এমন তো নয়, তুই তাঁকে বলেছিস ভালোবাসি, আর যে মানা করে দিয়ে বলেছে, খবরদার ভালোবাসবে না।
-উনি এরকম বলেননি। কিন্তু উনার মেজাজ খুব গরম। সবসময় আমার সাথে রেখে কথা বলেন।
হতে পারে তুই ভালোবাসাটা ঠিকঠাক বুঝাতে পারছিস না বলে উনি রাখ করেন। এই যে তুই আমায় এত রাতে ফোন করলি আমিও তো রেগে কথা বলছি, তার মানে কি আমি তোকে ভালোবাসি না?
নিতু চুপ করেই রইলো।
-তোর একদমই প্রেজেন্স অফ মাইন্ড নেই।
তুমি আমার সব গুলিয়ে দিচ্ছো।
খুব মনোযোগ দিয়ে শোন নিতু, তুই তাঁকে ভালোবাসা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে অনেক কিছুই করছিস। তাতে রেজাল্ট কি? তোর কষ্ট হচ্ছে। যখন ভালোবাসতি তখনও কষ্ট পেতি। এখন বল, কোন কষ্টটা তোকে বেশি ভোগায়? এক্সাক্টলি ভেবে বল।
ভালো না বাসার কষ্টটা
-আরেকটু স্পেসিফিক করে বলি, যখন ভাবিস তাঁকে ভালোবাসা বন্ধ করে দিবি, তখন কেমন লাগে তোর?
অনেক কষ্ট হয়। অনেকা মাঝে মাঝে তো আমার মরে যেতে ইচ্ছে করে। কিন্তু বাড়ির লোকেদের কষ্ট হবে ভেবে মরতে পারি না।
ফাইন। তাহলে মোরাল অফ দ্য টপিক কি দাঁড়ালো? ভালোবাসায় শুধু ভালোবেসে যেতে হয়। নাহলে কষ্ট। আর কষ্ট যদি পেতেই হয়, ভালোবেসে কষ্ট পাওয়াই ভালো কিনা?
-ই। আমি এখন কি করবো?
ঠিক এক্ষুনি তোর ভালোবাসা আরম্ভ করবি এবং কষ্ট হলেও ভালোবাসবি। এবং মোস্ট ইম্পর্টেন্টলি আর কখনোই এত রাতে আমাকে আর ফোন করবি না। সোহেলকে আমার আদর করার সময় নষ্ট হয়।
-একটু কথা বললেই?
-তোর যদি কখনো ভালোবাসার আদর হয়, দেখবি দুনিয়া ভুলে যেতে ইচ্ছে করছে। দু’সেকেন্ড নষ্ট হলেও মনে হবে, সর্বনাশ! জীবনের সর্বনাশ।
সত্যি?
-তোর চোখের চশমার মত সত্যি। সুতরাং সময় নষ্ট না
করে তোর গর্দভটার কাছ যাহ। আবার ভালোবাসা শুরুকর।
রুবা আপা ফোন রেখে দিলেন। শুধু তাই নয়, নিতু আবার ফোন ডায়াল করতেই দেখলো মোবাইল সুইচড অফ।
