
বর্তমানে যাদের বয়স ১৬-১৮ বা তার বেশি তারা নতুন ভোটার আবেদন ফরম দিয়ে আবেদন করতে পারবে। বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে ১৬ বছর হলেই ভোটার হওয়া যাবে।
আপনি বাংলাদেশের নাগরিক কিন্তু এখনও ভোটার নিবন্ধিত হননি, আপনার বয়স যদি ১৮ বছর বা বেশি হয়ে থাকে কিন্তু এখনও ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হননি তাহলে Online (//services.nidw.gov.bd/nid-pub/register-account ) এ ফরম পূরণ করে আপনার সিডিউল মোতাবেক সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করে বায়োমেট্রিক প্রদান করুন।
নতুন ভোটার আবেদন ফরম 2026
এখানে ভোটার আবেদন ফরম পেয়ে যাবেন তাঁর আগে নতুন ভোটার হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কী কী লাগে তা জেনে নেই_
১. নতুন ভোটার হওয়ার জন্য https://services.nidw.gov.bd ঠিকানায় অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করুন
২. আবেদন প্রক্রিয়াটি যথাযথ সম্পন্ন হলে নির্ধারীতফরমটি ডাউনলোড করে উভয় পৃষ্ঠায় প্রিন্ট করুন
৩. প্রিন্টকৃত ফরম-২/৩ এর শনাক্তকারীর ক্রমিকে নিকটাত্মীয় (পিতা-মাতা, ভাই-বোন) এর এনআইডি নম্বর ও স্বাক্ষর এবং যাচাইকারীর ক্রমিকে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধির এনআইডি নাম্বার ও সিলসহ স্বাক্ষর নিশ্চিত করুন
৪. বাদপড়া (যাদের জন্ম তারিখ ০১/০১/২০০০ এর পূর্বে) ভোটারদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জনপ্রধিনিধি কর্তৃক ইতো: পূর্বে কখন’ই ভোটার হননি মর্মে প্রত্যয়ন দাখিল করতে হবে
৫. শিক্ষাগত যোগ্যতার (এসএসসি/৬. পিতা-মাতার এনআইডি (পিতা-মাতা উভয়ে’ই মৃত হলে মৃত্যুর সনদ সংযুক্ত করুন)
৭. অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ
৮. পাসপোর্ট (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
৯. নাগরিকত্ব সনদ
১০. রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার প্রতিবেদন
১১. স্বামী/স্ত্রীর এনআইডি কপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
১২. বিদ্যুৎ বিলের কপি (নিজ/পিতা-মাতা নামীয়), অন্যান্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এনআইডি কপি ও প্রত্যয়নসহ
১৩. বিবাহের কাবিননামা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)জেএসসি/পিইসি) সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
অনলাইনে ভোটার আবেদন করবেন যেভাবে
অনলাইনে নতুন ভোটার নিবন্ধন করার জন্য services.nidw.gov.bd সাইটে ভিজিট করুন এবং নতুন ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে।
আপনি নিজে NID Application Form পূরণ করার আগে বিস্তারিত প্রক্রিয়াটি ১ বার ভালভাবে পড়ে নিন। এরপর ধাপগুলো অনুসরণ করে আবেদন করুন। তাহলে আপনি নির্ভুলভাবে আবেদনটি করতে পারবেন।
ধাপ ১- একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন
প্রথেমেই এই লিংকে যান NID Application Form এবং এখানে আপনার নাম, জন্মতারিখ ও ক্যাপচা কোডটি লিখে বহাল বা সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ২- একাউন্ট ভেরিফিকেশন
- তারপর মোবাইল ভেরিফিকেশনের জন্য একটি মোবাইল নম্বর দিতে হবে। অবশ্যই আপনার সচল এবং এই মহুর্তে আপনার কাছে আছে এমন মোবাইল নম্বরটি দিবেন।
- অবশ্যই আপনার বা যার আবেদন করছেন তার নিজের মোবাইল নম্বর দিতে হবে। কারণ ভবিষ্যতে লগইন করার জন্য বা পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের জন্য নম্বরটি প্রয়োজন হবে।
- এবার আপনার মোবাইলে আসা ৬ ডিজিটের ভেরিফিকেশন পিন কোডটি লিখুন এবং বহাল বাটনে ক্লিক করে পরবর্তী ধাপে যান।
ধাপ ৩- একাউন্ট তৈরি করুন
১. এখানে আপনাকে একটি ইউনিক ইউজারনেম (Username) ও পাসওয়ার্ড (Password) সেট করতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে এই ইউজার ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগ ইন করে, জাতীয় পরিচয়পত্র ডাউনলোড, সংশোধনের আবেদন ও অন্যান্য সেবা নিতে পারবেন।
২. ইউজারনেম ইংরেজি নাম ও সংখ্যার মিশ্রনে দিবেন এবং পাসওয়ার্ড কমপক্ষে ৮ ডিজিটের হতে হবে।
৩. যদি Username Already Exists ইউজারনেম ইতোমধ্যে ব্যবহৃত হয়েছে এমন সমস্যা দেখায়, ইউজারনেম পরিবর্তন করে পুনরায় চেষ্টা করুন।
মনে রাখবেন, আপনার ইউজারনেম অন্য কারে সাথে যেন না মিলে। তাই মাথা খাটিয়ে এটা লিখুন যেন ইউনিক হয়।

ধাপ ৪: NID Application Form পূরন করুন
জাতীয় পরিচয়পত্র সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন ও লগইন করার পর আপনি নিচের মত একটি ড্যাশবোর্ড পাবেন। যদি অটোমেটিক লগ ইন না হতে পারেন, আপনার ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগ ইন করতে পারবেন।

এখান থেকেই, আপনাকে নতুন ভোটার আবেদন করতে হবে। প্রোফাইল অপশনে ক্লিক করুন এবং উপরের ডান পাশ থেকে এডিট বাটনে ক্লিক করুন।
তারপর নিচের মত একটি পেইজ পাবেন, যেখানে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, অন্যান্য তথ্য ও ঠিকানা লিখতে হবে।

প্রথম ১ম অংশে আপনার সকল তথ্য এবং অবশ্যই আপনার পিতা ও মাতার নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর লিখতে হবে।
বড় ভাই/ বোনের তথ্য প্রদান না করলেও চলবে। এর পর স্বামী/স্ত্রীর তথ্য বৈবাহিক অবস্থা অবশ্যই দিবেন, এবং স্বামী বা স্ত্রীর নাম জাতীয় পরিচয়পত্র অনুসারে দিবেন।

এর পর ২য় অংশ অন্যান্য তথ্যে ক্লিক করুন।

এখানে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা ও ধর্ম বাছাই করুন। অন্য তথ্যগুলো সম্ভব হলে দিতে পারেন, না দিলেও কোন সমস্যা হবেনা।
এরপর ৩য় অংশ ঠিকানা অপশনে যান এবং আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা বাছাই করুন।

আপনি বর্তমানে বাংলাদেশ থাকলে এখানে বাংলাদেশ সিলেক্ট করুন। তারপর আপনি বর্তমান নাকি স্থায়ী ঠিকানায় ভোটার হতে চান সেই ঠিকানার পাশে (এই ঠিকানায় ভোটার) এর পাশে টিক দিন।
আপনি বিদেশ থেকেও নতুন ভোটারের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে সব দেশে এখনো নির্বাচন কমিশন এই কার্যক্রম চালু করেনি।
বর্তমান ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানা নির্বাচন করুন এবং ভোটার এরিয়া নির্বাচন করুন। পরবর্তী ধাপে আপনাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করতে হবে।
ধাপ ৩- আবেদন সাবমিট ও নতুন ভোটার আবেদন ফরম ডাউনলোড করুন
এ ধাপে আপনার অবশ্যই প্রয়োজনীয় কাগজগুলোর স্ক্যানড কপি বা ছবি আপলোড করতে হবে না।

আপনার আবেদনের বিস্তারিত তথ্যসমূহ পুনরায় যাচাই করে নিন যাতে কোন ভুল না থাকে। তথ্যসমূহ সঠিক থাকলে আপনার আবেদনটি নিশ্চিত করুন ও জমা দিন।
অনলাইনে আবেদন জমা হলে, ড্যাশবোর্ড থেকে আপনার আবেদন ফরমটি ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে নিন।
এরপর আপনি যে এলাকায় ভোটার হওয়ার আবেদন করেছেন সেখানকার উপজেলা নির্বাচন অফিস অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ জমা দিন। অনলাইন আবেদনের পাশাপাশি আপনাকে আরও একটি ভোটার নিবন্ধন ফরম হাতে পুরণ করতে হবে।
২. তথ্য যাচাই ও বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান
এ ধাপে আপনার আবেদনটি উপজেলা বা জেলা নির্বাচন অফিস যাচাই বাছাই করবে। যাচাই করার জন্য আপনার সাথে তারা যোগাযোগ করতে পারে। সব কিছু ঠিক থাকলে আপনাকে বায়োমেট্রিক প্রদানের জন্য ডাকা হবে।
আবেদনটি যাচাই-বাছাই শেষে আপনার Biometric Information নেয়ার জন্য ডাকা হবে। এর ১৫ থেকে ৩০ দিন পরে আপনার আবেদনটি অনুমোদিত হলেই আপনি অনলাইন হতে জাতীয় পরিচয়পত্র ডাউনলোড করতে পারবেন।
