দ্রুত দোয়া কবুলের ৬টি আমল 2026

হাদিসে বর্ণিত দ্রুত দোয়া কবুলের আমল হচ্ছে আজকের মূল বিষয়। আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন দোয়া করে থাকি কিন্তু দোয়া দ্রুত কবুল না হয়ে পরবর্তীতে কবুল হয়। মহান আল্লাহ্‌ তায়ালা সকলের দোয়া কবুল না করলেও তিনি কাউকে ফিরিয়ে দেন না, কোনো না কোনো সময়ে সবার চাওয়া পুরণ করবেন। আমরা যদি দ্রুত দোয়া কবুল করতে চায় তাহলে রাসুল (সা.) এর দেওয়া কিছু আমল করতে পারি তাহলে দ্রুত আমাদের দোয়া আল্লাহর কাছে কবুল হবে। 

১. দরুদ শরিফসহ দোয়া করা

আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদ শরিফসহ দোয়া করা। আল্লাহর প্রশংসা যেমন, আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আল আমিন দোয়ার শুরুতে বলা। এ ছাড়া ইসমে আজমের সঙ্গে দোয়া করা উত্তম। হজরত আসমা বিনতে ইয়াজিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ইসমে আজম এই আয়াতদ্বয়ে রয়েছে-

হজরত রাসুলে মাকবুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দোয়া করার পূর্বে দরুদ শরিফ পড়ে, তার দোয়া অবশ্যই কবুল হয়। মহান আল্লাহতায়ালা অসীম দয়ালু; দোয়ার কিয়দাংশ কবুল করে অপর অংশ কবুল না করা তার স্বভাব নয়। এই হাদিসের সারমর্ম এই, দরুদ তিনি অবশ্যই কবুল করে থাকেন, সুতরাং তিনি দরুদ কবুল করে দোয়ার অবশিষ্টাংশ অর্থাৎ প্রার্থনীয় বিষয় অগ্রাহ্য করেন না। শেষ পর্যন্ত উভয় অংশই কবুল করেন।

হজরত আবু সোলায়মান দারানী (রহ.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কোনো দোয়া করে, তার উচিত, প্রথমে দরুদ পড়া এবং দরুদ পড়ে দোয়া শেষ করা। কেননা আল্লাহ উভয় দরুদ কবুল করেন।

২. পবিত্রতা অর্জন  

বিত্রতা অর্জনের পর দোয়া করলে আল্লাহতায়ালা সেই দোয়া কবুল করবেন।

৩. বিনয়ের সঙ্গে দোয়া করা 

বিনয়ের সঙ্গে দুহাত তুলে দোয়া করা। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহতায়ালার নিকট হাত তুলে হাতের তালু সামনে রেখে দোয়া করো। হাত উল্টো করো না। দোয়ার শেষে উত্তোলিত হাত মুখমণ্ডলে বুলিয়ে নাও।’ -আবু দাউদ

আরও পড়ুন  নামাজ নিয়ে দ্বিধা! জানুন কোন নামাজ কত রাকাত

৪. দুই হাত তুলে দোয়া করা

বিনয়, নম্রতা ও দাসত্ব প্রকাশ করার জন্য দোয়ার সময় দুহাতের তালু আসমানের দিকে রাখতে হবে এবং হাত সম্পূর্ণ সম্প্রসারিত করে দুহাতের মধ্যে ২/১ আঙুল পরিমাণ ফাঁক রাখতে হবে। হাত কচলানো, রশি পাকানোর মতো হাতের তালু ঘষাঘষি করা দোয়ার আদবের খেলাপ। মনে রাখবেন, আপনি শাহানশাহেরর দরবারে হাত তুলেছেন, তাই এখানে কোনো ধরনের অমনোযোগিতা কাম্য নয়। এ ছাড়া দোয়া শেষে দুহাত তুলে দোয়া করে দোয়া শেষে হাত দুটি মুখমণ্ডলে মুছে নিবে। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘যে হাত আল্লাহর দরবারে উত্তোলিত হয়, তা একেবারে শূন্য অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে তিনি লজ্জাবোধ করেন।’

৫. মিনতিভরা কণ্ঠে দোয়া করা

মিনতি ও নম্রতার সঙ্গে দোয়া করলে তা ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়। রাসুলে মকবুল (সা.) বলেছেন, ‘দোয়া সব ইবাদতের মজ্জা ও সারাংশ।’ দাসত্বের পরিচয় প্রদানই ইবাদতের উদ্দেশ্য। বান্দার নিজের দীনতা ও অক্ষমতা বুঝতে পারা এবং আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও অপার মহিমা উপলব্ধি করার মধ্যেই দাসত্বের প্রকাশ ঘটে। দোয়ার মাধ্যমে এ দুটি বিষয়ের পরিচয় পাওয়া যায়। অর্থাৎ নিজের অক্ষমতা ও অসহায়ত্ব এবং আল্লাহর অপ্রতিহত ক্ষমতা, অপার মহিমা ও প্রতাপ অন্তরে স্থান পাওয়া আবশ্যক। দীনতা ও নম্রতা দোয়ার মধ্যে যত অধিক হবে ততই মঙ্গল।

৬. গুরুত্বপূর্ণ দিনে দোয়া করা 

শবে কদর, রশবে বরাত, আরাফার মাঠে, সিজদায় লুটিয়ে, মুসাফির ও রোজা পালনরত অবস্থায় দোয়া কবুল হয়। অবশ্যই দোয়া কবুলের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো কিংবা দোয়া কবুল হচ্ছে না এমনটি মনে করা উচিত নয়। দোয়ার সময়ে স্মরণ রাখতে হবে, আল্লাহ আমার কথা শুনছেন, তিনি আমার দোয়া কবুল করবেন, ইনশাআল্লাহ।

We will be happy to hear your thoughts

Leave a reply

Amar Sikkha
Logo