
রক্তে সুগারের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলোনায় বৃদ্ধি পাওয়াকেই ডায়াবেটিস বলে। একবার ডায়াবেটিস হলে তা আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পায় দ্রুত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার উপায় না জানলে এর জন্য আপনাকে বড় ধরনের সমসসায় পড়তে হবে।
ডায়াবেটিস সারাতে হলে একটি স্বাস্থ্যকর খাবার তালিকা মেনে চলতে হবে এবং পর্যাপ্ত শরীরচর্চা করতে হবে। এতে যদি ডায়াবেটিস কমানো না যায়, তাহলে ওষুধ সেবনের প্রয়োজন হতে পারে। চলুন তাহলে জেনে নেই কিভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন করবেন।
দ্রুত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার উপায়
সাধারণত রক্তে সুগারের মাত্রা যদি ৭ পয়েন্টের (mmol/l) উপরে চলে যায়, আমরা তাকে ডায়াবেটিস বলি। তবে এই হিসেবটা খালি পেটের। ভরা পেটে বা খাবার ২ ঘণ্টা পরে রক্তে সুগারের মাত্রা ১১.১ পয়েন্টের বেশি হলে তাকে ডায়াবেটিস ধরা হয়। চলুন নিয়ন্ত্রন সম্পর্কে জেনে নেই-
খাবার
স্বাস্থ্যকর ও সুষম ডায়েটের জন্য আপনাকে বিভিন্ন রকম স্বাস্থ্যকর খাবার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে। একই সাথে কিছু খাবার অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে, যেমন চিনি, লবণ ও চর্বিজাতীয় খাবার। এসব খাবার যতটুকু না খেলেই নয় ঠিক ততটুকুই খাওয়া উচিত। খাবার সময়মত খাবেন, কোনো বেলার খাবার যেন বাদ না পড়ে।
ব্যায়াম
নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম রক্তে সুগারের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করবে। প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে আড়াই ঘণ্টা ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন। সপ্তাহের যেকোনো পাঁচ দিন মাত্র ৩০ মিনিট করে ব্যায়াম করলেও সপ্তাহে আড়াই ঘণ্টা শারীরিক পরিশ্রম করা হয়ে যাবে।
ওষুধ
যদি পর্যাপ্ত ব্যায়াম এবং সুষম খাদ্য তালিকা মেনেও ডায়াবেটিস কমানো না যায়, তাহলে আপনার ওষুধ সেবনের প্রয়োজন হতে পারে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে একেকজনের একেক ধরনের এবং একেক ডোজের ওষুধ খেতে হয়, এমনকি একাধিক ওষুধ সমন্বয় করে সেবন করতে হতে পারে। আবার অনেকের ডায়াবেটিস সারানোর জন্য ইনসুলিনের প্রয়োজন হতে পারে। আপনার জন্য কোন ওষুধটি সঠিক তা ডাক্তার আপনাকে জানাবেন।
ডায়াবেটিস রোগীর খাবার চার্ট pdf
১। বৈচিত্রময় খাবার খাওয়া: প্রতিদিন একই ধরনের খাবার না খেয়ে, নানান রকমের ফলমূল, শাকসবজি ও কিছু শ্বেতসার-জাতীয় খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। যেমন: লাল চালের ভাত, লাল আটার রুটি ও আলু।
২। এসব খাবার কমিয়ে দিন: চিনি, লবণ ও চর্বিজাতীয় খাবারের পরিমাণ একেবারেই কমিয়ে দেওয়া, অর্থাৎ যতটুকু না খেলেই নয় ঠিক ততটুকুই খাওয়া।
৩। সময়মত খাবার খান: প্রতিদিন সকালের নাশতা, দুপুরের ও রাতের খাবার সময়মত খেতে হবে। কোনো বেলার খাবার যেন বাদ না পড়ে।
আপনার যদি খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে প্রতি সপ্তাহে একটু একটু করে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করুন। এভাবে পরিবর্তন আনা আপনার জন্য সহজ হবে। একেবারে সম্পূর্ণ খাদ্যাভ্যাস বদলে ফেলার চেষ্টা না করাই ভালো।
একটি স্বাস্থ্যকর ও সুষম ডায়েটের জন্য পাচঁটি প্রধান গ্রুপ বা পদের খাবার খাওয়া প্রয়োজন। এসব হচ্ছে—
- ফলমূল ও শাকসবজি
- শ্বেতসার সমৃদ্ধ খাবার। যেমন: লাল বা বাদামী চালের ভাত, লাল আটার রুটি বা পাউরুটি
- প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার। যেমন: ডিম, মাছ, মাংস, শিম ও অন্যান্য বীন, ডাল, বিভিন্ন ধরনের বাদাম
- দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার। যেমন: দই, ছানা ও পনির
- বিভিন্ন ধরনের তেল, মাখন, ঘি
আপনার দৈনিক কতটুকু খাবার ও পানীয় প্রয়োজন তা নির্ভর করে আপনার বয়স, লিঙ্গ, শারীরিক পরিশ্রম এবং আপনি আপনার ওজন ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে কী ধরনের লক্ষ্য নির্ধারণ করছেন তার ওপর। সুষম খাদ্যাভ্যাসের অর্থ হল নির্দিষ্ট কিছু খাবার বেশি পরিমাণে এবং অন্যান্য খাবারগুলো কম পরিমাণে খাওয়া। আবার, কেবল এক ধরনের খাবার দেহের সব পুষ্টি উপাদানের চাহিদা পূরণ করতে পারে না। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের মূল হল বৈচিত্র্য। এই বৈচিত্র্য আনা যায় প্রতিদিন মূল পাঁচটি গ্রুপের প্রত্যেকটি থেকে বিভিন্ন খাবার বেছে নেওয়ার মাধ্যমে।

[…] ডায়াবেটিস রোগীদের অনেকে মনে করেন, শুধু শজনে […]
[…] অনেক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে পুরুষদের ডায়াবিটিস হওয়ার সম্ভাবনা মহিলাদের তুলনায় […]