
এখন থেকে ঘরে বসে দলিল তল্লাশি অনলাইনে বাংলাদেশ। মির দলিল তল্লাশি কি বা অনেক পুরাতন দলিল তল্লাশি করবো কিভবে? আপনাদের এই সকল প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আজকের আর্টিকেলটি। এই আর্টিকেলটিতে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করবো জমি নিয়ে।
ঘরে বসে দলিল তল্লাশি অনলাইনে বাংলাদেশ
জমির দলিল অনুসন্ধান বা জমির দলিল দেখার আগে আপনাকে জানা প্রয়োজন কিভাবে একটি জমির দলিল তৈরি হয় এবং জমির দলিল সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ।
দলিল তৈরি করতে প্রথমে দাতা এবং গ্রহীতা কে একসাথে সাব রেজিষ্ট্রী অফিসে যেতে হবে । সাব রেজিষ্ট্রী অফিসে গিয়ে দলিল লেখকের মাধ্যমে দলিল লিখে সাব রেজিষ্টার বরাবর উপস্থাপন করতে হবে ।
সাব রেজিষ্টার দলিল টি দেখে দাতা এবং গ্রহীতা কে যা যা প্রশ্ন করার তা করে এবং লিখিত দলিল টি ভালভাবে যাচায় বাছায় করে দলিল টি রেজিস্ট্রি করে নিবেন ।
সাব রেজিষ্টার কতৃক দলিল টি রেজিস্ট্রি করার পর একটি নিদিষ্ট সময় পর দলিল টি বালামে এন্ট্রি হবে। উল্লেখ্য সকল প্রকার দলিল বালামে এন্ট্রি হয় । এবং বালামে যখন দলিল এন্ট্রি করা হয় তখন দুই টি সূচিপত্র তৈরি করা হয়। একটি সূচিপত্র তৈরি করা হয় দাতা গ্রহিতা এবং দলিলের প্রকৃতি দিয়ে। এবং আরেকটি সূচিপত্র তৈরি করা হয় মৌজা ভিত্তিক দাগ নম্বর দিয়ে।
আপনি যখন জমির দলিল অনুসন্ধান বা পুরাতন দলিল তল্লাশি দিবেন তখন আপনাকে সূচিপত্র অনুযায়ী দলিল তল্লাশি দিতে হবে
আপনি এই বালামের সূচিপত্র নিজেই তল্লাশি দিতে পারবেন। রেজিস্ট্রেশন আইনের ৫৭ ধারা অনুযায়ী আপনার স্বার্থ থাকুক বা না থাকুক আপনি নিজেই এই বালামের সূচিপত্র তল্লাশি দিতে পারবেন।
এজন্য আপনাকে সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার বরাবর একটি আবেদন পত্র লিখতে হবে। এই আবেদনটির প্রেক্ষিতে আপনি নিজেই বালাম বই এর সূচিপত্র নিজেই তল্লাশি করতে পারবেন তবে তার জন্য আপনাকে একটি নির্দিষ্ট সরকারি ফি পরিশোধ করতে হবে।
এর সরকারি ফি হচ্ছে প্রথম বছর ২০ টাকা এবং পূর্ববর্তী প্রতি বছরে খরচ ১৫ টাকা করে। এভাবে আপনি যত বছর প্রয়োজন তত বছরের সূচিপত্র অনুসন্ধান করতে পারবেন। পুরাতন জমির দলিল তল্লাশি দিতে বা জমির দলিল অনুসন্ধান এর জন্য আপনি নিজেই যথেষ্ট।
কারণ অনেক সময় অন্যের দ্বারা এই বালাম বইয়ের সূচিপত্র তল্লাশি দিতে গিয়ে ঠিক মত তল্লাশি না দেওয়ার কারণে আপনার কাঙ্খিত দলিলটি খুজে পাওয়া যায় না। সে ক্ষেত্রে আপনাকে আরো বিরম্বনায় পড়তে হয়।
মনে রাখবেন বালাম বই এ দুটি সূচিপত্র হয়ে থাকে আর আপনি যখন পুরাতন দলিল তল্লাশি বা জমির দলিল অনুসন্ধান করবেন তখন আপনাকে দুটি সূচিপত্রই তল্লাশি করতে হবে।
এরপর আপনি যদি বালাম বইয়ের সূচিপত্রে আপনার কাঙ্খিত জমির দলিলের তথ্য পেয়ে যান তারপর আপনি বালাম বই পরিদর্শন করতে পারবেন। এই বালাম বই পরিদর্শন খরচ মাত্র ১৫০ টাকা।
বালাম বই দুই জায়গায় থাকে যেমন সংশ্লিষ্ট সাব রেজিস্ট্রি অফিসে এবং জেলা রেজিস্ট্রি অফিসে। আপনার জমির রেজিস্ট্রেশনের সময়ের উপরে নির্ভর করবে আপনি কোন অফিসে বালাম এর সূচিপত্র বা পুরাতন দলিল তল্লাশি বা জমির দলিল অনুসন্ধান করতে যাবেন।
সচারচর যা দেখা যায় তাতে বলা যায় যদি আপনার জমির রেজিস্ট্রেশন এক থেকে তিন বছরের মধ্যে হয়ে থাকে তাহলে এটি সংশ্লিষ্ট সব রেজিস্ট্রি অফিসে অনুসন্ধান করতে পারবেন।
আর যদি তিন বছরের আগে হয়ে থাকে তাহলে জেলার রেজিস্ট্রি অফিসে কোন অনুসন্ধান করতে হবে।
সবথেকে ভালো হয় আপনি আপনার স্থানীয় উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে সেখানকার কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করবেন যে উক্ত অফিসে কত সাল পর্যন্ত বালাম বই বা সূচিপত্র রয়েছে। তাহলে আপনি জানতে পারবেন আপনার জমির রেজিস্ট্রির সূচিপত্র কোথায় গেলে পাবেন।
পুরাতন দলিল তল্লাশি করার নিয়ম
আপনি যদি কোন জমি ক্রয় করতে চান তাহলে জমির মালিকানা যাচাই করতে হতে পারে। এজন্য যার জমি ক্রয় করতে চান তার পুরাতন দলিল তল্লাশি করে দেখা উচিৎ। বাংলাদেশ সরকা্রের ভূমি মন্ত্রনালয় এখনো অনলাইন সিস্টেমের এই সাইটি উন্নতি করেনি। তাই বাংলাদেশের কোন দলিলের তথ্য এইভাবে জানা সম্ভব নয় কিন্তু ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে দলিল তল্লাশি করা যায়।
এই ক্ষেত্রে দুটি অবস্থা হতে পারে। এক যদি মূল দলিল থাকে এবং দুই যদি মূল দলিল না থাকে। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে তল্লাশি অপরিহার্য কেননা সূচিপত্র তল্লাশি করে আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে যে, কাঙ্খিত দলিলটি আপনার প্রয়োজন।
যদি মূল দলিল থাকেঃ রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের রেজিস্ট্রি কার্যক্রম শেষ হলে মূল দলিলের শেষ পৃষ্ঠার উল্টো দিকে “দলিলটি কত সালের, কত নম্বার বালাম বইয়ের কত পৃষ্ঠা থেকে কত পৃষ্ঠায় নকল করা হয়েছে” তা লিখে সাব-রেজিস্ট্রার কর্তৃক স্বাক্ষর করা হয়। দলিলে এই তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রি অফিস থেকে সহজেই নকল উঠানো যায়। এই ক্ষেত্রে তল্লাশির প্রয়োজন হয় না।
যদি মূল দলিল না থাকলেঃ একটি দলিল রেজিস্ট্রি অফিসে সম্পাদন হওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য নিয়ে সূচিবহি তৈরি করা হয়। একটি সূচিবহি তৈরি হয় দলিলে উল্লেখিত জমির দাতা/বিক্রেতা, গ্রহিতা/ক্রেতা বা অন্য কোন পক্ষের নাম দিয়ে, আর একটি সূচি তৈরি হয় জমির মৌজার নাম দিয়ে।
আপনার কাছে দলিলের কোন তথ্য না থাকলে নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ সাপেক্ষে রেজিস্ট্রি অফিসে এই সূচিবহি তল্লাশি করে খুঁজে বের করতে পারেন আপনার কাঙ্খিত দলিলটি।
প্রতি দলিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম বা অন্তভুর্ক্ত সম্পত্তির বিবরণ সংক্রান্ত তল্লাশির ক্ষেত্রে ১ বছরের জন্য ২০ টাকা এবং অতিরিক্ত প্রতি বছরের জন্য ১৫ টাকা হলে ফি দিতে হবে।
বিস্তারিত পাবেন ভূমি সেবা অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে।
দলিল তল্লাশি অনলাইনে বাংলাদেশ জমির দলিল চেক কিভাবে করব ?
আপনারা অনেকেই গুগল এ বা ইউটিউবে দলিল তল্লাশি অনলাইনে বা অনলাইনে জমির দলিল চেক লিখে সার্স করেন। হ্যা এটা ঠিক যে বর্তমানে জমি জায়গা সংক্রান্ত অনেক সেবা অনলাইনে পাওয়া যায়।
কিন্তু আপনার জানা উচিত জমির দলিল সংক্রান্ত বিষয় টি স্ব শরীরে রেজিষ্ট্রেশন অফিসে গিয়ে করতে হয়। এবং অনেক সময় সাপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া। এখানে দাতা,গ্রহিতা, রেজিস্ট্রি অফিসার এমন অনেক কিছু সংশ্লিষ্ট থাকে।
দলিল তল্লাশি অনলাইনে বা অনলাইনে জমির দলিল চেক এটা লিখে সার্স দিলে আপনাকে অনেকে কিছুই দেখায়। যেমন খতিয়ান,পর্চা,রেকর্ড ইত্যাদি ।
কিন্তু আপনি যা খুজছেন তা ভিন্ন। সুতরাং আমার মতে আপনাকে দলিল তল্লাশি করতে হলে অবশ্যই উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিসে বা বা জেলা রেজিষ্ট্রেশন অফিসে বালাম বই এর সূচিপত্র তল্লাশি করতে হবে।
