ঢাকার ১০টি দর্শনীয় স্থান যেভাবে যাবেন 2026

ঢাকা জেলায় প্রায় শতাধিক দর্শনীয় স্থান রয়েছে এর মধ্যে ঢাকার ১০টি দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে আপনাদের সাথে শেয়ার করব। ঢাকার এসব জায়গায় দ্রুত যাওয়া যায় এবং সহজেই যেতে পারবেন।

আজকের মূল পোস্ট সম্পর্কে আশাকরছি বুঝতে পেরেছেন, যদি তাই হয় চলুন তাহলে শুরু করা যাক আজকের পোস্ট।

ঢাকার ১০টি দর্শনীয় স্থান

১। লালবাগ কেল্লা

সপ্তদশ শতাব্দীর শেষার্ধে মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের তৃতীয় পুত্র মোহাম্মদ আজমের সময়ে নির্মিত এ কেল্লায় রয়েছে পরীবিবির সমাধি, দরবার গৃহ,
হাম্মামখানা, মসজিদ, দুর্গ ইত্যাদি।বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেঁষে লালবাগ মহল্লায় এর অবস্থান।

২। আহসান মঞ্জিল

বুড়িগঙ্গা নদীর পাড় ঘেঁষে কুমারটুলি এলাকায় এই আহসান মঞ্জিলের অবস্থান। অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে শেখ ইনায়েত উল্লাহ আহসান মঞ্জিলের বর্তমান স্থানে রংমহল নামের একটি প্রমোদ ভবন নির্মাণ করেন। পরে বিভিন্ন হাতঘুরে তা নবাব আব্দুল গনির হাতে আসে। নবাব আব্দুল গনি ভবনটিকে পূণনির্মাণ করেন, ১৮৫৯ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ১৮৭২ সালে শেষ হয়। নিজের ছেলে খাজা আহসান উল্লাহ-এর নামে “আহসান মঞ্জিল” নামটি তখনই রাখেন তিনি। পরে এ বাড়িতে নবাব আহসান উল্লাহ বাস করতেন।

মঞ্জিলটি দুটি অংশে বিভক্ত “রংমহল” এবং “অন্দরমহল”। প্রাসাদেটির উপরে অনেক সুদৃশ্য গম্বুজ রয়েছে। বর্তমানে এটি একটি জাদুঘর; প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী এ জাদুঘর দেখতে এসে থাকেন। শনি থেকে বুধ, প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এবং শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সর্ব সাধারণের জন্য এটি খোলা থাকে। বৃহস্পতিবার ও অন্যান্য সরকারি চুটির দিনে আহসান মঞ্জিল বন্ধ থাকে।

৩। রোজ গার্ডেন

রোজ গার্ডেন আজও দাঁড়িয়ে আছে পুরনো ঢাকার গোপীবাগ এলাকায়। তৎকালীন নব্য জমিদার ঋষিকেশ দাস বিশ শতকের তৃতীয় দশকে (সম্ভবত ১৯৩০ সালে) গড়ে তোলেন এ গার্ডেন। বলধার জমিদার নরেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরীর বাগান-বাড়ির আদলে নির্মিত হয়েছিল রোজ গার্ডেন। তৎকালিন উচ্চবিত্ত হিন্দু সমাজের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল বলধা জমিদারের বাড়ি। একদিন বিনা আমন্ত্রণে ঋষিকেশ গিয়েছিলেন বলধার এক জলসায়। কিন্তু ঋষিকেশ দাস সনাতনী ধর্মে নিম্নবর্ণ হওয়ায় তাকে সেখানে অপমাণিত হতে হয়। তারপরই নির্মাণ করেন রোজ গার্ডেন।

আরও পড়ুন  রেল সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান পড়ুন 2026

রোজ গার্ডেনটি ছিল ২২ বিঘা জমির ওপর। তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের দুলর্ভ সব গোলাপ গাছে সুশোভিত করেছিলেন এ উদ্যানটি। বাগানের প্রধান গেট দিয়ে প্রবেশ করতেই চোখে পরে একটি শান বাঁধানো পুকুর। গেট, পুকুর ও বাগানে ইউরোপীয় স্থাপত্য শৈলিতে নির্মিত অনেকগুলো ভাস্কর্য ছিল। বাগানের পুরো সীমানাজুড়ে ছিল আম গাছের সারি ও মাঝখানে অবস্থিত কারুকার্য মণ্ডিত দ্বি-তল এ ভবনটি।

৪। সাতগম্বুজ মসজিদ

মোহাম্মদপুর বাসস্টপের ১কি.মি. উত্তর-পশ্চিমে এই মসজিদটি অবস্থিত। এর তিনটি বড় গম্বুজ মূল সালাতকক্ষের উপর এবং বাকি ছোটো চারটি চার কোণে স্থাপিত। তাই অনেক আগে থেকেই এর নাম মানুষের মুখে মুখে সাতগম্বুজ মসজিদ হয়ে গেছে।

৫। লালকুঠি

এটি নর্থব্রুক হল নামেও পরিচিত। বুড়িগঙ্গার পাড় ঘেঁষে ফরাশগঞ্জ মহল্লায় অবস্থিত। গোটা ইমারতটি লাল রঙে রঙিন বলে এর নাম হয়েছে লালকুঠি। ৯০৪ খ্রিস্টাব্দে ১৬ অক্টোবর ঢাকার নতুন রাজস্ব ও ডাক অফিস খোলার জন্য ওই দিনেই ঢাকার নবাব পরিবারের সদস্য খাজা মোহাম্মদ ইউসুফের উদ্যোগে নর্থব্রুক হলে একটি বড় সভা করা হয়। শহরের গণ্যমান্য মুসলমান ও ইউরোপিয়দের এতে আমন্ত্রন জানানো হয়। সভায় ব্রিটিশ সরকারকে নতুন প্রদেশ গঠন ও ঢাকায় রাজধানী করার জন্য ধন্যবাদ ও সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। এ ধরনের নানা ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে আছে এই নর্থ ব্রুক হলো।

৬। বায়তুল মুককাররাম মসজিদ

বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ। স্থপতি টি. আব্দুল হুসেন থারিয়ানির নকশায় ও কাবা শরীফের আদলে এটি নির্মান করা হয়।

৭। বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমাপ্তিলগ্নে পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাদের সহযোগীদের সহায়তায় দেশের যে সকল শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবি এবং অন্যান্যদের হত্যা করেছিল তাঁদের শ্রদ্ধার নিদর্শন স্বরূপ ঢাকার রায়ের বাজার ইটখোলায় এ স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়।

৮। ঢাকা শহরের যাদুঘর সমূহ

কম বেশি ৪০টির মত যাদুঘর রয়েছে ঢাকা শহর জুড়ে। সবগুলিকে এখানে দেখাতে পারছিনা। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু তুলে ধরছি শুধু। আহসান মঞ্জিল আর লালবাগ কেল্লায় একটি করে দুটি যাদুঘরের কথা আগেই বলেছি।

  1. শাহবাগে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর।
  2. ঢাকার জিরোপয়েন্টের পাশে জিপিও ভবনে রয়েছে “পোস্টাল জাদুঘর।
  3. জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর” টি দেখতে পাবেন আগারগাঁও প্রশাসনিক এলাকাতে।
  4. ৫নং সেগুন বাগিচায় রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
  5. রাজার বাগের পুলিশ লাইনে আছে পুলিশ জাদুঘর।
  6. মিরপুর চিড়িয়া খানায় রয়েছে প্রাণী জাদুঘর।
  7. সেনানিবাস জাদুঘর, ঢাকা নগর জাদুঘর,
আরও পড়ুন  একটি প্যারাগ্রাফ দিয়ে অনেক প্যারাগ্রাফ লেখার নিয়ম 2026

ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ে রয়েছে বিভাগিয় জাদুঘর, নজরুল জাদুঘর, এ্যানাটমি জাদুঘর, বিমান বাহিনী জাদুঘর, শিশু জাদুঘর, সামরিক জাদুঘর ইত্যাদি।

৯। বাহাদুর শাহ্ পার্ক

পুরানো ঢাকার সদরঘাটের সন্নিকটে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ্ পার্ক। এর পশ্চিমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং উত্তর পশ্চিমে জেলা আদালত অবস্থিত। পূর্বে এর নাম ছিল ভিক্টোরিয়া পার্ক।

১০। রমনা পার্ক

শিশু পার্কের উল্টো পাশেই এই রমনা পার্ক অবস্থিতো। এটি প্রতি দিন খোলা থাকে, কোনো প্রবেশ মূল্য নেই। এর ভিতরে আছে চমৎকার খাল, সরু পায়েচলার রাস্তা, অসংখ্য গাছ আর সবুজ ঘাসের লন। এর ভেতরে আছে চাইনিজ রেস্তরাও।

We will be happy to hear your thoughts

Leave a reply

Amar Sikkha
Logo