চোখ উঠলে করণীয় কি? চোখ ওঠার লক্ষণ ও প্রতিকার 2026

আমাদের অনেকের কোনো না কোনো সময় চোখ উঠেছে। চোখ উঠলে করণীয় কি এবং চোখ ওঠার লক্ষণ ও প্রতিকার জেনে আপনিও এর সমাধান করতে পারবেন। চোখ উঠার প্রধান কারণ ব্যাকটেরিয়া। বিভিন্ন সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন না থাকার কারণে আমাদের চোখে ব্যাকটেরিয়া আক্রমন করে আর তখন চোখে সে সমস্যা সৃষ্টি হয় তাকে আমরা চোখ উঠা নামে জানি।

চোখ ওঠার কারণ ও ঘরোয়া সমাধান (Conjunctivitis) বা চোখ ওঠা রোগ অনেকের মাঝে দেখা দিচ্ছে। এটা সাধারণত ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের কারণে হয় এবং সহজেই একের থেকে অন্যের মাঝে ছড়িয়ে পরে। সাধারণত বিশেষ কোনো চিকিৎসা ছাড়াই কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। চোখ ওঠার সমস্যা একজন থেকে আরেকজনে দ্রুত ছড়িয়ে যেতে পারে। তাই চোখ ওঠা প্রতিরোধের সহজ ও কার্যকর উপায়গুলো জেনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

চোখ উঠলে করণীয় কি?

চোখ উঠলে সাধারণত ডাক্তার দেখানোর প্রয়োজন হয় না। এটি বিশেষ কোনো চিকিৎসা ছাড়া কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নিজে নিজেই সেরে ওঠে। সহজ কিছু ঘরোয়া পরামর্শ মেনেই আপনি সাধারণত চোখ ওঠার লক্ষণ উপশম করতে পারবেন। তবে ক্ষেত্রবিশেষে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়তে পারে।

উল্লেখ্য, চোখ ওঠা অনেক ক্ষেত্রেই খুব ছোঁয়াচে হতে পারে। তাই এটি ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সতর্কতা অবলম্বন করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

চোখ ওঠার ঘরোয়া চিকিৎসা

১। চোখে ঠান্ডা পানির সেঁক নিতে পারেন। এতে চোখ ফোলা ও জ্বালাপোড়া কমে আসতে পারে। এজন্য একটা হালকা ঠান্ডা ফ্লানেলের কাপড় কয়েক মিনিট চোখে আলতোভাবে ধরে রাখবেন। এটি চোখ ঠান্ডা করে, ফলে আরাম লাগতে পারে।

২। চোখ পরিষ্কার করার জন্য পানি ফুটিয়ে জীবাণুমুক্ত করে ঠান্ডা করে নিন। এবার এক টুকরো পরিষ্কার সুতি কাপড় সেই পানিতে ভিজিয়ে নিয়ে আলতোভাবে চোখের পাপড়িগুলো মুছে নিন। এভাবে চোখে জমে শক্ত হয়ে যাওয়া পুঁজ ও ময়লা সহজে পরিষ্কার করা যায়। এক্ষেত্রে অবশ্যই প্রতি চোখের জন্য আলাদা আলাদা কাপড় ব্যবহার করবেন। যাতে এক চোখের জীবাণু অন্য চোখে না ছড়িয়ে পড়ে। কাপড়ের টুকরোর বদলে কটন প্যাডও ব্যবহার করতে পারেন।

আরও পড়ুন  HMPV ভাইরাস কি? HMPV ভাইরাসের লক্ষণ সমূহ 2026

৩। চোখ পুরোপুরি সেরে ওঠার আগ পর্যন্ত চোখের ভেতরে কোনো ধরনের কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করবেন না। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

কখন দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাবেন

চোখ ওঠার সমস্যা সাধারণত ঘরোয়া চিকিৎসায় ভালো হয়ে যায়। তবে চোখ ওঠার সাথে নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে—

    • চোখে ব্যথা হওয়া।
    • চোখ আলোর প্রতি সংবেদনশীল হয়ে পড়া। যেমন, লাইট অথবা রোদের আলোতে চোখে কোনো সমস্যা হওয়া।
    • চোখে আলোর ঝলকানি, কাঁপা কাঁপা দৃষ্টি অথবা আঁকাবাঁকা রেখা দেখতে পাওয়া।
    • দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া এবং চোখ পরিষ্কার করার পরেও ঝাপসা ভাব থেকে যাওয়া।
    • শরীরে র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি ওঠা।
    • এক অথবা উভয় চোখ তীব্র লাল হয়ে যাওয়া।
    • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়া। যেমন: ডায়াবেটিস অথবা এইচআইভি আক্রান্ত রোগী, ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছেন এমন, অর্থাৎ কেমোথেরাপি অথবা রেডিওথেরাপির রোগী ও স্টেরয়েড সেবনকারী ব্যক্তি।
    • ব্যাকটেরিয়াজনিত চোখ ওঠার ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ২৪ ঘণ্টা পরেও অবস্থার উন্নতি না হওয়া।

এগুলো চোখের কোনো গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। তাই দেরি না করে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া প্রয়োজন।

চোখ ওঠার লক্ষণ

চোখ ওঠার কারণের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন লক্ষণ দেখা দিতে পারে। চোখ উঠলে সাধারণত দুই চোখই আক্রান্ত হয়। চোখ ওঠার প্রধান লক্ষণ হলো চোখের সাদা অংশ লাল অথবা গোলাপি রঙের হয়ে যাওয়া। অন্যান্য লক্ষণের মধ্যে রয়েছে—

  • চোখের পাতা ফুলে যাওয়া।
  • চোখের সাদা অংশের ওপরের পাতলা স্বচ্ছ পর্দা ফুলে যাওয়া।
  • চোখ চুলকানো, খচখচ করা কিংবা জ্বালাপোড়া করা। চোখ ওঠার কারণে চোখ লাল হয়ে খচখচ করলে সেটা সাধারণত ছোঁয়াচে হয়।
  • চোখের মধ্যে কিছু ঢুকেছে এমন মনে হওয়া অথবা চোখ চুলকানোর তাড়না হওয়া।
  • চোখ দিয়ে পানি পড়া।
  • চোখে মিউকাস জাতীয় তরল অথবা পুঁজ জমা। পুঁজ শুকিয়ে চটচটে হয়ে চোখের পাতা অথবা পাপড়ি সাময়িকভাবে জোড়া লেগে যেতে পারে। বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে এমন হয়। এই লক্ষণ থাকলে চোখ ওঠা ছোঁয়াচে হয়।
  • কনট্যাক্ট লেন্স পড়লে অস্বস্তি হওয়া অথবা লেন্স চোখে ঠিকমতো না বসা।
আরও পড়ুন  ভিটামিন ই ক্যাপ এর উপকারিতা ও অপকারিতা 2026

এই ছিলো আজকের চোখ উঠলে করণীয় কি এবং চোখ ওঠার লক্ষণ ও প্রতিকার নিয়ে পোস্ট। আশাকরছি আপনাদের উপকার হবে।

1 Comment
  1. Reply
    লেটুস পাতার উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ - Amar Sikkha October 1, 2024 at 2:59 PM

    […] চোখের ইনফেকশনজনিত সমস্যায় (যেমন—চোখ ওঠা) এক বা দুই লিটার পানিতে সামান্য […]

Leave a reply

Amar Sikkha
Logo