
চোখের বালি উপন্যাস রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি সামাজিক উপন্যাস। উপন্যাসের বিষয় “সমাজ ও যুগযুগান্তরাগত সংস্কারের সঙ্গে ব্যক্তিজীবনের বিরোধ”। আখ্যানভাগ সংসারের সর্বময় কর্ত্রী মা, এক অনভিজ্ঞা বালিকাবধূ, এক বাল্যবিধবা ও তার প্রতি আকৃষ্ট দুই পুরুষকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে।
১৯০৪ সালে অমরেন্দ্রনাথ দত্ত এই উপন্যাসের নাট্যরূপ দেন। ১৯৩৮ সালে অ্যাসোসিয়েট পিকচার্সের প্রযোজনায় চোখের বালি অবলম্বনে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়। ২০০৩ সালে বিশিষ্ট পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষ এই উপন্যাস অবলম্বনে চোখের বালি নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন।
চোখের বালি উপন্যাস pdf ফাইল
১৯০১ সালের মার্চ মাসে বন্ধু প্রিয়নাথ সেনকে একটি চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ জানিয়েছিলেন, “বিনোদিনী লিখতে আরম্ভ করেছি, কিন্তু তার উপরে ভারতী এবং বঙ্গদর্শন উভয়েই দৃষ্টি দিয়েছেন, ভারতী প্রত্যহই তাঁর ভিক্ষাপাত্রটি আমার দ্বারে ফেরাচ্চেন। এমন করলে আমি তো আর বাঁচিনে।” অর্থাৎ, চোখের বালি উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশের কৃতিত্ব নিতে ভারতী ও নবপর্যায় বঙ্গদর্শন উভয় পত্রিকাই সচেষ্ট হয়েছিল।
একই মাসে প্রিয়নাথ সেনকে লেখা অন্যান্য চিঠিগুলিতে এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ অনেক কথাই জানিয়েছেন। ওই মাসেই তিনি পরের চিঠিতে লিখছেন, “এ গল্পে ঘটনাবাহুল্য একেবারেই নেই, সেইজন্যে এটা ক্রমশ প্রকাশের যোগ্য নয় কিন্তু মাসিক পত্রিকার করাল কবল থেকে একে যে বাঁচাতে পারব এমন আশা করিনে।
… ভারতীর জন্য আজকালের মধ্যেই একটা লেখা শুরু করতে হবে আজ খুব শক্ত তাগিদ এবং প্রলোভন এসেছে।” এই চিঠিগুলি সবই শিলাইদহ থেকে লেখা হয়েছিল বলে, অনুমান করা হয় চোখের বালি উপন্যাস রচনার সূত্রপাত শিলাইদহেই হয়।
উপন্যাসে চরিত্র গুলি হল :মহেন্দ্র,আশা,বিহারী,বিনোদিনী,রাজলক্ষ্মী,অন্নপূর্ণ । মহেন্দ্র তার মা রাজলক্ষ্মী এর প্রথম অনুরোধ এ বিনোদিনী কে বিবাহ করে না । কিন্তু পরে তার কাকীর অনুরোধে আশা কে বিয়ে করে কিন্তু আশাকে বিয়ে করে সে তার মা কাকী ও পুরাতন বন্ধু বিহারী কে ভুলে যায় । কিন্তু শেষে নানা বাধা বিঘ্ন শেষে আবারও ফিরে আসে।
