
চিঠি বর্তমানে আধুনিক দুনিয়াই প্রায় অচল একটি জিনিস তবুও শিক্ষার্থীদের প্রয়জনে চিঠি লিখতে হয় কিন্তু চিঠি লেখার নিয়ম বাংলা জানেন কি? বর্তমান এই যুগে এসে অনেকেই চিঠি লিখতে জানে না আবার অনেকেই লিখতে জানলেও ভুল লিখে।
আমরা চিঠি বলতে সাধারণভাবে শুধু পরীক্ষায় আসা সেই চিঠিকে বুঝে থাকি কিন্তু আসলে এটি সত্য না চিঠি প্রায় কয়েক প্রকারের হতে পারে, এর মধ্যে আমাদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো ব্যাক্তিগত চিঠি কারণ আমরা বেশিরভাগ পরীক্ষায় এই চিঠি ব্যাবহার করি।
চিঠি লেখার নিয়ম বাংলা
চিঠি লেখার নিয়ম জানার আগে চলুন এক নজরে চিঠি কত প্রকার ও কী কী জেনে নেই_
মানুষের পারস্পরিক আন্তরিক যোগাযোগের একমাত্র সহজ মাধ্যম চিঠিপত্র। চিঠির লেখক বা প্রেরক যেমন বিভিন্ন ব্যক্তি,তেমনই চিঠির উদ্দেশ্য, ক্ষেত্র বা বিষয় ও ভিন্ন ভিন্ন। এসব বিবেচনায় চিঠিপত্র প্রধানত দুই প্রকার:
১। ব্যক্তিগত চিঠিপত্র।
২। বৈষয়িক বা ব্যবহারিক অথবা অনুষ্ঠানিক চিঠিপত্র।
এছাড়াও আরও কিছু চিঠি রয়েছে তবে আমরা আজকে এসব নিয়ে আলোচনা করব না কারণ আমরা এখানে চিঠি লেখার নিয়ম শিখতে এসেছি।
১। ব্যক্তিগত চিঠিপত্র
ব্যক্তিগত বা পারিবারিক প্রয়োজনে মা-বাব, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব বা পরিচিত জনের কাছে আমরা যেসব পত্র লিখি সেগুলোই ব্যক্তিগত পত্র। এ ধরনের চিঠিতে বিশেষ সমস্যা-জটিলতা বা অভিজ্ঞাতার কথাও লেখা যায়। তাই দুর্বোধ্য শব্দ বা অবান্তর কোন কথা এতে না থাকাই ভালো।
২। বৈষয়িক বা ব্যবহারিক চিঠিপত্র।
বিভিন্ন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের নানা ধরনের কর্মকাণ্ড সম্পাদনের লক্ষ্যে যে সব চিঠিপত্র লেখা হয় তাকে বৈষয়িক বা ব্যবহারিক চিঠিপত্র অথবা অনুষ্ঠানিক চিঠিপত্র বলে।
এ জাতীয় চিঠিপত্র কে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
- আবেদন পত্র
- আমন্ত্রন বা নিমন্ত্রন পত্র
- সংবাদ পত্রে প্রকাশের পত্র।
- ব্যবসায়িক পত্র।
- মানপত্র বা অভনন্দন পত্র।
চিঠি লেখার নিয়ম
ব্যক্তিগত চিঠি
বাবার কাছে টাকা চেয়ে পুত্রের চিঠি নমুনা
২১১, লালবাগ, ঢাকা।
তারিখ: ১০/১০/২০২৩ ইং
শ্রদ্ধেয় বাবা,
আমার সালাম নেবেন। আশা করি বাড়ির সবাইকে নিয়ে ভালো আছেন।
আগামী ২১শে নভেম্বর থেকে আমাদের বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে। পড়াশুনায় খুব ব্যস্ত আছি। পরীক্ষায় প্রথম স্থানটি ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তাই বাড়িতে আসতে পারছিনা। স্কুল থেকে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে যে, নভেম্বরের ৫ তারিখের মধ্যে যাবতীয় ফি পরিশোধ করতে হবে। নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মাসিক বেতন, পরীক্ষার ফি ও কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা বাবদ মোট ৪০০০/-(চার হাজার) টাকার দরকার। আব্বা, এ টাকাটা অক্টোবরের ৩০ তারিখের মধ্যে পাঠালে আমার জন্য ভালো হয়।
পরীক্ষার আগে বাড়িতে আসতে পারছিনা বলে মন খারাপ করবেন না। আম্মা আর ভাইয়াকে বলবেন আমার জন্য দোয়া করতে। আপনার নিজের আর আম্মার শরীরের প্রতি যত্ন নিবেন। আজ আর নয়। আল্লাহ হাফেজ।
ইতি-
আপনার স্নেহের,
শহীদ।
বৈষয়িক বা ব্যবহারিক চিঠিপত্রের নমুনাঃ
এলাকায় পাঠাগার স্থাপনের জন্য উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে একটি আবেদন
তারিখঃ ১০/১০/২০২৩ ইং
বরাবর,
উপজেলা চেয়ারম্যান
নড়িয়া উপজেলা পরিষদ
সুনামগঞ্জ।
বিষয়ঃ ময়নামতিতে একটি পাঠাগার স্থাপনের জন্য আবেদন।
জনাব,
সবিনয় নিবেদন এই যে, আমাদের ময়নামতিতে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি বালিকা বিদ্যালয় এবং একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। পাশেই রয়েছে উপশী কলেজ। তাছাড়া এখানে রয়েছে বহু পুরনো একটি বড় বাজার। প্রতিদিন বহু ছাত্র-ছাত্রী ও লোকজনের সমাগম হয় এখানে। অনেকেই আড্ডা দিয়ে অলস সময় কাটায়। অথচ একটি পাঠাগার থাকলে অনেকেই বইপত্র পড়ে সময় কাটাতে পারত। তাতে তাদের জ্ঞানচর্চা, মানস গঠন এবং সৃজনশীল চেতনার বিকাশ হতো।
অতএব, জনাবের নিকট আকুল আবেদন, ছাত্র-ছাত্রী ও জনসাধারণের উপকারের কথা বিবেচনা করে ময়নামতিতে অতিসত্তর একটি পাঠাগার স্থাপনের ব্যবস্থা করে বাধিত করবেন।
নিবেদক
ময়নামতি এলাকার জনগণের পক্ষে,
হিমু।
