
ভারতীয় উপমহাদেশের বাইরের বিভিন্ন ভাষা থেকে যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, সেগুলোকে বলা হয় বিদেশি শব্দ। এসব শব্দের মধ্যে আরবি, ফারসি ও ইংরেজি শব্দের সংখ্যাই তুলনামূলকভাবে বেশি। এছাড়া পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি প্রভৃতি ভাষার শব্দও বাংলায় আছে। আমাদের প্রতিবেশী মায়ানমার (বার্মা), মালয়, চীন, জাপান প্রভৃতি দেশের কিছু শব্দ বাংলা ভাষার শব্দভান্ডারে স্থান করে নিয়েছে। উৎস অনুসারে বিদেশি শব্দগুলোকে এভাবে আলাদা ভাগ করে দেখানো যায়:
কোন শব্দ কোন ভাষা থেকে এসেছে তালিকা
ক. আরবি শব্দ: আজব, আজান, আল্লাহ, আদালত, আলাদা, ঈদ, ইমান, ইশারা, ইসলাম, কবর, কলম, কায়দা, কুরআন, কেয়ামত, খতম, খবর, খালাস, খালি, গরিব, জমা, তফাত, তালিকা, তারিখ, দলিল, নজর, ফকির, মজবুত, মেজাজ, শরবত, সালাম, হাজির, হামলা ইত্যাদি।
খ. ফারসি শব্দ: অজুহাত, আইন, আঙুল, আবাদ, আমদানি, আরাম, ওস্তাদ, কাগজ, কারখানা, কারবার, কারসাজি, খরচ, খুব, খুশি, গরম, চশমা, চাকর, চেহারা, জোর, দরকার, দফতর, দরজা, দালান, নালিশ, পরোয়া, বেকার, মজুর, রসিদ, শিকার, সবুজ, আসামি, ফরিয়াদি, জবানবন্দি, ফেরেশতা, নামাজ, রোজা, বেহেশত, মুনশি, বাগান, গোলাপ, কিশমিশ, আয়না, দুরবিন, রেশম, ময়দা, সিন্দুক, শিশি, রপ্তানি, আওয়াজ, আবহাওয়া, হাজার ইত্যাদি।
গ. ইংরেজি শব্দ: অফিস, আপেল, কেক, ক্যামেরা, ক্লাস, গেট, গ্লাস, চেয়ার, টেবিল, স্কুল, কলেজ, ব্যাংক, টেলিভিশন, কম্পিউটার, জেলি, টিফিন, টেলিফোন, পকেট, পিয়ন, পেন, মাইল, সার্কাস, স্লেট, হাসপাতাল ইত্যাদি।
ঘ. পর্তুগিজ শব্দ: আচার, আতা, আনারস, পেয়ারা, আলকাতরা, ইস্পাত, কামরা, গামলা, গির্জা, গুদাম, চাবি, জানালা, তামাক, তোয়ালে, নিলাম, পাউরুটি, পেরেক, বালতি, বেহালা, বোমা, মিস্ত্রি, সাবান, আলমারি, পিস্তল, কেরানি, পাদরি, ফিরিঙ্গি, ইংরেজ, ইস্তিরি, পেঁপে, বারান্দা, বোতাম, সাগু, কিরিচ ইত্যাদি।
ঙ. তুর্কি শব্দ: কাঁচি, কুলি, কোর্মা, খাঁ, চাকর, চকমকি, তকমা, তোপ, দারোগা, বাবুর্চি, বারুদ, বেগম, বোঁচকা, মুচলেকা।
চ. ফরাসি শব্দ: আঁতাত, কার্তুজ, কুপন, গ্যারেজ, বুর্জোয়া, ডিপো, মাদাম, রেস্তোরাঁ, রেনেসাঁস।
ছ. জার্মান শব্দ: নাৎসি, কিন্ডারগার্টেন, নাজি।
জ. ইতালীয় শব্দ: অপেরা, আউন্স, পিয়ানো, ফ্যাসিস্ট, সোনাটা।
ঝ. স্পেনীয় শব্দ: ডেঙ্গু।
ঞ. ওলন্দাজ শব্দ: ইস্কাপন, ইস্কুপ, তুরূপ, রুইতন, হরতন।
ট. গ্রিক শব্দ: কেন্দ্র, দাম, সুড়ঙ্গ।
ঠ. রুশ শব্দ: বলশেভিক, ভদকা, স্পুটনিক, ভোস্তক, গ্লাসনোস্ত।
ড. জাপানি শব্দ: কিমোনো, জুজুতসু, টাইফুন, রিকশা, মাসুরাই, হাসনুহানা, হারিকিরি, প্যাগোডা, সুনামি, মিতসুবিশি।
ঢ. চীনা শব্দ: চা, চিনি, লিচু, লুচি, এলাচি, সাম্পান।
ণ. মালয়ি শব্দ: কাকাতুয়া।
ত. সিংহলি শব্দ: বেরিবেরি।
থ. বর্মি শব্দ: লুঙ্গি, কিয়াং, ফুঙ্গি।
দ. অস্ট্রেলীয় শব্দ: ক্যাঙারু, বুমেরাং।
ধ. দক্ষিণ আফ্রিকান শব্দ: জেব্রা।
ন. তিব্বতি শব্দ: ইয়াক, লামা।
প. পেরুর ভাষার শব্দ: কুইনাইন।
যেমন: (i) হিন্দি-উর্দু শব্দ: আলাল, ওয়ালা, কাহিনি, পুরি, মিঠাই, তরকারি, কামাই, জলদি, সমঝোতা, জাদুঘর, দেখভাল, খানা (খাদ্য), চালু, জাহাজ, জওয়ান, ঝান্ডা, টহল, ডেরা, পানি, ফালতু, বন্ধ, বিমা, মজদুর, রুটি, রুচি, লাগাতার, হাওয়া, হাওয়াই।
(ii) গুজরাটি শব্দ: খদ্দর, গরবা, তকলি, বাই, হরতাল
(iii) মারাঠি শব্দঃ চামচা (চ্যালা), বর্গি।
(iv) তামিল শব্দ: খুকি, খোকা, চুরুট।
(v) তেলেগু শব্দ: প্যান্ডেল।
(vi) পাঞ্জাবি শব্দ: চাহিদা, শিখ।
রূঢ় শব্দ সমূহ
যে শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থের সঙ্গে ব্যাবহারিক বা প্রচলিত অর্থের কোনো সম্পর্ক নেই, তাই রূঢ়ি শব্দ। অর্থাৎ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে গঠিত যেসব শব্দ তাদের মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে, তাদের রূঢ়ি বা রূঢ় শব্দ বলে। যেমন: ‘মণ্ডপ’ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ‘যে মন্ড পান করে’, কিন্তু প্রচলিত অর্থ ‘দেবালয়’ বা ‘ছাউনি’। এ রকম-
- মহাজন
- প্রবীণ
- সন্দেশ
- হরিণ
- হাতি
- গবেষণা
- বাঁশি
- অন্ন
যোগরূঢ় শব্দ সমূহ
সমাসনিষ্পন্ন যে সব শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে। যেমন: ‘পঙ্কজ’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ‘পঙ্কে যা জন্মায়’। পঙ্কে অনেক কিছুই জন্মায়, কিন্তু ‘পঙ্কজ’ বলতে কেবল পদ্মকেই বোঝায়।
- আদিত্য
- জলদ
- তুরগ
- সুহৃদ
- মহাযাত্রা
১। তারিখ কোন ভাষার শব্দ?
উত্তরঃ আরবি ভাষার শব্দ।
২। পেয়ারা কোন ভাষার শব্দ?
উত্তরঃ পর্তুগিজ ভাষার শব্দ।
৩। পানি কোন ভাষার শব্দ?
উত্তরঃ হিন্দি ভাষার শব্দ।
৪। লুঙ্গি কোন ভাষার শব্দ?
উত্তরঃ বর্মি ভাষার শব্দ।
৫। রেস্তোরাঁ কোন ভাষার শব্দ?
উত্তরঃ ফরাসি ভাষার শব্দ।
৬। আইন কোন ভাষার শব্দ?
উত্তরঃ ফারসি ভাষার শব্দ।
৭। হরতাল কোন ভাষার শব্দ?
উত্তরঃ গুজরাটি ভাষার শব্দ।
Follow Us
Facebook Page: AmarSikkha.com
Linkedin: AmarSikkha.com
Google News: Amar Sikkha
WhatsApp Channel: Amar Sikkha
Telegram: t.me/amarsikkha
