
নামাজ আল্লাহ্ তায়ালার ফরয বিধান যা প্রত্যেক নর-নারীর উপর আদায় করা বাধ্যতামূলক করেছেন মহান আল্লাহ্। কিন্তু অনেকেই জানেন না কোন নামাজ কত রাকাত পড়তে হয় বা জানলেও সব সময় দ্বিধায় থাকেন। আজকে আমরা কোরআন ও হাদিসের আলোকে এই প্রশ্নের উত্তর করার চেষ্টা করব ইনসাআল্লাহ্।
কোন নামাজ কত রাকাত জানুন
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ক্ষেত্রে
সালাতুল ফজর: ফজরে প্রথমে দুই রাকাআত সুন্নাত এবং পরে দুই রাকাআত ফরজ।
সালাতুল জোহর: জোহরের নামাজ প্রথমে চার রাকাআত সুন্নাত। তারপর চার রাকাআত ফরজ এবং তারপর দুই রাকাআত সুন্নাত। এ দশ রাকাআত পড়া উত্তম। কেউ কেউ সর্বশেষ দুই রাকআত নফল নামাজও পড়ে। এ হিসেবে জোহরের নামাজ ১২ রাকাআত আদায় করা হয়।
সালাতুল আসর: আসরের নামাজ চার রাকাআত পড়া ফরজ। কেউ কেউ ফরজের পূর্বে চার রাকাআত সুন্নাত নামাজ পড়ে থাকে।
সালাতুল মাগরিব: মাগরিবে প্রথম তিন রাকাআত ফরজ। তারপর দুই রাকাআত সুন্নাত। কেউ কেউ সুন্নাতের পর দুই রাকাআত নফল পড়ে থাকে।
সালাতুল ইশা: ইশার নামাজে চার রাকাআত ফরজ। তারপর দুই রাকাআত সুন্নাত। অতপর তিন রাকাআত বিতর। বিতর পড়া ওয়াজিব। অনেকে ফরজের পূর্বে চার রাকাআত সুন্নাত এবং বিতরের পর দুই রাকাআত নফলও নামাজ পড়ে থাকে।
| নাম | সময় | ফরযের পূর্বে সুন্নত | ফরয | ফরযের পর সুন্নত |
|---|---|---|---|---|
| ফযর | ঊষা থেকে সূর্যোদয় | ২ রাকাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা | ২ রাকাত | – |
| যুহর | ঠিক দুপুর থেকে আসরের পূর্ব পর্যন্ত | ৪ রাকাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা | ৪ রাকাত | ২ রাকাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা |
| আসর | যোহরের শেষ ওয়াক্ত থেকে সূর্য হলুদ বর্ণ পূর্ব পর্যন্ত অন্য মতে সূর্যস্তের পূর্ব পর্যন্ত | ৪ রাকাত সুন্নাতে গায়রে মুয়াক্কাদা | ৪ রাকাত | – |
| মাগরিব | সূর্যাস্তের পর থেকে গোধূলি পর্যন্ত | – | ৩ রাকাত | ২ রাকাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা |
| ইশা | গোধূলি থেকে অর্ধ রাত পর্যন্ত | ৪ রাকাত সুন্নতে গায়রে মুয়াক্কাদা | ৪ রাকাত | ২ রাকাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা |
| বিতর | ইশার পর থেকে ফজরের পূর্র পর্যন্ত | ৩ রাকাত |
আরও পড়ুনঃ তারাবি নামাজ কত রাকাত
সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে ফজর ৪ রাকাআত; জোহর ১০ রাকাআত; আসর ৪ রাকাআত, মাগরিব ৫ রাকাআত এবং ইশার ৯ রাকাআত নামাজ যথাযথ আদায়ে যত্নবান হওয়া আবশ্যক।
হাদিস অনুসারে নামাজের গুরুত্ব
নামাজ (সালাত) ইসলামের পাঁচটি রোকন মধ্যে দ্বিতীয় রোকন৷ এ বিষয়ে ইবনে ওমর রাঃ বলেন, আমি রাসুল (সঃ) কে বলতে শুনেছি— ইসলামের মূল ভিত্তি পাঁচটি , “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ” এর সাক্ষ্য প্রদান করা, সালাত কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, রমজান মাসের রোজা পালন করা এবং সামর্থ থাকলে হজ্বব্রত পালন করা ৷ (সহিহ মুসলিম; কিতাবুল ইমান) অপর হাদিসে রাসুল (সঃ) বলেছেন, দ্বীনের মূল বিষয় হলো ইসলাম, এবং মূল স্তম্ভ হলো নামাজ, আর তার সর্বোচ্চ চূড়া হলো জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ ৷ (সহিহ মুসলিম, তিরমিযী, মুসনাদে আহমাদ)।
অন্য আরেক হাদিসে এসেছে– আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত: তিনি আল্লাহ্র রসূল (সঃ)-কে বলতে শুনেছেন, বলতো যদি তোমাদের কারো বাড়ির সামনে একটি নদী থাকে, আর সে তাতে প্রত্যহ পাঁচবার গোসল করে, তাহলে কি তাঁর দেহে কোন ময়লা থাকবে? তারা বললেন, তাঁর দেহে কোনরূপ ময়লা বাকী থাকবে না। আল্লাহ্র রসূল (সঃ) বললেন: এ হলো পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের উদহারণ। এর মাধ্যমে আল্লাহ্ তাআলা বান্দার গুনাহসমুহ মিটিয়ে দেন। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫২৮)
