
বাংলা দ্বিতীয় পত্রে কারক বিভক্তি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখন কারক চেনার সহজ উপায় না জানলে পরীক্ষায় কারক নির্ণয় করতে পারবেন না। বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কারক বিভক্তি অবশ্যই থাকে।
চাকরি পরীক্ষায় যেমন কারক গুরুত্বপূর্ণ তেমনি এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য কারক অবশ্যই শিখতে হবে। কারক শব্দটির ব্যাকরণগত অর্থ হলঃ যা ক্রিয়া সম্পাদন করে। বাংলা ব্যাকরণ শাস্ত্রে, কারক বলতে মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের সম্পর্ককে নির্দেশ করে। কারকের সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়। মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে। এখন কোনটি কোন কারক কিভাবে চিনতে হয় টা জানবো।
কারক চেনার সহজ উপায়
কারক ছয় প্রকার: কর্তা কারক, কর্ম কারক, করণ কারক, অপাদান কারক, অধিকরণ কারক ও সম্বন্ধ কারক।
কর্তা কারক
ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে। বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক। কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না। (কর্তা কারক চেনার আরেকটি সহজ উপায় হলো “কে বা কারা” দিয়ে প্রশ্ন করা)। যেমন –
- আমরা নদীর ঘাট থেকে রিকশা নিয়েছিলাম।
অনেকগুলো বন্য হাতি বাগান নষ্ট করে দিল।
কর্তা কারকে কখনো কখনো-এ বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন
- পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায়।
কর্ম কারক
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে। ( কর্ম কারক চেনার সহজ উপায় হলো “কি বা কাকে” দিয়ে প্রশ্ন করলে যদি উত্তর পাওয়া যায়)। যেমনঃ
- সে রোজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়।
শিক্ষককে জানাও।
অসহায়কে সাহায্য করো। - বেগম রোকেয়া সমাজের নানা রকম অন্ধতা, গোঁড়ামি, ও কুসংস্কারকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে
গেছেন।
কাব্যভাষায় কর্মকারকে ‘রে’ বিভক্তি হয়। যেমন-
- আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।
করণ কারক
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’
‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয় (এক কোথায় যন্ত্র, সহায়ক, উপায় থাকলেই করণ কারক হবে)। যেমন –
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
অপাদান কারক
যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে। (অপাদান কারক চেনার সহজ উপায় হলো “কোনো কিছু যোগ বা বিয়োগ” হওয়া)। যেমন
- জমি থেকে ফসল পাই।
কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।
অধিকরণ কারক
যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘-এ’, ‘-য়’, ‘-য়ে’, ‘-তে’ ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন-
- বাবা বাড়িতে আছেন।
বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
সম্বন্ধ কারক
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে। এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ। এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘-র’, -এর’, ‘-য়ের’, ‘-কার’, ‘-কের’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন-
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
আমার জামার বোতামগুলো একটু অন্য রকম।
তখনকার দিনে পায়ে হেঁটে চলতে হতো মাইলের পর মাইল।
