
আজকে আমরা আপনাদের সাথে আপনাদের পছন্দের ওয়েবসাইট তৈরির ধাপসমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
আপনি হয়ত আগে থেকেই ভাবছেন যে সাইটটি দেখতে কেমন হবে, কোন ধরনের ফিচার থাকবে ও কন্টেন্ট পরিবেশন করা হবে।
ডেভেলপমেন্টের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার আগেই প্রধান ধাপগুলি কী কী, কীভাবে শুরু করা যেতে পারে এবং আপনার আইডিয়া বাস্তবায়িত করতে কত খরচ হতে পারে তা দেখে নেওয়া যাক।
ওয়েবসাইট তৈরির ধাপসমূহ শুরু থেকে শেষ
১। আপনার লক্ষ্য ঠিক করুন
আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করার মূল উদ্দেশ্য কী? শুধু ব্লগ লেখার জন্য হলে, সেই অনুযায়ী সাইটের লেআউট ও নেভিগেশন ডিজাইন করতে হবে। অথবা আপনি প্রোডাক্ট বা পরিষেবা বিক্রি করার কথা ভাবলে নিরাপদ, সহজে নেভিগেট ও নতুন ইনভেনটরি দিয়ে আপডেট করা যায় এমন সাইট তৈরি করতে হবে।
২। ভেবেচিন্তে বাজেট ঠিক করুন
ওয়েবসাইট তৈরি করতে আপনার প্রায় কিছু খরচ নাও হতে পারে বা কয়েক লক্ষ টাকাও খরচ হতে পারে। কত খরচ হবে সেটি আপনি কী ধরনের সাইট ও সেটি নিয়ে কী করতে চান সেগুলির উপর নির্ভর করে।
আপনি সাধারণ ব্লগিংয়ের জন্য সাইট তৈরি করতে চাইলে অসংখ্য ফ্রি টুলের মধ্যে থেকে বেছে নিতে পারবেন। অধিকাংশ টুল খুব সহজ এবং কোডিং বা ডিজাইনের ব্যাপারে কোনও অভিজ্ঞতা ছাড়াই ব্যবহার করা যায়। আপনি খুব দ্রুত ব্লগিং শুরু করে দিতে পারবেন এবং সাইট ডেভেলপ করার জন্য আপনাকে ডিজাইনার বা ডেভেলপার নিয়োগ করে অর্থ খরচ করতে হবে না।
৩। সঠিক ওয়েবসাইট প্ল্যাটফর্ম বেছে নিন
ওয়েবসাইট তৈরির ধাপসমূহ এর মধ্যে এই ধাপটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পুরো ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য যতটা সময় দেওয়া ও দক্ষতা থাকা প্রয়োজন তা অধিকাংশ লোকজনের থাকে না। সেই জন্য ওয়েবসাইট বিল্ডারের দরকার।
ওয়েবসাইট বিল্ডার ব্যবহার করার সবচেয়ে কঠিন অংশ হল কোনটি ব্যবহার করা হবে সেটি ঠিক করা। অসংখ্য ওয়েবসাইট বিল্ডার আছে এবং এক ঝলকে এগুলি দেখতে অনেকটাই একই রকম। যেমন কিছু জনপ্রিয় প্লাটফর্ম হলোঃ
১। ওয়ার্ডপ্রেস
২। লারাভেল
৩। পিএইচপি
৪। জুমলা
আপনি সাইটটি কী কাজে ব্যবহার করবেন সেটির উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। Google Blogger-ব্যবহার করে বিনা মূল্যে সহজেই ব্লগিং শুরু করতে পারবেন। এখানে বিভিন্ন টেমপ্লেট ও ডিজাইন স্টাইলের মধ্যে থেকে বেছে নেওয়ার সুযোগ আছে। এছাড়াও Google Sites আছে। এটি ব্যবহার করে ছোট ব্যবসা, ইভেন্ট বা কাজের পোর্টফোলিওর প্রচার করা যায়।
৪। আপনার ডোমেন নেম সেট-আপ করুন
অনেকে নিজের ডোমেন নেম কেনার জন্য খরচা না করেই ফ্রিতে সাধারণ ব্লগ তৈরি করে। আপনি ব্যবসায়িক কারণে ওয়েবসাইট বা ব্লগ তৈরি করলে, আপনার লক্ষ্য অনুযায়ী আপনাকে ডোমেইন নেম কিনতে হবে।
এছাড়াও, কোন টপ-লেভেল ডোমেন (TLD) আপনি ব্যবহার করবেন সেটি আপনাকে ভাবতে হবে। যেমন, আপনার ওয়েবসাইট কোনও নির্দিষ্ট দেশের দর্শকের জন্য তৈরি হলে আপনি .uk, .fr, .de ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন। অথবা আপনার ভিজিটর বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকলে আপনি .com ব্যবহার করতে পারেন। ওয়েবসাইট তৈরির ধাপসমূহ এর এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যদি ভালো ফলাফল পেতে চান তাহলে আমরা আপনাকে ডট কম কেনার কথা বলব।
ডোমেইন কেনার আগে যা জানা প্রয়োজন:
- এটি ফ্রিতে কেনা যায়না টাকা দিয়ে কিনতে হয়। কিছু প্রতিষ্ঠান ছাড়ে বিক্রি করলেও পড়ে সেটি বৃদ্ধি পায়।
- ব্যবসার প্রয়জনে যদি ডোমেইন নেম কিনেন তাহলে আপনার ডোমেন নেম আগে থেকেই ট্রেডমার্ক করা আছে কিনা দেখুন। আপনার সাইটের ডোমেন নেম অন্য কোনও ব্র্যান্ডের কপিরাইট লঙ্ঘন করলে, পরবর্তীতে সমস্যা হবে।
ডোমেন নেম বেছে নেওয়ার জন্য ডোমেইন কোম্পানি গুলোর ওয়েবসাইট থেকে সার্চ করে দেখুন সেটি কেনার জন্য অবশিষ্ট আছে কি না।
৫। কন্টেন্ট তৈরি করা
ওয়েবসাইট তৈরির ধাপসমূহ এর শেষ ধাপ কন্টেন্ট তৈরি। আপনি প্ল্যাটফর্ম বেছে নিয়েছেন ও ওয়েবসাইট ডিজাইন করেছেন, এবার সবচেয়ে আকর্ষণীয় কাজ শুরু হবে: ভিজিটর পছন্দ করবেন এমন কন্টেন্ট তৈরি করুন। এখানেও কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললেই আপনি সময় ও খরচ বাঁচাতে পারবেন এবং সাইটের ভিজিটরও আরও দেখতে বারবার ফিরে আসবেন।
এই সেরা পরামর্শগুলি প্রয়োগ করে দেখুন।
- লোকজন কী সার্চ করছেন এবং নির্দিষ্ট শব্দ বা শব্দগুচ্ছের জনপ্রিয়তা সময়ের সাথে কীভাবে পরিবর্তন হচ্ছে সেগুলি Google Trends থেকে জানতে পারবেন। এছাড়াও, বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজনের মধ্যে আপনার কন্টেন্টের ব্যাপারে আগ্রহ সম্পর্কে জানতে এবং বিশ্বের কোথায় আপনার সম্ভাব্য দর্শক রয়েছেন তা শনাক্ত করতে পারবেন। মনে রাখবেন, বর্তমান ও আসন্ন ট্রেন্ড সম্পর্কে জানতে আপনি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম বা অন্যান্য অনলাইন কমিউনিটি গ্রুপে যেকোনও সময় ভোটের ব্যবস্থা করতে পারেন।
- কন্টেন্ট জেনারেট করার আগেই আপনি কত ঘনঘন প্রকাশ করতে চান সেটি ঠিক করুন এবং সেই শিডিউল মেনে চলুন। মনে রাখবেন, অতিরিক্ত কন্টেন্টের চেয়ে ভাল কন্টেন্ট প্রকাশ করা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ।
- এছাড়াও, সকলে যে একই ধরনের কন্টেন্ট পছন্দ করেন না তা ভুলে যাবেন না। কোনও ব্যবহারকারী হয়ত শুধু টেক্সট পছন্দ করেন, অন্য কেউ ভিডিও বা ইনফোগ্রাফিক থেকে দ্রুত তথ্য সংগ্রহের সুবিধা উপভোগ করেন। কোন ধরনের কন্টেন্ট দর্শকরা বেশি পছন্দ করছেন সেটি আপনি সময়ের সাথে বুঝে যাবেন।
- কন্টেন্ট প্রকাশ করা শুরু করলে দর্শকরা কোথা থেকে আসছেন, তারা কীভাবে আপনার সাইট খুঁজে পাচ্ছেন এবং কোন পৃষ্ঠাগুলি তাদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করছে এগুলি জানতে চাইবেন। এগুলি জানার একটি উপায় হল Google Analytics ব্যবহার করা। সেটি আপনি ব্লগে সরাসরি লিঙ্ক করে রিয়েল-টাইম ফলাফল দেখতে পারবেন।
