
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা দৈনিক জীবনে বিভিন্নভাবে এনআইডি কার্ড ব্যবহার করে থাকি। এটি শুধু একটি পরিচয়পত্র নয়, বরং আমাদের নাগরিকত্বের প্রমাণ।
আমাদের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। ভোটা দিতে গেলে এর প্রয়োজন হয়। একজন নাগরিক হিসেবে দেশের যে কোনো সেবার সুবিধা পেতে হলে এনআইডি কার্ড অপরিহার্য। ব্যাংক হিসাব খোলা, জমি-জমার লেনদেন, পাসপোর্ট তৈরি, গাড়ির ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ অসংখ্য কাজেই জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ড ব্যবহৃত হয়।
কিন্তু অনেক সময় অসতর্কতার কারণে এনআইডি কার্ড হারিয়ে যেতে পারে, অথবা এতে ভুল তথ্য থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে এটি সংশোধন করা সম্ভব। বর্তমানে অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন, নতুন ভোটার হতে আবেদন ও এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করা যাচ্ছে খুব সহজেই।
অনলাইন থেকে এনআইডি কার্ড ডাউনলোড
Nid card download করার জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের একটি অনলাইন পোর্টাল চালু রয়েছে। services.nidw.gov.bd এই পোর্টালটি থেকে আপনি সহজেই আপনার এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন।
বিস্তারিত পদ্ধতি ধাপে ধাপে দেখানো হলো –
ধাপ ১: Nidw ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন
এনআইডি ডাউনলোড এর জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে হবে। নতুন পুরাতন সব ভোটার নিবন্ধনের সকল তথ্যগুলো এই NIDW ওয়েব সাইটে সংরক্ষণ করা হয়। ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/ এই লিংকে ক্লিক করুন।
ধাপ ২: ফরম নাম্বার/এনআইডি নাম্বার প্রদান করুন
প্রথমে services.nidw.gov.bd এ যান এবং NID নম্বর বা ভোটার স্লিপ নম্বর এবং জন্ম তারিখ দিয়ে ফর্মটি পূরণ করুন। মনে রাখতে হবে আপনার যদি এনআইডি নাম্বার হয় তাহলে 10 সংখ্যার এন আই ডি নাম্বারটি দিতে হবে এবং যদি ভোটার স্লিপ হয়ে থাকে তাহলে ভোটার স্লিপের পূর্বে NIDFN যুক্ত করে নিতে হবে. উদাহরণ: NIDFN123456789

ধাপ ৩: ঠিকানা নির্বাচন করুন
আপনার বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানা নির্বাচন করুন। এখানে নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে, অর্থাৎ ভোটার নিবন্ধন করার সময় আপনি যেই ঠিকানা ব্যবহার করেছেন আপনাকে সেই ঠিকানা দিয়েই নিবন্ধন করতে হবে. অন্যথায় তিনবার ভুল ঠিকানা প্রদান করলে আপনার অ্যাকাউন্টটি ব্লক হয়ে যাবে, পরবর্তীতে আপনাকে উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে অ্যাকাউন্টটি আনব্লক করতে হবে।

ধাপ ৪: মোবাইল ভেরিফিকেশন করুন
একটি সচল মোবাইল নম্বর দিয়ে OTP (One Time Password) ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন। পেইজে আপনার পূর্বে ব্যবহৃত নাম্বারটি দেখানো হবে আপনি চাইলে সে নাম্বারটি ব্যবহার করে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে পারেন। অথবা চাইলে নতুন একটি নাম্বার দিয়েও ভেরিফিকেশন করতে পারেন।

ধাপ ৫: ফেইস ভেরিফিকেশন করুন
আপনি NID Wallet অ্যাপ ব্যবহার করে আপনার ফেইস ভেরিফিকেশন (Face Verification) সম্পন্ন করতে পারবেন। এজন্য গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপ্লিকেশন টা প্রথমে ইন্সটল করতে হবে এবং স্ক্রিনে দেখানো কিউআর কোডটি স্ক্যান করে নিতে হবে অ্যাপসের মাধ্যমে। এরপর আপনার চেহারার ডান বাম ঘুরে সোজাসুজি এবং চোখের পলক ফেলে ফেস ভেরিফিকেশনটি সম্পন্ন করতে হবে। মোবাইলে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয়ে গেলে অটোমেটিক আপনাকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাওয়া হবে

ধাপ ৬: পাসওয়ার্ড সেট করুন
আপনি আপনার অ্যাকাউন্ট সুরক্ষা করার জন্য একটি শক্ত পাসওয়ার্ড সেট করতে পারেন, যাতে পরবর্তী যেকোনো সময়ে পাসওয়ার্ড দিয়ে আপনার একাউন্টে লগইন করতে পারেন এবং এনআইডি সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম সম্পাদনা করতে পারেন। পাসওয়ার্ডটি সবসময় নোট খাতায় লিখে রাখুন।

ধাপ ৭: লগইন করুন এবং ডাউনলোড করুন
পাসওয়ার্ড সেট করা হয়ে গেলে অটোমেটিক আপনার প্রোফাইলে নিয়ে যাওয়া হবে, এরপর প্রোফাইলে অনেকগুলো অপশন এর মধ্যে ডাউনলোড নামক একটি অপশন দেখতে পাবেন সবার নিচে, এখানে ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করলে আপনার ভোটার আইডি কার্ডের পিডিএফ কপি ডাউনলোড হয়ে যাবে।

সংশোধিত ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড
যদি আপনার এনআইডি কার্ডে কোনো ভুল থাকে, তাহলে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে রিইস্যুর আবেদন করে নির্দিষ্ট ফি প্রদান করতে হবে, এরপরে এনআইডি কার্ড সংশোধিত হলে ডাউনলোড করতে পারেন। রিইস্যুর জন্য অনলাইনে আবেদন করার পরে, আপনার নির্দিষ্ট সময়ে সংশোধিত এনআইডি কার্ড প্রস্তুত হয়ে গেলে একই পদ্ধতিতে প্রোফাইলে ভিজিট করে ডাউনলোড করতে পারবেন।
হারানো ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড
আমরা ইতিমধ্যে একটি ব্লগ প্রবেশ করেছি যেখানে স্মার্ট কার্ড হারিয়ে গেলে কি করনীয় এবং কিভাবে নতুন করে স্মার্ট কার্ড পাবেন সেই বিষয়ে আলোচনা করেছি। যদি স্মার্ট কার্ড হারিয়ে যায় তাহলে প্রোফাইল থেকে রি ইস্যু আবেদন করার মাধ্যমে নতুন করে স্মার্ট কার্ড পেতে পারেন। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি প্রযোজ্য হবে
