
আগামিকাল পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলিমদের জন্য সবচেয়ে আনন্দের দিন। মহান আল্লাহ্ তায়ালা ঈদের নামাজকে ওয়াজিব করেছেন। ঈদের নামাজের নিয়ম স্বাভাবিক ভাবেই আমরা অনেকেই জানি না। এর অবশ্য অনেক কারণ আছে, প্রথম ও প্রধান কারণ প্রতিবছর আমরা দুইটি ঈদ পালন করে থাকি। সেটিও অনেকদিন পর পর।
যার কারণে আমরা যদি ঈদের নামাজের নিয়ম শিখেও নেই পড়ে আবার ভুলে যাই। যারা এই নিয়ম ভুলে গেছেন সিখতে চান তাদের জন্য আজকের পোস্ট। ঈদ যেমন একটি আনন্দের দিন তেমনি এর নামাজ পরাও জরুরি। নামাজের নিয়ম না জানলে আপনার নামাজ হবে না, তাই চলুন নামাজের নিয়ম জেনে নেই।
ঈদের নামাজের নিয়ম
ঈদের নামাজের গুরুত্বের ব্যাপারে ইসলামী চিন্তাবিদগণ বিভিন্ন মতামত প্রকাশ করেছেন। হানাফী মাযহাব অনুসারে ঈদের নামাজ ওয়াজিব, মালিকি ও শাফেয়ী মাযহাব অনুসারে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ এবং হাম্ববলী মাযহাব অনুসারে ঈদের নামাজ ফরজ। কোনো কোনো ইসলামী পণ্ডিতের মতে ঈদের নামাজ ফরজে আইন এবং কোনো কোনো ইসলামী পণ্ডিতের মতে ঈদের নামাজ ফরজে কেফায়া। কিন্তু কারো কারো মতে ঈদের দুই রাকায়াত নামাজ নফল।
ঈদের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করতে হয়। ঈদের নামাজ সাধারণত খোলা মাঠে তথা ঈদগাহে পড়া হয়। তবে এরূপ স্থানের অভাবে মাসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করা যায়।ঈদের নামাজে সাধারণত অতিরিক্ত ছয় তাকবিরের সাথে পড়া হয়। ছয় তাকবিরের ক্ষেত্রে প্রথম রাক্বাতের শুরুতে অতিরিক্ত তিন তাক্ববির এবং দ্বিতীয় রাক্বাতে অতিরিক্ত তিন তাক্ববির দিতে হয়।
প্রথম রাক্বাতে সানা পাঠের পর কানের লতি পর্যন্ত হাত তুলে পর পর তিন তাক্ববির বলতে হয়। দ্বিতীয় রাক্বাতে সুরা পাঠের পর রুকুতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত তিন তাক্ববির বলতে হয়। অতিরিক্ত তাক্ববির বলার পর কানের লতি থেকে হাত নামিয়ে আনতে হয়।
ঈদের নামাজের বিস্তারিত নিয়ম
নিয়ত করা
অন্যান্য সালাতের ন্যায় এই সালাতের জন্যও নিয়ত করা ফরজ। ঈদুল ফিতরের ২ রাকাত ওয়াজিব সালাত আদায় করার জন্য নিয়ত করছি – মনে মনে এই সংকল্প বা থাকাই যথেষ্ট। আরবি বা বাংলায় নির্দিষ্ট শব্দ ও বাক্যে মুখে উচ্চারণ করে “নিয়ত পড়া” জরুরি নয়।
ঈদের নামাজের বাংলা নিয়ত: ইমামের পেছনে কেবলামুখী হয়ে ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ ছয় তাকবিরের সঙ্গে আদায় করছি|
তাকবীরে তাহরিমা বলে সালাত শুরু করা
ইমাম সাহেব তাকবীরে তাহরিমা “আল্লাহু আকবার” বলে সালাত শুরু করবেন। এরপর অন্যান্য সালাতের ন্যায় ইমাম সাহেব ও আমরা মনে মনে “সানা” পড়ব।
১ম রাকাত: অতিরিক্ত ৩টি তাকবীর
“সানা” পড়া শেষ হলে ইমাম সাহেব ৩ বার “আল্লাহু আকবার” বলে তাকবীর দিবেন। প্রথম তাকবীরের সময় কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে হাত ছেড়ে দিব। দ্বিতীয় তাকবীরের সময় কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে হাত ছেড়ে দিব। তৃতীয় তাকবীরের সময় কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে হাত বাঁধবো।
প্রথম ২ তাকবীরের মত হাত ছেড়ে দিব না এরপর ইমাম সাহেব সূরা ফাতিহা পড়বেন। অন্য কোনো সূরা মিলাবেন।
২য় রাকাত: অতিরিক্ত ৩টি তাকবীর
২য় রাকাতের শুরুতে ইমাম সাহেব সূরা ফাতিহা পড়বেন। এরপর অন্য কোনো সূরা বা সূরার অংশ তিলাওয়াত করবেন। রুকুতে যাওয়ার আগে ইমাম সাহেব ৩টি অতিরিক্ত তাকবীর দিবেন। প্রথম তাকবীরের সময় কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে হাত ছেড়ে দিব। দ্বিতীয় তাকবীরের সময় কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে হাত ছেড়ে দিব। তৃতীয় তাকবীরের সময়েও কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে হাত ছেড়ে দিব।
১ম রাকাতের ৩য় তাকবীরের মতো হাত বাঁধব না। বরং হাত ছেড়ে দিব। এরপর ইমাম সাহেব চতুর্থ তাকবীর বলবেন। এটি হচ্ছে রুকুতে যাওয়ার জন্য তাকবীর। চতুর্থ তাকবীর শুনে আমরা রুকুতে চলে যাব। এরপর বাকি সকল নিয়মকানুন অন্যান্য সালাতের মতই। আমরা ইমামকে অনুসরণ করে ২ রাকাত সালাত শেষ করব।
সর্বশেষ, আশাকরছি ঈদের নামাজের নিয়ম সম্পর্কে জেনে গেছেন। এই পোস্টটি যদি আপনার কোনো কাজে আসে তাহলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন। আপনার জন্য হয়তো অনেকেই উপকৃত হবে।
