
ইসলাম এক মাত্র শান্তির ধর্ম। মহান আল্লাহর কাছে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম গ্রহন যোগ্য নয়। এছাড়াও ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা, সঠিক পথে চলতে গেলে ইসলামের কোনো বিকল্প নেই। ইসলাম কী তা নির্ভর করে আপনি কতটুকু ইসলামকে মানেন ও জানেন।
ধর্ম নিয়ে যারা বাড়াবাড়ি করে তারা অবশ্যই ইসলামের দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে আসেনি। মহান আল্লাহর ইচ্ছায় পৃথিবীতে যুগে যুগে নবী ও রাসুল এসেছেন। সবার একেকটি নির্দিষ্ট কাজ ছিলো তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য তারে কৌমের মধ্যে ইসলাম ধরমকে প্রচার করা।
ইসলাম কী?
আসুন দেখি ইসলামের ব্যাপারে ইসলাম নিজে কি বলে-
“হে মুহাম্মাদ (সাঃ) বল, আমার রব নিঃসন্দেহে আমাকে সঠিক নির্ভূল পথ দেখাইয়া দিয়াছেন। সম্পূর্ণ ও সর্বতভাবে নির্ভূল দ্বীন, তাহাতে বক্রতার কোন স্থান নাই। ইহা ইব্রাহীমের অবলম্বিত পথ ও পন্থা, যাহা সে ঐকান্তিক নিষ্ঠা ও একমূখীতার সহিৎ গ্রহণ করেছিল এবং সে মুসলিমদের মধ্যে ছিল। বল, আমার নামায, আমার সর্বপ্রকার ইবাদত অনুষ্ঠান সমুহ, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু সবকিছুই সারা জাহানের রব আল্লাহর’ই জন্য।” সূরা আল-আনআম ১৬১-১৬২।
إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللّهِ الإِسْلاَمُ وَمَا اخْتَلَفَ الَّذِينَ أُوْتُواْ الْكِتَابَ إِلاَّ مِن بَعْدِ مَا جَاءهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ وَمَن يَكْفُرْ بِآيَاتِ اللّهِ فَإِنَّ اللّهِ سَرِيعُ الْحِسَابِ
নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম। এবং যাদের প্রতি কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের নিকট প্রকৃত জ্ঞান আসার পরও ওরা মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছে, শুধুমাত্র পরস্পর বিদ্বেষবশতঃ, যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের প্রতি কুফরী করে তাদের জানা উচিত যে, নিশ্চিতরূপে আল্লাহ হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত দ্রুত। [ সুরা ইমরান ৩:১৯ ]
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা ব্যাখ্যা
ইসলাম একমাত্র পরিপূর্ণ জীবন-বিধান, একথা কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে। আর কুরআন শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ এবং নির্ভুল এটা কুরআনের প্রথমেই আল্লাহ উল্লেখ করেছেন।
পৃথিবীতে কোরআন একমাত্র গ্রন্থ; যার ব্যাপারে আল্লাহ চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন মানুষের প্রতি।
কোরআন ছাড়া অদ্বিতীয় কোনো গ্রন্থের ব্যাপারে নির্ভুল বলে চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়নি। আল্লাহ বলেন,
‘এটা সেই গ্রন্থ যাতে কোনো সন্দেহ নেই। মুত্তাকিনদের জন্য এটা পথ নির্দেশ। ’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ০২)
কোরআন একটি গতিশীল ও কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী মুজেজা বা অলৌকিকতা। অন্যান্য সব নবী-রাসুলগণের মুজেজা এবং তাদের ওপর নাযিলকৃত কিতাব বা গ্রন্থ তাদের জীবন পর্যন্ত কার্যকর ও বিদ্যমান ছিল। কিংবা অন্য নবী আগমনের পূর্ব পর্যন্ত ছিল। কিন্তু মহানবী (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ মুজেজা কোরআনুল কারিম তার মৃত্যুর পরও পূর্বের ন্যায় আপন বৈশিষ্ট্যে বিদ্যমান রয়েছে।
কোরআনের বর্ণ, শব্দ, ভাষা, রচনা শৈলী, উপমাতে আজ অবধি কোনো পরিবর্তন-পরিবর্ধন হয়নি। কিয়ামত পর্যন্ত এটি টিকে থাকবে এবং মানুষকে কল্যাণের পথ দেখাবে। রাসুল (সা.) বলেন ‘আমি তোমাদের মধ্যে এমন দুটি বিষয় রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে থাকলে তোমরা কোনোদিন পথহারা হবে না। আর তাহলো আল্লাহর কোরআন এবং তার নবীর সুন্নত। (মুয়াত্তায়ে মালেক, হাদিস : ১৫৯৪)
কোরআন ও কোরআনের নির্দেশনাবলি সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য অবতীর্ণ হয়েছে। পৃথিবীতে এ যাবৎ যেসব বই এসেছে বা আসবে, এর প্রত্যেকটির সীমা নির্ধারিত। এছাড়াও আল্লাহর নবীদের ওপর যে গ্রন্থ অবতীর্ণ হয়েছিল, সেগুলোও ছিল জাতি ও গোত্র বিশেষের জন্য সীমিত। একমাত্র মোহাম্মদ (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ গ্রন্থ পুরো বিশ্ববাসীর জন্য অবতীর্ণ হয়েছে। পৃথিবীর সব মানুষের জন্য পথনির্দেশক হিসেবে বিশেষায়িত হয়েছে।
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। মহান আল্লাহর পবিত্র বাণী মহাগ্রন্থ আল-কুরআন ও রাসুল (সাঃ) এর হাদিসের(কথা, কাজ ও সমর্থন) মাধ্যমে ইসলামের বিধি-বিধানগুলো মসুলমানদের উপর কার্যকর হয়েছে। সকল মসুলমানকে অবশ্যই আল-কুরআন ও হাদিসের বিধি-নিষেধগুলোকে নিজে মান্য করা ও সামাজিক জীবনে তাহার প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা-সাধনা করা বাধ্যতামূলক। “যদি কেউ ইসলাম ব্যাতিত অন্য কোন জীবন-বিধান অনুসন্ধান করে তবে তার কাছ থেকে সে ব্যবস্থা কখনও গ্রহন করা হবে না, পরকালে সে চরম ব্যার্থ হবে।” – সূরা আল-ইমরানঃ ৮৫।
