
আইনের শাসন বলতে কি বুঝায় জানার আগে আইন কি সেটি জানা প্রয়োজন। মানুষকে সুষ্ঠু, স্বাধীন এবং সুশৃংখলভাবে পরিচালনার জন্য যে নিয়ম-কানুন তৈরি করা হয় তাকে আইন বলে”। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় আইন হলো সার্বভৌম শক্তি কর্তৃক বলবৎযোগ্য বিধান, যা সকলের জন্য অবশ্য পালনীয়।
আইনবিদ জন অস্টিনের মতে, “সার্বভৌম শক্তির আদেশই হলো আইন।” ৩৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল বলেন, “আইন হলো পক্ষপাতহীন যুক্তি।” অ্যারিস্টটল আইন প্রসঙ্গে আরও লিখেছিলেন, “আইনের শাসন যেকোন ব্যক্তি শাসনের চেয়ে ভালো।”
আইনের শাসন বলতে কি বুঝায়?
আইনের শাসন, শাসনের একটি মৌলিক নীতি। যা মনে করে যে, সরকার সহ সকল ব্যক্তি আইনের অধীন এবং ন্যায়বিচার নিরপেক্ষভাবে, ন্যায্যভাবে এবং পক্ষপাত ছাড়াই পরিচালিত হওয়া উচিত।
বাংলাদেশে, আইনের শাসন দেশের সংবিধানে নিহিত রয়েছে, যা একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ, ক্ষমতা পৃথকীকরণ এবং মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতার সুরক্ষা প্রদান করে। বাংলাদেশের সংবিধান সকল নাগরিকের জন্য আইনের সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করে এবং ধর্ম, বর্ণ, বর্ণ, লিঙ্গ বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ করে।
বিচার বিভাগ সরকারের একটি স্বাধীন শাখা। আইনের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ করার ক্ষমতা বিচার বিভাগের এখতিয়ারে পড়ে। বাংলাদেশের আদালতের এখতিয়ার রয়েছে যে তারা আইন মেনে চলছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের নির্বাহী ও আইন প্রশাখার কার্যক্রম পর্যালোচনা করার।
যুক্তরাজ্যে ১৬শ শতক থেকে আইনের শাসন ধারণাটির ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। ১৭শ শতকে স্কটীয় ধর্মতাত্বিক স্যামুয়েল রাদারফোর্ড রাজাদের দৈব অধিকারের বিরুদ্ধে যুক্তিপ্রদান করতে গিয়ে এই পরিভাষাটি ব্যবহার করেন। জন লক লেখেন যে সমাজে মুক্তি বলতে বোঝায় যে কেবলমাত্র আইনসভার রচিত আইনসমূহ সবার উপর প্রযোজ্য হবে এবং অন্য সকল ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি সরকারি ও বেসরকারি বিধিনিষেধ থেকে মুক্ত থাকবে। ১৯শ শতকে ব্রিটিশ আইনবেত্তা এ ভি ডাইসি ধারণাটিকে আরও জনপ্রিয় করতে সাহায্য করেন। তবে আইনের শাসনের মূলনীতিটি প্রাচীনকাল থেকেই স্বীকৃত ছিল। গ্রিক দার্শনিক আরিস্তোতলেস (অ্যারিস্টটল) লেখেন যে “একজন নাগরিকের চেয়ে আইন শাসন করলেই সঠিক হবে; এই মূলনীতি অনুযায়ী যদি কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তিবর্গের কাছে পরম ক্ষমতা দেওয়া সুবিধাজনক হয়, তাহলে তাদেরকে শুধুমাত্র আইনের অভিভাবক ও সেবক হিসেবেই নিযুক্ত করা উচিত।”
আইনের শাসন অনুযায়ী প্রত্যেক ব্যক্তি আইনের অধীন, যার মধ্যে আইনপ্রণেতা, আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা ও বিচারকেরাও অন্তর্ভুক্ত। এর বিপরীত ধারণাটি হল ব্যক্তির শাসন, যেখানে একজন ব্যক্তি বা একটি ব্যক্তিদল ইচ্ছামত শাসন করে।
