অতিরিক্ত ঘুম থেকে মুক্তির উপায় | ঘুম বেশি হওয়ার কারণ কি

আমরা যারা নিজেদের এবং আশেপাশের লোকজনের এই অতিরিক্ত ঘুমানো নিয়ে বিরক্ত, তারা প্রায় সবাই অতিরিক্ত ঘুম থেকে মুক্তির উপায় খুঁজে বের করতে থাকি। সারাদিন অত্যাধিক ঘুম ধরার বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এটা সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে বিষন্নতার জন্য। বিষন্নতা একজন মানুষকে তিলে তিলে শেষ করে ফেলে। সারাদিন ঘুম ধরা এটার একটা প্রধান লক্ষণ।

ঘুম বেশি হওয়ার কারণ কি

অতিরিক্ত ঘুম ডেকে আনতে পারে ডায়েবেটিস থেকে বন্ধ্যাত্বের মতো মারাত্মক কিছু রোগ। চলুন ঘুম বেশি হওয়ার কারণ জেনে নেওয়া যাক-

সেরোটোনিন হরমোনের সাহায্যে ঘুম নিয়ন্ত্রিত হয়। অতিরিক্ত ঘুম সেরোটোনিনের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, নিউরোট্রান্সমিটারকেও বাধা দেয়, সেজন্য অনেকেই সকালে দেরিতে ঘুম থেকে ওঠার পরে মাথাব্যথার অভিযোগ করেন। এছাড়া দীর্ঘ সময় ঘুমানোর পর হঠাৎ ক্ষুধা এবং তীব্র তৃষ্ণা বোধ হয়, যার কারণে মাথাব্যথা শুরু হয়।

অতিরিক্ত ঘুম ডিপ্রেশনের কারণ হতে পারে। স্লিপিং সাইকেল নষ্ট হয়ে গেলে উৎকণ্ঠা এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

বেশি ঘুমানোর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে হতে পারে ক্লান্তি। অত্যধিক ঘুমে দেহঘড়ির স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়। অতিরিক্ত বিশ্রামের কারণে পেশী এবং স্নায়ু শক্ত হয়ে যায়। ফলে শারীরিক চাপ নিতে সমস্যা হয়।

অতিরিক্ত ঘুম হরমোনের উপরও প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলো এর দ্বারা বেশি প্রভাবিত হয়। বেশি ক্লান্ত বোধ করার কারণে শরীরে খুব কম শক্তি থাকে, যার কারণে মানুষ সাধারণত জাঙ্ক ফুড বা উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার খাওয়া শুরু করে। এই সব কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। যার ফলে ডায়েবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বেশি ঘুমানোর খারাপ প্রভাব নারীদের ফার্টিলিটির উপরও পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন থেরাপিতে থাকা নারীরা যারা সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমান তাদের গর্ভধারণের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ৬ ঘণ্টা বা তার কম ঘুমান তারা তাদের সন্তান ধারণের সম্ভাবনা ৪৬ শতাংশ এবং যারা ৯ থেকে ১১ ঘণ্টা ঘুমান তাদের সন্তান ধারণের সম্ভাবনা থাকে ৪৩ শতাংশ।

আরও পড়ুন  সহজে মেয়েদের দ্রুত ওজন কমানোর উপায় জেনে নিন! 2026

অতিরিক্ত ঘুম থেকে মুক্তির উপায় 

১. আপনার কখন ঘুম থেকে উঠা জরুরি তার উপর ভিত্তি করে 1–2টি অ্যালার্ম ঠিক করে রাখুন।প্রতিদিন একই সময় ঘুম থেকে উঠার চেষ্টা করুন।

২. যদি অ্যালার্ম মোবাইল বা ঘড়ি তে যেইটাতে দেন না কেন তা হাতের থেকে দূরে রাখুন।এতে অ্যালার্ম বন্ধ করার জন্য হলেও আপনাকে বিছানা ছেড়ে উঠতে হবে।

৩. যখনই অ্যালার্ম বাজবে তখনই উঠে যাবেন। 5মিনিট বেশি ঘুমানোর জন্য আপনার 1ঘন্টা দেরি হয়ে যেতে পারে।

৪. রাতে 1–2ঘন্টা সময়ের ব্যবধানে একটি নিদিষ্ট সময়ে প্রতিদিন শুয়ে পড়বার চেষ্টা করবেন।

৫. সাধারণত সপ্তাহের বন্ধের দিনে আমরা একটু বেশি ঘুমায়।এই অভ্যাসটি না করায় ভাল।এটি আপনার নিয়মিত ঘুমের ধারায় ব্যাঘাত আনতে পারে।

৬. সকালে সুর্যদয় দেখার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

৭. ঘুমানোর পূর্বে হালকা গরম দুধ খাবার চেষ্টা করুন, গবেষণায় দেখা গেছে ঘুমানর পূর্বে হালকা গরম দুধ ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে।

৮. অনেক সময় শরীর দুর্বল হলেও ঘুম ঘুম ভাব চলে আসে তাই নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন।

৯. ঘুমানোর পূর্বে বেশি করে পানি পান করুন।

এগুলো অতিরিক্ত ঘুমানোর অভ্যাস থেকে নিজেকে রক্ষা করার কিছু উপায়। তবে বড় ব্যাপার হলো, এখানে নিজের ইচ্ছাশক্তি সবথেকে বেশি কাজ করে। আপনি যদি এই অভ্যাস ত্যাগে নিজে উদ্যেগী না হয়ে থাকেন,তবে কেউই আপনাকে সাহায্য করতে পারবে নাহ।

We will be happy to hear your thoughts

Leave a reply

Amar Sikkha
Logo